গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৩ বছরে আওয়ামী লীগ

newsgarden24.com    ০৪:২৩ পিএম, ২০২২-০৬-২২    145


গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৩ বছরে আওয়ামী লীগ

মোঃ খোরশেদ আলম: আওয়ামী মুসলিম লীগ একটি রাজনৈতিক দল যা বৃটিশ-ভারত বিভক্তিক্রমে পাকিস্তান জন্মের ২ বছর পর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। এসময় ঢাকা পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল। মুসলিম লীগের একটি অংশ নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামশুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী মুসলিম লীগ পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বাংলা বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এই রাজনৈতিক দলটি খুব দ্রুত পূর্ব পাকিস্তানে জনপ্রিয়তা অর্জনে সমর্থ হয়। ঘটনাক্রমে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে

সংগ্রামে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে একটি সক্রিয় সংগঠন হিসেবে নেতৃত্ব দিতে থাকে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর দ্বিতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্ম নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নামকরণ করেন যাতে অন্য ধর্মাবলম্বীরা যোগদান করতে পারেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি এহিত্যবাহী এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এই রাজনৈতিক দলটির গোড়াপত্তন হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে পরবর্তীকালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৭০ সাল থেকে এর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। ১৯৫৫ সালের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজনীতিক আদর্শের অধিকার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম ‘‘আওয়ামী লীগ’’ করা হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবদুল হাশেমের নেতৃত্বে তৎকালীন প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে ১৯৪৯ সালে ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলির কে এম দাশ লেইন রোডস্থ রোজ গার্ডেন প্যালেসে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয় যার সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের সামশুল হক। ১৯৫৩ সালের ৩ থেকে ৫ জুলাই ‘মুকুল’ সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর ‘রূপমহল’ সিনেমা হলে তৃতীয় সম্মেলনে পূনরায় সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৭ সালের চর্তুথ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন মাওলানা ভাসানী। ১৩ জুন আরমানীটোলা ‘‘নিউপিচকার’ হাউসে এবং পরদিন ‘‘গুলিস্তান’ সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ৮ শতাধিক জনপ্রতিনিধির ভোটে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে ৬ মার্চ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে পূনরায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ও শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ সালের ২৮ থেকে ২০ মার্চ ‘‘হোটেল ইডেনে’ ৬ষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবারের মত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দিন আহমেদ। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাগারে আটক তখন অনুষ্ঠিত হয় ৭ম জাতীয় সম্মেলন। ২২ থেকে ২৩ অক্টোবর ‘হোটেল ইডেন’ প্রাঙ্গনে পুনরায় শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে ৪ থেকে ৫ জুন ‘‘হোটেল ইডেন’’ ৮ম সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৭ থেকে ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগের প্রথম এবং ৯ম জাতীয় সম্মেলনে অনুষ্টিত হয় সার্কিট হাউস রোডে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সম্মেলনে সার্কিট হাউস রোডে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে একটি সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর সভার সদস্যরা দলের পদে থাকতে পারবেন না। ফলে বঙ্গবন্ধু দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরে যান। দলের সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। এরপরে ঘটে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ভয়াবহ ঘটনা। ১৯৭৭ সালের ৩ থেকে ৪ এপ্রিল হোটেল ইডেন প্রাঙ্গেন ১১তম সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। এতে দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন। পরের বছর ১৯৭৮ সালের ৩ থেকে ৫ মার্চ হোটেল ইডেন প্রাঙ্গনের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৮১ সালের ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৩তম জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮২ সালে আব্দুর রাজ্জাক দল ত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু কন্যা। ১৯৮৭ সালের ১ থেকে ৩ জানুয়ারী ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনে ১৪তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৯৯২ সালে ১৯ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতীয় সম্মেলনে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩ বছর মেয়াদী করা হয়। এতে শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে ৬ থেকে ৭ মে আউটার স্টেডিয়ামে ১৬তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে পল্টন ময়দানে দলের ১৭তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সভাপতি হন শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। ২০০৯ সালে ২৫ জুলাই ১৮তম সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ১৯তম সম্মেলনে পুনরায় শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুইদিনব্যাপী আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন সোহরওয়াদী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় এতে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল ইঞ্জিনিয়ার ইস্টিটিউশনে অনুষ্টিত হয়। এতে পুনরায় বর্তমান দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সোনালী অর্জন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের জন্ম সূত্রের সঙ্গে ঢাকার ১৫০ নম্বর মোগলটুলি পূর্ব বঙ্গ কর্মী শিবিরের উদ্যোগে সম্পর্ক অনস্বীকার্য। ২৩ জুনের সম্মেলনের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ রাখেন শওকত আলী। তাঁর উদ্যোগে ১৫০ নম্বর মোগলটুলিস্থ শওকত আলীর বাসভবনে এবং কর্ম শিবির অফিসকে ঘিরে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতিমূলক তৎপরতার পর কর্মী সম্মেলেন দলের ঘোষণা দেওয়া হয়। শওকত আলীর অনুরোধে কোলকাতা থেকে হোসেন শহীদ সোহরওয়ার্দী একটি মামলা পরিচালনার কাজে ঢাকায় এলে তিনি শওকত আলীকে মুসলিম লীগ ছেড়ে একটি রাজনীতিক সংগঠন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শওকত আলী এই পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পূর্ব বঙ্গ কর্মী শিবিরের নেতৃবৃন্দকে নতুন সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেন। এসময় কর্মী শিবিরের প্রথম নেতা ছিলেন সামশুল হক, কমরুদ্দীন আহমদ, মো: তোয়াহা, অলি আহাদ, শামসুজ্জোহা প্রমুখ। প্রথম দিকে এবং পরবর্তীতে শেখ মুজিব কর্মী শিবির কেন্দ্রীক রাজনীতিক তৎপরতায় বিশেষ ভাবে যুক্ত ছিলেন। মুসলিম লীগের আবুল হাশেম-সোহরওয়ার্দী গ্রুপ নেতৃবৃন্দ মুসলিমের অন্যায় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার লক্ষ্যে এখানে কর্মী শিবির গড়ে তুলেছিলেন। