নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

newsgarden24.com    ০২:১৪ পিএম, ২০২১-০৩-২৫    143


নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

কামরুল হুদা: বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রীর দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বেড়ে চলেছে। বাড়ীর দরজা থেকে শুরু করে নদী, নালা, ড্রেন সবখানেই মিশে গিয়ে যেন পৃথিবীর শ্বাসরোধ করে ফেলেছে পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী। এগুলো আমাদের ভূমির উর্বরতা কমাচ্ছে, বায়ু দূষণ ঘটাচ্ছে এবং সমুদ্রের জলজ উদ্ভিদ ও প্রতিবেশ বা পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে ফেলছে। ফলে প্লাস্টিকের উৎপাদন এবং ব্যবহার কমাতে হবে।
প্লাস্টিক, প্লাস্টিকজাত পণ্য যেমন- টুথব্রাশ, চিরুনি, চশমা, জুতা, স্যান্ডেল, মোবাইল সেট, কলম, স্যানিটাইজারের কনটেইনার, খনিজ পানির বোতল, করোনাকালে ফেসশিল্ড, মাস্ক- এসব পণ্য আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে।
পলিথিন ব্যাগ ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবন অচল কিন্তু এই পলিথিন ডেকে আনছে মৃত্যু,এক নীরব ঘাতক এই পলিথিন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পলিথিন ব্যবহার মানুষের শরীরে ক্যান্সার সহ নানা প্রকার রোগ ব্যাধি ডেকে আনছে আর তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে মানুষ সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অকাল মৃত্যূও অসম্ভব কিছু নয়। পলিথিন ব্যাগ এ করে জিনিস পত্র আনা নেওয়া, বাইরের হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে গরম খাবার আনা এমনকি ফ্রিজে জিনিস পত্র রাখতেও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এর ফলে মানুষের রোগ বালাইও বাড়ছে।

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ যে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করার জন্য হরমোন এর গন্ডগোল শরীরে বাসা বাঁধে। এমনকি এর ফলে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে। হবু মায়ের গর্ভের ভ্রূণ পৃথিবীর আলো দেখা থেকে বঞ্চিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে গরম খাবার পলিথিন ব্যাগ বা পাত্রে ঢালা মাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়াতে বিসফেনল তৈরি হয় যা থাইরয়েড গ্রন্থির কাজে সমস্যা তৈরি করে। তবু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মানুষের অজ্ঞতার কারণে এই ক্ষতিকর জিনিস এর ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসন আইনের প্রয়োগ করতে পারে না ঠিকমত, ফলে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
ক্যান্সার আক্রান্ত হন বহু মানুষ, দীর্ঘদিন এই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করার জন্য। ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন এই পলিথিনকে। এছাড়া কিডনি ও যকৃতের জটিল সমস্যা তৈরি করে এই পলিথিনের জিনিসপত্র। আরও এক সমস্যা তৈরি করে এই পলিথিন। এটা ব্যবহার করে ফেলে দেবার পর এটা প্রকৃতির ক্ষতি করে। কারণ পলিথিন মাটিতে একশো বছরেও মেশে না, শুধুমাত্র মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন যে পাটের ব্যাগ অমিল আর কাপড়ের ব্যাগ এর দাম বেশী তাই বিকল্প হিসেবে তাঁরা সহজেই পাওয়া যায় প্লাস্টিক ব্যাগ বেছে নিতে বাধ্য হন। আর ক্রেতাদের মত পলিথিন ব্যাগ বহন করা সহজ তাই এটাই ব্যবহার করা হয় ক্ষতির দিকটা তাঁরা ভাবেন নি। বিশেষজ্ঞদের মত, অবিলম্বে এই জিনিস যদি ব্যবহার বন্ধ না করা হয় তবে আগামী দিন অতি ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। প্রশাসনকে আইনের প্রয়োগ ঠিকমতো করতে হবে যেমন তেমন মানুষকেও সচেতন হতে হবে। নিজেদের ভালোমন্দ বুঝতে হবে নয়তো আগামী দিন অতি ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। প্রশাসন অনেক নতুন বিল পাশ করেছেন, যা অনেকাংশে জনস্বার্থবিরোধী। অথচ যে ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, সেক্ষেত্রে কড়া আইন আনতে সচেষ্ট না হওয়া দেশের মানুষের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

