শরতের চড়ুইভাতি চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রামের

newsgarden24.com    ০৭:১৫ পিএম, ২০২১-১০-০৪    317


শরতের চড়ুইভাতি চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রামের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মানুষ সীমাবদ্ধ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে আগ্রহী। মানুষ অসীম আগ্রহ অনন্ত উৎকণ্ঠা নিয়ে নৈসর্গিক দৃশ্যকে অবলোকন করার জন্য এদেশ থেকে অন্যদেশে ছুটে বেড়ায়। বনভোজন আনন্দের উৎস হলেও এটি শারীরিক, মানসিক ও শিক্ষণীয় ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। বহুদিন ধরে শহরে বসবাস করছি মোরা। শহরের গতানুগতিক একঘেঁয়ে জীবনে অস্বস্তি লাগছিল। তাই একটু আনন্দ, একটু অবসর বিনোদনের জন্য আমাদের সবার মন চঞ্চল হয়ে উঠছিল। এমনি এক সময়ে আমাদের চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব চট্টগ্রাম এর সদস্যদের অনেকেই প্রস্তাব করলেন বনভোজনে যাবার। এ সংবাদে আমরা সবাই আনন্দে আত্মহারা হলাম।
জীবন অনেকটা বয়ে চলে নদীর মতো। নদীতে যেমন জোয়ার আছে, ভাটা আছে, বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া আছে, জীবনেও তেমনি আছে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না। প্রাত্যহিক প্রয়োজনের ছক বাঁধা জীবন প্রায়শই একঘেয়ে লাগে। মাঝে মঝে হাঁপিয়ে উঠি। মন চাইছিল অন্য কিছু করি। একদিন অফ পিরিয়ডে তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম বনভোজনে যাব। সবার এক কথা, বনভোজনটা যেন তাড়াতাড়ি হয়।
কোথায় যাব- সেই সিদ্ধান্ত নেবার জন্যে গ্রুপে সকলে লেখালেখি করলো, শেষমেষ সর্বসম্মতিক্রমে স্পট ঠিক হলো আনোয়ারার কেইপিজেড। দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা হবে। খাবারের মেনু কী হবে সে প্রসঙ্গ উঠতেই অধিকাংশই হোটেলের বিরানী। হোসেন কয়েক বার বিরানীর অর্ডার করে ফেলেছে, কিন্তু আমি তাকে অর্ডার না দেয়ার জন্য বারণ করি। ইত্যবসরে আমার প্রতিনিধিকে ফোন দিলাম কি করা যায় সে বললো রাখেন, আমি আসতেছি। তার দেরী হওয়া দেখে আমাদের একজন গেস্ট শাহাবউদ্দিন বললো আমি চেষ্টা করে দেখি, তার চেষ্টাতেই হয়ে গেল রান্না করা খাবারের আয়োজন। কি যে মজা ভাষায় বোঝানো যাবে না। আমি নিজে রান্নার পক্ষে। তবে আমার অন্য মন বলছে, বনভোজনে এসে যদি তৈরি খাবারই না খেলাম তবে আর কেমন বনভোজন! চাঁদার হার ধরা হল ২৫০ টাকা। এক শুক্রবার সকালে বাসে চেপে আমরা রওনা দিলাম আনোয়ারার পথে।
পিকনিক মানে এক-দিন সকলে মিলে নির্ভেজাল আনন্দ। বাড়ি থেকে কিছু দূরে স্বপরিবারে, স্ববান্ধবে আনন্দ, ভালো-মন্দ খাওয়া-দাওয়া, হৈ-হুল্লোড়। পিকনিক মানে যেন আলাদা হওয়া সম্পর্ককে আবার জড়িয়ে ধরা। মনের মত স্পট দেখে বেরিয়ে পড়তে হবে বনভোজনের উদ্দেশ্যে, ছুটির দিনে।
শব্দের ইন্দ্রজাল জীবনের বিভিন্ন প্রান্তে যে ‘গুড ফিলিং’ তৈরি করে তাতে চড়ুইভাতি শব্দটি কিশোর বয়সের সঙ্গেই মানানসই, বনভোজন যেমন যুবক বয়সের। আর রিসোর্ট বিলাস নেহাতই পরিণত বয়সের অবসর বিনোদনের নাম। চিরাচরিত অভ্যাসকে দূরে সরিয়ে রেখে একটি দিন কিংবা একটি বেলা অথবা ট্যুর কোম্পানির প্যাকেজের ভিন্নতর যাপন রক্তে কিছু উত্তেজনা তৈরি করে। এ উত্তেজনা শরীর ও মনের পক্ষে স্বাস্থ্যকর। চড়ুইভাতির স্মৃতি আর বিবর্তনের প্যাকেজ ট্যুর যাই হোক না কেন, পৃথিবীর আনন্দযজ্ঞে তার আয়োজন থাকবে।