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৪৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলখানা থেকে ছাড়া পেয়ে ঢাকা এলে তাঁর সঙ্গে শওকত আলীর আলোচনা হয়। শওকত আলী মাওলানাকে পূর্ববঙ্গ কর্মী শিবিরের রাজনীতিক তৎপরতার কথা জানাই। এসময় মাওলানা ভাসানী আলী আমজাদ খানের বাসায় অবস্থান করছিলেন শওকত আলীর সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক আলোচনা সেখানে হয়। এই আলোচনার সূত্রে নতুন দল গঠনের জন্য একটি সাংগঠনিক কমিটি প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন শওকত আলী। সেজন্যে ১৫০ নম্বর মোগলটুলিতে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। মাওলানা ভাসানী এতে যোগদান করেন। এসময় খন্দকার আবদুল হামিদের সঙ্গে পরামর্শ করে শওকত আলীর উদ্যোগে ও প্রচেষ্ঠায় মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, ইয়ার মোহাম্মদ খানকে সাধারণ সম্পাদক এবং খন্দকার মোস্তাককে দপ্তর সম্পাদক করে অন্যদের সহ একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। উপযুক্ত সাংগঠনিক কমিটি ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন রোজ গার্ডেনে নতুন দল গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এক সম্মেলন আহ্বান করেন। রোজ গার্ডেনে ২৩ জুন বিকেল ৩টায় সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সামশুল হক, শওকত আলী, আনোয়ারা খাতুন, ফজলুল কাদের চৌধুরী, আবদুল জব্বার খদর, খন্দকার মোস্তাক আহমদ, আতাউর রহমান খান, মাওলানা আবদুল রশিদ তর্কবাগীশ, আলী আমজাদ খান, শামসুদ্দীন আহমদ (কুষ্টিয়া), ইয়ার মোহাম্মদ খান, মাওলানা শামশুল হক, মাওলানা ইয়াকুব শরিফ, আবদুল রশিদ প্রমুখ। প্রতিষ্ঠাকালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সহ-সভাপতি আতাউর রহমান খান, সাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক। শেখ মুজিব, খন্দকার মোস্তাক ও এ কে এম রফিকুল হোসেনকে (খায়ের মিয়া), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোষাধ্যক্ষ হন ইয়ার মোহাম্মদ খান, এসময় শেখ মুজিবুর রহামন কারাগারে অন্তরীন ছিলেন অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এসভার সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরওয়াদী। ২৪ জুন বিকেলে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ঢাকার আরমানীটোলার ময়দানে প্রকাশ্বে জনসভা করে। এতে আনুমানিক ৫ হাজার লোক উপস্থিত হন। ১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর ঢাকার ‘‘মুকুল’ প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর টানা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। উল্লেখ্য যে, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিলো তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল। প্রতিষ্ঠা পর থেকেই দলটি প্রাদের্শিক সায়ত্বশাসনের উপর বিশেষ গুরুত্ব সহ ৪২ দফা কর্মসূচী গ্রহণ করেন। শুরুর দিকে দলটির প্রধান দাবীগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি, এক ব্যক্তির একভোট, গণতন্ত্র সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় পদ্ধতির সায়ত্বশাসন এবং তৎকালীন পাকিস্তানের দু’অঞ্চলে বৈষম্য দূরীকরণ শেখ মুজিবুর রহামন ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচুত্য করার জন্য অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে আওয়ামী মুসলিম লীগমুখী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর দলটির কৃষক শ্রমিক পার্টির পাকিস্তান গণতন্ত্র দল ও নেজামী ইসলামের সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাতিষ্ঠানিক প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন পায়। এর মধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। ২৩ বছরের পাকিস্তানের শাসনামলে আওয়ামী মুসলিম লীগ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে দুই বছর প্রদেশের ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ সোহরওয়াদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার ছিল। পররাষ্ট্র বিষয়ে মতপার্থক্ষের কারণে ১৯৫৭ সালে দলে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ওই বছরের ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারী কাগমারি সম্মেলনে দলে বিভক্তির ঘটনা স্পষ্ট হয়ে উঠে এই অবস্থায় মাওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন রাজনীতিক দল গঠন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে জয় লাভ করে কিন্তু পাকিস্তানী শাসকদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ও শোষণের ফলস্বরূপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেন। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩০টি আসন লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেন। ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে হোসেন শহীদ সহরোয়ার্দী, মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চার জাতীয় নেতা তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এইচ.এম কামারুজ্জামানসহ ১৫ আগষ্ট জাতির পিতার সাথে নিহত সকল শহীদ এবং বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেসকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের স্মৃতির প্রতি এবং সম্প্রতি সীতাকু-ের বি.এম কন্টিনার ডিপোতে অগ্নিকান্ডে নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। একই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বদানকারী সংগঠন নীতি, আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমে বহ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে সংকট জয়ের ঐক্যবদ্ধ মুক্তির আহ্বান জানাই।  লেখক : শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ

 

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

‘তারুণ্য হোক উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকিমুক্ত’

‘তারুণ্য হোক উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকিমুক্ত’

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা আশঙ্ক... বিস্তারিত

ধূমপানমুক্ত করার দাবিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে র‌্যালি

ধূমপানমুক্ত করার দাবিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে র‌্যালি

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সকল পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাব... বিস্তারিত

৩ মাসে শেষ হল নালার দু’পাশের কাজ

৩ মাসে শেষ হল নালার দু’পাশের কাজ

newsgarden24.com

কাজী ইব্রাহিম সেলিম: নালার দু’পাশেই একসাথে দেয়াল দিয়ে কাজে হাত দেয়ার ৩ মাসের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন ... বিস্তারিত

ক্ষণজন্মা পুরুষ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ

ক্ষণজন্মা পুরুষ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ

newsgarden24.com

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম: ১৯২২ সালের ৬ জুলাই তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাঠনায় পিতা ... বিস্তারিত

ত্যাগের মহিমায় পবিত্র কুরবানী

ত্যাগের মহিমায় পবিত্র কুরবানী

newsgarden24.com

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম: আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মাহে জিলহজ্বের ১০ তারিখ উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা ব... বিস্তারিত

সহজলভ্য ও সস্তা হবে তামাকপণ্য, বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

সহজলভ্য ও সস্তা হবে তামাকপণ্য, বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্য... বিস্তারিত

সর্বশেষ

ফটিকছড়ির ইয়াবা সম্রাট বাবর সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তার

ফটিকছড়ির ইয়াবা সম্রাট বাবর সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তার

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩০ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ ফটিকছড়ির বাবর উদ্দিন (৩৩) ... বিস্তারিত

এমটিএস গার্মেন্টস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. নবী’র মৃত্যুতে বিজিএমইএ’র শোক

এমটিএস গার্মেন্টস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. নবী’র মৃত্যুতে বিজিএমইএ’র শোক

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিশিষ্ট শিল্পপতি, তৈরী পোশাক শিল্পের সূচনালগ্নের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বিজিএম... বিস্তারিত

সময়ের অপেক্ষা, হাসিনার লোকজনও আন্দোলনে চলে আসবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সময়ের অপেক্ষা, হাসিনার লোকজনও আন্দোলনে চলে আসবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্দোলনের জোয়ার শ... বিস্তারিত

শান্তির দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

শান্তির দেশে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছ... বিস্তারিত