এসব ছাড়া জীবন ধারণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু ভ্রমণকালেই যে পাতলা প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি, চা, কফি বা গরম কিছু খাওয়া হচ্ছে তা নয়; ক্রোকারিজ, কাটলারিজ ধোয়ামোছার ভয়ে এখন বাসাবাড়িতে প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ছে। সব দেশের সব এয়ার ক্র্যাফটে প্লাস্টিক প্যাকেটে গরম খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহকৃত রেডিমেড খাবারের পুরোটাই পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত সামগ্রীর সাহায্যে প্যাকেট করা হচ্ছে। মিনারেল ওয়াটারের বোতলকে যে কতবার রিফিল করে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ইয়াত্তা নেই। দীর্ঘদিন রিফিল করে পানি পানের পর রং নষ্ট হয়ে যাওয়া বোতলগুলোয় ঘরে তৈরি ফলের জুস, মধু, সরিষার তেল রাখা হচ্ছে বছরের পর বছর। বাসাবাড়িতে মসলাপাতিসহ রান্নার বিভিন্ন সামগ্রী প্লাস্টিক কৌটায় আবদ্ধ। বালতি, ড্রাম, পানি সংরক্ষণের ওভারহেড ট্যাংকি, পিভিসি পাইপ, পানির ট্যাপ ইত্যাদি প্লাস্টিকের তৈরি। এসব থেকে অতি ক্ষুদ্র কণা প্রতিদিন মানুষের পেটে যাচ্ছে। এতে ক্যান্সার, কিডনির সমস্যাসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের ঝুঁকি বাড়চ্ছে। শুধু কি স্বাস্থ্যঝুঁকি? প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্যের যথেচ্ছ ব্যবহারে পরিবেশ বিষাক্ত ও দূষিত হচ্ছে। এসব কথা আমরা সবাই জানি, তারপরও এর করাল গ্রাস থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। বরং ব্যবহারবান্ধব এবং দামে কম হওয়ায় প্লাস্টিকজাত পণ্য দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং নিত্যনতুন এসব পণ্য প্রতিনিয়ত বাজার দখল করছে। জীবন ধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।
গবেষণায় জানা যায়, প্রতি বছর মাথাপিছু প্রায় ৫ কেজি প্লাস্টিক দ্রব্যাদি ব্যবহৃত হয়। পত্রিকার খবর মতে, বাংলাদেশে প্লাস্টিক দ্রব্যাদির বাজার প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের। আর প্লাস্টিক উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। ২০ লাখেরও বেশি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে জড়িত। একটি শহরে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ পলিব্যাগ পরিত্যক্ত হয়ে তা পুকুর, ডোবা, নদী-নালা ও সাগরে গিয়ে জমা হচ্ছে। কৃষকের চাষের জমি, পুকুর, রাস্তাঘাট ভরে আছে প্লাস্টিক বর্জ্যে।
বিশ্বে প্রতি মিনিটে প্রায় ৫ লাখ প্লাস্টিক বোতল বিক্রি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এখন বছরে ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সাগরে গিয়ে পড়ে, ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে এর পরিমাণ হবে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলমেন্ট অর্গানাইজেশন কর্তৃক বাংলাদেশে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিয়ে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ ও যুবকরাই প্লাস্টিক দূষণের জন্য বেশি দায়ী; যেসব খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের প্যাকেট রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগের ভোক্তা ১৫ থেকে ৩৫ বছরের তরুণ ও যুবকরা।
দেশে করোনার প্রথম মাসে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য; এর মধ্যে শুধু একটি শহরে এর পরিমাণ ৩ হাজার ৭৬ টন। মূলত সার্জিক্যাল মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজারের বোতল ও ত্রাণ বিতরণে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ব্যাগ এ বর্জ্যেরই অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যবস্থার কি পরিবর্তন করা যায় না? প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের উপায় বের করা কি অগ্রগতির এ যুগে খুবই কঠিন? মোটেই নয়, শুধু দরকার আমাদের সচেতনতা। গত এক দশকে আমরা যে পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহার করেছি, তা বিগত এক শতাব্দীতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের থেকেও বেশি।
মানুষের জীবনযাপনকে সহজ করার জন্য ১৮৫০ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার পার্কস প্রথম প্রাকৃতিক রাবার থেকে প্লাস্টিক তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে ১৮৬৯ সালে জন ওয়েসলে হায়াত কর্তৃক সেলুলয়ডের তৈরি সহজীকরণ পদ্ধতি এতে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর ধারাবাহিকতায় চলতে থাকে প্লাস্টিক নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম। এসব উদ্ভাবন মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে, তবে একইসঙ্গে জীব-জগতের জন্য বহুবিধ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হয়তো প্লাস্টিক তৈরির শুরুর দিকে প্রযুক্তিবিদরা এর নেতিবাচক দিকের প্রতি নজরও দিতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক গবেষণায় বলছে, দোকানে মুদিপণ্য বহনের জন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে। চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার ও প্লাস্টিক বোতল টিকে থাকে ৪৫০ বছর পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ-প্রতিবেশের যেমন সমস্যা তৈরি করছে, একইসঙ্গে ব্যক্তি, প্রাণীসহ সবকিছুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
মৎস্য ও ফসল উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপদ পানিপ্রাপ্তিতে বিঘœ সৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা তৈরি করছে, সর্বোপরি পৃথিবীর জলবায়ুকেই পরিবর্তন করে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনে প্রাকৃতিক কারণের সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্য সৃষ্ট কারণগুলোই এখন মূখ্য হয়ে দেখা দিয়েছে। আর প্লাস্টিক বর্জ্য এর মাত্রাকে শুধু বাড়িয়েই চলেছে। পলিথিনের যুতসই বিকল্প যতদিন আবিষ্কৃত না হবে, ততদিন হয়তো আমাদের পলিথিন-প্লাস্টিক নির্ভরতায় থাকতে হবে। কিন্তু তাই বলে তো হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। পলিথিন বর্জ্য যেন অন্তত ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে।