জীবনের রোমাঞ্চকর ক্ষণিক সময়টুকু দীর্ঘায়িত করতে নানা আয়োজনের প্রয়াস। টুকরো টুকরো স্মৃতির সঙ্গে একটুখানি ভিন্নমাত্রা যোগ করতে ‘চড়ুইভাতি। চড়–ইভাতি! শুনতেই যেন শিশুকালে ফিরে গেলাম! ‘চড়ুইভাতি’। এক দিনের মধ্যে যেহেতু বাইরে যাওয়ার আয়োজন সম্ভব নয় তাই সবাই মতও দিয়ে দিল। এক দিনের মধ্যেই চাঁদা তোলা শেষ। পরদিন সকালে আমাদের ‘চড়–ইভাতি’। সাদামাটা আয়োজন ঝলমলে হয়ে উঠল সারা দিনের খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডায়।
প্রতিটি মুহূর্তকে রাঙিয়ে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের গল্প মানুষ আর মননভেদে নানা রকম। একেক জনের গল্প একেক রকম হলেও সবার জীবন সামনে এগিয়ে চলছে। কেউ বা ধীরে আবার কেউ বা দ্রুত-সবাই সামনে এগোনোর প্রচেষ্টায় প্রহর গুনছে। জীবন সব সময়ই সচল। আপনি এখন যে কর্মস্থলে কাজ করছেন ভাবছেন আপনি ছাড়া সব অচল। আসলে কিন্তু না। আপনি যদি আজ কাজ ছেড়ে দেন তাহলে কর্মস্থলে সাময়িক সমস্যা তৈরি হবে, কিন্তু খুব দ্রুত আপনার উপস্থিতি সবাই ভুলে যাবে। তেমনি আজ আপনি হয়তো বন্ধুমহলে বেশ জনপ্রিয়। আপনাকে ছাড়া কোনো আড্ডাই জমে না। জেনে রাখুন, আপনি না থাকলেও আড্ডার রং কোনো অংশেই মলিন হবে না।
কোনো কিছুই জীবনে চিরস্থায়ী নয়। আবেগ, অনুযোগ কিংবা অভিযোগ-কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। সামাজিক সম্পর্কগুলো সব সময়ই এক রকমের গাঢ় হবে না। আজ আপনার কাছে যাকে ভালো লাগছে, কালকে তাকে আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে। আজ যিনি প্রশংসা করছেন, কাল তিনি আপনার কঠোর সমালোচক হতেই পারেন।
নিজেকে কখনোই অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবেন না। নিজেকে নিজের সঙ্গে তুলনা করতে শিখুন। বন্ধুর ভালো চাকরির খবর শুনে নিজেকে হেয় করবেন না, বন্ধু উৎসাহ দিয়ে নিজের পথ গোছানোর চেষ্টা করুন।
আর্থিক স্বাধীনতা আপনার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেয়। ধার করার অভ্যাস কিংবা ঋণে নিজেকে জড়াবেন না। চেষ্টা করুন নিজের হাতে আয় করতে। যতটা আয় করবেন, তা বুঝে ব্যয় করতে শিখুন। প্রয়োজনের বাইরের ব্যবহারের জিনিসপত্র কেনা থেকে বিরত থাকুন। অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করুন। দামি মুঠোফোনে যতটা আনন্দ মেলে হয়তো মঞ্চনাটক দেখার অভিজ্ঞতা আরও আনন্দ দেবে। বস্তুগত আনন্দের চেয়ে অভিজ্ঞতা, স্মৃতি জমানোর দিকে মনোযোগ দিন।
যত বড়ই দুঃখ আসুক না কেন, তা মলিন হবেই। প্রেমিককে হারানোর বেদনা, ভালো চাকরির সুযোগ বা পরীক্ষায় ভালো ফল-নানা কারণে ব্যর্থতা আর শোক জীবনে আসতে পারে। জেনে রাখুন, সব দুঃখই ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে। একদিন সব দুঃখ কাটিয়ে সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি আমরা।
শুধু পরিশ্রমেই জীবনে সাফল্য আসে না। পরিশ্রমের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সৃজনশীলতাকে যোগ করতে হয়। বছরের পর বছর একই কাজ করতে করতে জীবনকে কখনোই একঘেয়েমির বৃত্তে আটকে ফেলবেন না। সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝুঁকি নিতে শিখুন। ঝুঁকি নেওয়ার একটা সুবিধা হচ্ছে, আপনি জানেন না সামনে কী আসবে। এই অচেনা আর অজানা পথ সামনে নতুন দ্বার খুলে দেয়। সাফল্য কিংবা ব্যর্থতাই জীবনের সবকিছু না। সময়কে নান্দনিক উপায়ে রাঙিয়ে বেঁচে থাকাই জীবন। অন্যের মতামতকেই জীবনের সব বলে ভাববেন না। একই বই কারও কাছে ভালো লাগতে পারে, কারও কাছে খারাপ লাগতে পারে। তেমনি আপনার কাজ কারও কাছে ভালো লাগতে পারে, কারও কাছে খারাপ লাগতে পারে-সব সময় নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে কাজ করুন।
মুঠোফোন বা সামাজিক দুনিয়াই জীবনের সব না। বন্ধুর সাফল্যের ছবি ফেসবুকে দেখে মন খারাপ হতেই পারে আপনার। আবার দিনের অনেকটা সময় মুঠোফোনের পেছনে ব্যয় করার ফল কিন্তু ইতিবাচক হয় না। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। নিজের শখকে গুরুত্ব দিন।
নিজের পথ নিজেকেই চলতে হয়। অন্যরা আপনাকে দারুণ পছন্দ করে হয়তো, কিন্তু দিন শেষে আপনার পথ আপনাকেই অতিক্রম করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের এগিয়ে চলার গল্প, কষ্টের গল্প ভিন্ন হয়-তাই আপনাকে কেউ এগিয়ে নেবে তা ভেবে কখনোই বসে থাকবেন না।
বর্তমানে যে যার জীবন নিয়ে খুবই ব্যস্ত। অন্য কারোর জন্য তো দূর কখনও কখনও আমরা নিজেদের জন্যই সময় বার করে উঠতে পারি না। কিন্তু শুধুমাত্র প্রতিদিনের ব্যস্ততা জীবনকে ঘিরে থাকলে মানুষের জীবন নিরস হয়ে উঠতে পারে। আর একটি নিরস জীবনে গতিময়তা থাকলেও প্রাণবন্ততা থাকে না। সেই প্রাণহীন জীবনে রোজকার ইঁদুর দৌঁড়ে মানুষ নিজেকে অন্ধকারের অতলে হারিয়ে ফেলে। সে কারণেই মাঝে মাঝে এই চূড়ান্ত ব্যস্ততা থেকে মুহূর্তের বিরতি নিয়ে প্রয়োজন নিজেকে সময় দেওয়ার এবং বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সকলের সাথে সময় কাটানোর। এর দ্বারা মানুষের মন যেমন শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা পায়, তেমনি সমাজে স্বাভাবিক সামাজিক বন্ধন বজায় থাকে।
কিন্তু আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষের পক্ষে ব্যস্ততা থেকে অবসর নেওয়া সম্ভব হয় না। কবে যে স্বল্প সময়ের অবসর গ্রহণ আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় তারমধ্যে সকলের সঙ্গে একসাথে মিলে আনন্দ করার জন্য বনভোজনের থেকে উপযোগী আর কিইবা হতে পারে।
ঐতিহ্যমন্ডিত নান্দনিক শহর চট্টগ্রাম থেকে চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম চড়–ইভাতির উদ্দেশ্যে আনোয়ারার মেন্না গার্ডেন, কেইপিজেড ও পারকির চরে গিয়ে প্রকৃতির কোলে বসে খাওয়া-দাওয়া আর হৈ হুল্লোড়ে মাতোয়ারা হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া বলতে রোজকার সাধারণ খাবারের পরিবর্তে একটু অন্য ধরনের খাওয়ার কথাই এখানে বিবেচ্য। সমুদ্র তীর, পার্ক, গ্রামের প্রান্তে একটু করো ময়দান অথবা সবুজে ঘেরা বনভূমিই চড়ুইভাতি অথবা বনভোজনের আদর্শ জায়গা। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। শান্ত শহর। নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি ঝরে শরীর ভিজিয়ে দিতে পারে। এ যেন রৌদ বৃষ্টির খেলা। দেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে পর্যটন জেলা চট্টগ্রাম। এই জেলাকে প্রকৃতি নিজেকে আপন মহিমায় সাজিয়েছে। চারপাশে উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের গাঁ বেয়ে চলছে নদী। নদী পাড়ি দিয়ে আনোয়ারার পর্যটন স্পটগুলোই আনন্দময় একটি দিন কাটালেন চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম এর সাংবাদিকরা।