জীবন ধারণের যেসব ক্ষেত্রে প্লাস্টিকজাত পণ্যের বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ আছে, সেসব ক্ষেত্রে তা কাজে লাগাতে হবে। বাসাবাড়িতে কাচ-টিন-অ্যালুমিনিয়াম-স্টিলের বালতি, গামলা, জগ, কৌটা, শিশির ব্যবহার অনায়াসে চালু করা যায়। পিকনিক, সামাজিক অনুষ্ঠান বা বড় গ্যাদ্যারিংয়ে প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম থালা-বাসন, গ্লাসের ব্যবহার বন্ধ করা যায়। আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে ওইসব অনুষ্ঠানে কিসের তৈরি ক্রোকারিজ, কাটলারিজ ব্যবহার করা হতো? আমরা কি এসব ভুলে গেছি? যেহেতু প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যক্তি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাই একটু সমস্যা হলেও তা মেনে নিয়েই এর ব্যবহার কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
পলিথিন-প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহারের পর বাসাবাড়ি, কর্মপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, রাস্তাঘাট, ডোবা-নালায় যত্রতত্র ফেলার কারণে পরিবেশ যেমন দূষিত ও বিষাক্ত হচ্ছে, একইসঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশনেও জটিলতা ও জলবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই ডাস্টবিনে অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে পলিথিন-প্লাস্টিক বর্জ্য না রাখাই ভালো। আর যদি একসঙ্গে রাখতেই হয়, তাহলে অন্তত তা বিনষ্টকরণের আগে অবশ্যই আলাদা করে নিতে হবে। প্রয়োজনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে পরিবেশবান্ধব করে ঢেলে সাজাতে হবে। প্লাস্টিক-পলিথিনের শেষ গন্তব্য যেন নদী-সাগর না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
জাপানে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে গৃহস্থালি কাজের ব্যবহার শেষে নষ্ট হয়ে যাওয়া প্লাস্টিকসামগ্রী রিসাইকেল করে ব্যবহার করা হয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য প্রসেস করে রাস্তা, ঘরবাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো রাজ্যে প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। অনেক দেশ প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি ও শক্তি উৎপাদনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। জৈব উপাদান ব্যবহার করে পচনশীল প্লাস্টিক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদেরও এ ধরনের উদ্যোগে শামিল হতে হবে। প্রয়োজনে অন্য দেশ, সংস্থার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে।
ব্যক্তি, পরিবারিক পর্যায়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকজাত পণ্যের বিকল্প সামগ্রীর মূল্য কমিয়ে আনতে হবে। তাহলে মানুষ বিকল্প পণ্যগুলো ব্যবহারে আগ্রহী হবে। স্কুলের পাঠ্যসূচিতে প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে রচনা-প্রবন্ধ-নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করে এ বিষয়গুলো শিশুদের মন-মগজে গেঁথে দিতে হবে। এর ক্ষতিকর দিকগুলো ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তুলে ধরতে হবে।
প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, রাষ্ট্র নানা কার্যক্রম গ্রহণ করছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আমাদের সরকার ২০১০ সালে জুট প্যাকেজিং আইন পাস করেছে। ইতোমধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্যের ট্রান্স বাউন্ডারি মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণে একটি আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ‘সিঙ্গেল ইউজ’ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা, আইন মান্যতার তাগিদ সৃষ্টি না হলে রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো কার্যক্রমই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। সরকারের এ শুভ উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন বাজারে গেলে মানুষজন হাতে করে একটা চটের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। কিন্তু আশির দশকে প্রথম বাজারে পলিথিনের ব্যবহার শুরু হয়। এর পর থেকে বাজারে যে ধরনের দোকানেই যান না কেন বিনে পয়সায় পলিথিনের ব্যাগ দেয়া শুরু হল। সহজে সকল দোকানে বিনে পয়সায় চাইলেই পলিথিনের ব্যাগ পাওয়া যায়। পশ্চিমা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক পরের দিকে পলিথিন ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু তা এতটাই বড় বিপর্যয় ডেকে আনে যে, ব্যবহার শুরুর ১৫ থেকে ২০ বছরের মাথায় ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে এর উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। শুরুর দিকে বেশ কড়াকড়ি হলেও ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে যায় আইনের প্রয়োগ। আর এখন বাংলাদেশে এটি যে নিষিদ্ধ তার বোঝারই কোন উপায় নেই।
কিন্তু কেন প্লাস্টিক বর্জন করা উচিত?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, প্লাস্টিক এমন একটি পদার্থ যার আয়ুষ্কাল হাজার হাজার বছর। দেখতে ভালো না লাগলেও এমন পরিস্থিতি বাস্তবতা। যা মাটিতে গেলে ক্ষয় হয় না বা মাটির সাথে মিশে যায় না। এটি মাটিতে পানি ও প্রাকৃতিক যে পুষ্টি উপাদান রয়েছ তার চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে মাটির গুণগত মান হ্রাস পায়। গাছ তার খাবার পায় না। মাটি ও পানিতে প্লাস্টিক কণা ছড়িয়ে পড়ে। যা হয়ত পানি থেকে মাছের শরীরে যাচ্ছে। মাটিতে প্লাস্টিকের তৈরি টক্সিক রাসায়নিক পদার্থ গাছে মিশে যাচ্ছে। আর তা শেষমেশ শুধু পশু পাখি নয় মানুষের শরীরেও এসে পৌছায়। প্লাস্টিক মানুষের শরীরে আরো অনেক মরণ ব্যাধির পাশাপাশি ক্যান্সারের জন্য দায়ী। যে সুবিধার জন্য আপনি প্লাস্টিক ব্যবহার করেন যেমন ফুটো না হলে এতে পানি ঢোকে না বা বের হয় না।