গত শুক্রবার (১ অক্টোবর) দিনব্যাপী ছিল চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম এর আয়োজনে বনভোজন। এই আয়োজন জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। চট্টগ্রাম আনোয়ারা মোহছেন আউলিয়া সড়কের বটতলীর পাশে মেন্না গার্ডেন। নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না এটা একটা স্বপ্নপুরী নাকি স্বর্গভূমি। বিনোদনের জন্য এই গার্ডেনের ভিতরে রয়েছে পুকুর।  বিশাল পরিসরে এই গার্ডেন শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সৌখিন শিল্পপতি মেন্না চৌধুরী। নাম দিয়েছেন মেন্না গার্ডেন। এই গার্ডেনের পরিচিতি বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন পর্যটক এই গার্ডেনটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নিউজ পরিবেশনের জন্য। নানা রঙের বাহারী ফুল ও বৃক্ষে শোভিত হয়ে আছে সড়ক বিভাজন। আমি চোখ ফিরাতে পারছি না। যতই এগিয়ে চলেছি, ততই মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে পথের মাঝের ফুলেল বৃক্ষরাজি। শরতে এমন ফুলের মেলা আর কী এদেশের কোন শহরের সড়ক বিভাজনে আছে? সড়ক বিভাজনের চারপাশ নকশা করা কংক্রিটের বার দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। মালির সযতেœ লালন ও ছাঁটাই করা হেজ গাছগুলোর ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও শোভা বর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছে।
নানা প্রজাতির ফুলের মধ্যে মন কেড়ে নিল সাদা, বেগুনী ও লাল রঙের ফুরুস ফুল, জারুল ফুল, রঙ্গন, গোলাপ, অলকানন্দ, করবী, কলকে ফুল ইত্যাদি। আইল্যান্ডের পাদদেশটিও বিভিন্ন রঙ্গে রঞ্জিত। বাতাসে ফুল, ডগা, পাতাগুলো দোল খাচ্ছে। লোভ সামলাতে পারলাম না। কাছে যেতেই ভেসে এল মোহনীয় সুবাস। ফুলের মধ্য দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পথিকদের যেন পাতা নেড়ে অভ্যার্থনা জানাচ্ছে পাম গাছগুলো। সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় মনোরম শোভা। এরপর একে একে সবাই বেরোলেন বাগান দর্শনে। যেহেতু সবার পরিচিত জায়গা কিন্তু সব সহকর্মী একসাথে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা বলে অভিমত জানালেন অনেকে।
আমরা সব সাংবাদিকরা সহকর্মী। সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। আজ সবাইকে একসাথে দেখে অনেক ভাল লাগছে। এই আমাদের চিরচেনা বাগানে সবাইকে নিয়ে এসে অন্য রকম অনুভুতি হচ্ছে। আঁকাবাঁকা পথ মাড়িয়ে সবাই পৌঁছলেন মেন্না চৌধুরীর বাংলোতে। সেখান পার্শ্বেই একটি পুকুর। পুকুরের চারিপাশে মনোরম দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে যায়।
আমরা সাংবাদিকরা সারা বছর কর্মব্যস্ত থাকি। আজ এই বনভোজনের মাধ্যমে সবাই একত্রিত হলাম। সবাই একটি আনন্দময় উৎসব উদযাপন করলাম। মূলত সাংবাদিকদের ব্যস্ততা কাটিয়ে যাতে সবাই আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম বনভোজনের আয়োজন করে।
বনভোজনের মজাই আলাদা। সে বনেই হোক বা কোন আধুনিক রিসোর্টেই হোক। ‘পুলক কোলাহলে’ দিনটি কাবার হয়। সাংবাদিকের অহরাত্রি কর্মযজ্ঞ থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও ফুরসত মিলে। সেরকমেরই একটা আনন্দ উল্লাসে সামিল হয়েছিলাম গত ১ অক্টোবর। চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম এর সদস্যদের ফ্যামিলি ডে-২০২১ ছিল সেদিন। নানা কারণে গত ক’বছর থেকে আনন্দ খুশিতে ভাটা পড়েছিল। নামে কিবা আসে যায়, সে ফ্যামিলি ডে অথবা পিকনিকই হোক ব্যাপার তো একই, আনন্দে অবগাহন, খানাদানা, হুড়াহুড়ি, ছুটাছুটি। নসিবের ফের তেমনটা সম্ভব হয়নি পুরাপুরি। প্রথমত সময় স্বল্পতা, দ্বিতীয়ত দায়িত্ব পালনে দায়িত্ববানদের অনভিজ্ঞতা হয়তো কিছুটা সমন্বয়হীনতা। অধিক জনসমাগমে তেমনটা হওয়াই স্বাভাবিক।