যে কারণে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে পিছিয়ে বাংলাদেশ
সেই একই কারণে পলিথিন বা প্লাস্টিকের বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলে দিলে তা নর্দমায় আটকে গিয়ে পানির প্রবাহে বাধা দেয়। যার ভুক্তভোগি শহরগুলোর লক্ষ লক্ষ মানুষ। একটু বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্থ ডে নেটওয়ার্ক এক প্রতিবেদনে বলছে বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। বেশিরভাগ প্লাস্টিক রিসাইকেল হচ্ছে না।

কেন এটির ব্যবহার ও উৎপাদন বন্ধ করতে পারছে না বাংলাদেশ?
একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আমাদের দেশে ব্যবসায়িক ও আর্থিকভাবে লাভজনক না হলে মানুষ কিছু করে না। শুধু সচেতনতা বা সমাজের কল্যাণের জন্য কিছু হয় না। পলিথিন ব্যাগ সাধারণের জন্য অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভজনক কারণ এটি সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়। যখন আর্থিকভাবে লাভজনক বিকল্প আসবে শুধুমাত্র তখনই এর ব্যবহার আমি ছাড়বো, এটি হয়ত একটি কারণ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল বিশ্বে যে দেশটি সবচেয়ে আগে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলো সেটি হল বাংলাদেশ। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখা গেলো বিষয়টি মারাত্মকভাবে তার গুরুত্ব হারিয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা দু পক্ষের কাছেই।
একজন ক্রেতা বলছেন, বাজার থেকে ফেরার সময় টপ টপ করে মাছ বা মাংসের রক্ত পড়ছে না। হঠাৎ পথের মধ্যে কাগজের ব্যাগের মতো ছিঁড়ে পড়ে যাচ্ছে না, পশ্চিমের দেশগুলোতে দোকানে এমন ব্যাগের জন্য পয়সা নেয়া শুরুর পর থেকে অনেকেই সাথে করে ব্যাগ নিয়ে যাওয়া শুরু করেছেন। বাংলাদেশে সেই অভ্যাস চলে গেছে পলিথিনের কারণে। আইন করে নিষিদ্ধ করার পর সেই আইনের প্রয়োগ কেন হচ্ছে না? বেশিরভাগ মানুষ বলছেন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার তাদের জন্য সহজ। কিন্তু পরিবেশের কথা ভাবছেন না।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে ১৭ টি পণ্যের সংরক্ষণ ও পরিবহন পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে ৯৩১ টন পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। ৫২ টি কারখানা উচ্ছেদ হয়েছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানিয়েছেন, আমাদের একার পক্ষে সারা দেশে এটি থামানোর অভিযান চালানো সম্ভব নয়। তাছাড়া মানুষকে বোঝানো আমাদের জন্য সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বাজার কমিটির সাথে কাজ করছি যাতে তারা বাজারে এটা বন্ধ করে, কিন্তু পলিথিনের ব্যাবহার রোধের বিষয়টি দেশব্যাপী যে গুরুত্ব হারিয়েছে সেটি বাজারে গেলে বা রাস্তায় সামান্য একটু হাঁটলেই বোঝা যায়।