এবারের স্থান নির্ধারিত হয়েছিল আনোয়ারার বিভিন্ন স্পট। বাহন বড় বাস। একটা অন্যরকম আনন্দের হাতছানি থাকায় বাসে চড়তে দ্বিধা করিনি। চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী মোড় সকাল ১০ টায় রাওয়ানা দিলাম আনোয়ারার উদ্দেশ্যে পৌঁছে গেলাম দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ, আমরা ছ’জন। যমুনা টিভির ব্যুরোচীপ ও চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম এর সভাপতি জামসেদুর রেহমান চৌধুরী, সহসভাপতি ও রেডিও টুডে’র স্টাফ রিপোর্টার পুরবী দাশ, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক পূর্বদেশের সি: স্টাফ রিপোর্টার এম এ হোসাইন, সংগঠনের সদস্য ও ডয়েস ভেলের সাংবাদিক শিহাব অনিক জিসান, সংগঠনের সদস্য ও চিটাগাং প্রতিদিনের সাংবাদিক দেবোজ্যিত চক্রবর্তী ও আমি নিউজগার্ডেন সম্পাদক কামরুল হুদা। শুধুমাত্র গিন্নি গিয়েছিল হোসেনের ও তার বন্ধুৃ, জিসানের মা বাবা ও দুই বোন, পুরবী দাশের মা, খালা আর ভাই ও ভাইয়ের গিন্নি, জামসেদুর রেহমানের এক বন্ধু। আমাদের ১০ জনের মধ্যে অনেকেই উপস্থিত।
বনভোজনের প্রভাত যাত্রায় সাধ্যানুযায়ী নাশতা পরিবেশনের রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। চন্দনাইশ মিডিয়া ক্লাব-চট্টগ্রাম এর বনভোজনের আজকে নাশতা সিকদার হোটেলেই সবাই সেরে ফেললো। কারণ দুপুরে খাবারের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে আরো চার পাঁচ ঘণ্টা। বনভোজন বা কোন আনন্দ উল্লাসে ভিআইপি ননভিআইপি বিভাজন মোটেও বিবেচনা প্রসূত নয়। এমন আনন্দঘন পরিবেশে সবাই ভাইবন্ধু। তবে সাধুবাদ জানাতেই হয় কোন কোন সাংবাদিক নেতাকে। তাদের বেশ কয়েকজন ঘুরে ঘুরে কুশল বিনিময় করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন।
গন্তব্যে পৌঁছেই সবাই খাবার টেবিলে। সময় তখন বিকাল ৩টা। ক্ষুধায় চু চু করছে পেট। বিশেষ করে শিশু এবং মহিলারা অনেকটাই কাহিল হয়ে পড়েছিল যাত্রাপথের অনাকাংক্ষিত ধকলে। খানা দেয়া হলো ভুপে, নিতে তো একটু সময় লাগবেই। একটু আধটু বিশৃংখলা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
এমন আয়োজনে বিশেষভাবে বনভোজনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারের জন্য উপহার বাক্স। বনভোজনের প্রধান আকর্ষণ ‘র‌্যাফেল ড্র’। সময় স্বল্পতার কারণে সেটিও তাড়াহুড়া করে ইতি টানতে হয়েছে। পীড়াদায়ক সত্য হলো সবাই র‌্যাফেল ড্র পেয়েছে, বঞ্চিত ছিলাম আমি। ভাগ্যভালো জামসেদুর রেহমান ভাই দুইটা র‌্যাফেল ড্র থেকে করুণা করে আমাকে একটি উপহার দেয়াতে আমার কান্না ভাব দূর হলো বঞ্চিত হলাম চোখের পানি থেকে। যদিও বিষয়টি তেমন কোন বড় ব্যাপার নয়। তবে এটি ঠিক এই ক্ষুদ্র উপহারটি দীর্ঘসময় পর্যন্ত বনভোজন বা ফ্যামিলি ডে’র আনন্দকে হৃদয়ে জাগরূক রাখে। সাংবাদিকদের ‘চড়ুইভাতির’ অন্তিম ঘণ্টা বাজল।  
সারা দিনের হই-হুল্লোড়ের মধ্যে বিকালের সূর্যটা ঘুরতে ঘুরতে পশ্চিম আকাশে হাঁটতে শুরু করল। আঁধারীর আভা চারদিকটাকে ঝেঁকে নিলে লাগল। আমাদেরও ফেরার ঘণ্টা বেজে উঠল। শুরু হলো ফটোশুট। ফুলের পাপড়ির মতো গুচ্ছ হয়ে কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউ কেউ বসে পড়ল। সবার উপস্থিতিতে গোলাপের মতো এ ছবিটিই যেন টিকে রবে জীবনের অ্যালবামে ভালোবাসার স্মৃতি হয়ে। ক্লিক.. ক্লিক..শব্দে উঠে গেল ছবি। সূর্যটাও বিদায় জানিয়ে হারিয়ে গেল দিগন্ত পানে। আবার কোনো এক দিন এভাবে আমাদের আলো দেবে বলে।
আনন্দের মাঝে ডুবেছিলাম সবাই। আস্তে আস্তে বিকেল হলো। ফিরতে হবে। আবার সবাই বাসে উঠলাম। একটি আনন্দমুখর ছুটির দিন এমনিভাবে কাটল। এ আনন্দ আমাদের প্রেরণা দিবে আগামী দিনের কাজের জন্য। তাই এর মজার স্মৃতি আমি কোনোদিনই ভুলব না।

 

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

‘নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জ্বালানিতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

‘নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জ্বালানিতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ‘সুষ্ঠু জ্বালানি নীতির মাধ্যমে জ্বালানি খাতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হ... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে ফের জুয়ার আখড়া!

চট্টগ্রামে ফের জুয়ার আখড়া!

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২০১৯ সালে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর দেশব্যাপী জুয়া, ক্যাসিনোসহ সব আখড়া বন্ধ হয়ে যা... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে যুবলীগের বর্ধিত সভা

চট্টগ্রামে যুবলীগের বর্ধিত সভা

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রতিটি সংগঠনের চালিকাশক্তি হচ্ছে তৃণমূল। বর্ধিত সভা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এ সফ... বিস্তারিত

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের স্মার্ট কার্ড দিতে বাঁধা দেয়ায় এক সংবাদ কর্মীকে পিটিয়েছে

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের স্মার্ট কার্ড দিতে বাঁধা দেয়ায় এক সংবাদ কর্মীকে পিটিয়েছে

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের স্মার্ট কার্ড দিতে বাঁধা দেয়ায় মিজানুর রহমান নামে এক স... বিস্তারিত

‘প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে ওয়াহেদপুর পাহাড়ে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা’

‘প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে ওয়াহেদপুর পাহাড়ে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা’

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদের অবারিত ভূমি দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ উপজেলা মীরসরাইত... বিস্তারিত

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বড় ধরনের ভূমিকম্প

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বড় ধরনের ভূমিকম্প

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বন্দর নগরী চট্টগ্রাম এবং সংলগ্ন এলাকায় আজ শুক্রবার ভোর ৫.৪৭ মিনিটে অনেক বড় ধরন... বিস্তারিত

সর্বশেষ

বেগম জিয়াকে বিদেশে নিতে আইনের কোনো বাঁধা নেই: ডা. শাহাদাত হোসেন

বেগম জিয়াকে বিদেশে নিতে আইনের কোনো বাঁধা নেই: ডা. শাহাদাত হোসেন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: যে আইনে সাজা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে, সেই আইনেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎ... বিস্তারিত

সংবর্ধিত হলেন রাঙ্গুনীয়া বিএনপি নেতা সেকেন্দার আলী পেয়ারূ

সংবর্ধিত হলেন রাঙ্গুনীয়া বিএনপি নেতা সেকেন্দার আলী পেয়ারূ

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানের পর দেশে ফিরে ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধিত ও সিক্ত হল... বিস্তারিত

‘নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জ্বালানিতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

‘নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জ্বালানিতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে’

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ‘সুষ্ঠু জ্বালানি নীতির মাধ্যমে জ্বালানি খাতে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হ... বিস্তারিত

শফিকুল ইসলাম রাহী এতিমখানা  ও হেফজখানার দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

শফিকুল ইসলাম রাহী এতিমখানা ও হেফজখানার দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম রাহী এতিমখানা  ও হেফজখানার ব... বিস্তারিত