করোনা মহামারীর কালে পলিথিনের ব্যবহার মারাত্মক হারে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ এমনিতেই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তার ওপর করোনায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি আরও উদ্বেগজনক। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) করা এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জলে-স্থলে বর্তমানে ৬৫ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। আর দেশের মানুষ প্রতিদিন ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য রাস্তাঘাট, নদীনালা, খালবিলে ফেলছে। গবেষণা সংস্থাটি দেশের পরিবেশের জন্য অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যাগকে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির তথ্যানুসারে দেশে যেখানে জৈব বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জেনেও দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছে।  

প্লাস্টিক ও পলিথিনে বাস্তুসংস্থান নষ্ট হচ্ছে। মাটি থেকে পানি, পানি থেকে জলজ প্রাণী এবং সেখান থেকে মানবদেহে প্রবেশ করছে প্লাস্টিক। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড ইন্টারন্যাশনালের (ডব্লিউডব্লিউএফ) গত বছরের এক গবেষণায় দেখানো হয়, পৃথিবীতে প্লাস্টিকসংক্রান্ত দূষণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষণাটিতে দাবি করা হয় প্রতি সপ্তাহে একজন ব্যক্তি ৫ গ্রাম বা একটি এটিএম কার্ডের সমপরিমাণ প্লাস্টিক কণা খেতে বাধ্য হচ্ছেন। খাবার পানি, সামুদ্রিক মাছ ও ব্যবহার্য প্লাস্টিকের মাধ্যমে এ পরিমাণ প্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে ৩৮১ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এই বর্জ্যের ৫০ শতাংশই আসে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক থেকে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হলেও, কার্যকর প্রয়োগের অভাবে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আর ক্ষতিকর প্লাস্টিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ‘বাসেল কনভেনশন’-এ বাংলাদেশ সমর্থন করলেও জাতীয় সংসদে এখনো পর্যন্ত অনুসমর্থন হয়নি। বর্তমান বাস্তবতার বিবেচনায় ‘বাসেল কনভেনশন’-এর নীতিমালা বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। তবে, এটা খেয়াল রাখা জরুরি যে কেবল আইন করে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা কঠিন হবে। এজন্য প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিকল্প পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পৃষ্ঠপোষকতা এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পাটজাত ব্যাগ পলিথিনের ভালো বিকল্প হলেও পাটের দেশ বাংলাদেশে সেটা জনপ্রিয় করতে না পারা অবশ্যই বড় ব্যর্থতা। করোনা মহামারী মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণ ও প্রকৃতির সম্পর্ক এবং পরিবেশ দূষণ বন্ধের যে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে সেটা আমলে নিয়ে দেশে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বন্ধে সরকারের সক্রিয়তা জরুরি।

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের উপর পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাতকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনগণ তা সানন্দে গ্রহণ করে। এই আইন বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর হয়তো ভুলেই গেছে যে, আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং সেই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদেরই। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তায় বর্তমানে পলিথিন নিষিদ্ধের আইনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সারা দেশে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর প্রায় এক হাজার দুই শত কারখানা রয়েছে। এগুলোর বেশীর ভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। পুরান ঢাকার অলি-গলিতে রয়েছে প্রায় তিন শত কারখানা। কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, টঙ্গীতে ছোট-বড় বেশ কিছু কারখানা রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শতাধিক কারখানা। ঢাকার পলিথিন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রমামসহ জেলা শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে শত শত পলিথিন কারখানা। পলিথিন বাজারজাতকরণে পরিবহন সিন্ডিকেট নামে আরেকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। জরুরী রফতানি কাজে নিয়োজিত লেখা ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। পলিথিন নিষিদ্ধের আইন প্রণয়নের পর তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ফলে বিকল্পের চাহিদা দেখা দেয় এবং তা বাজারে চলে আসে। জনগণও তা গ্রহণ করে। আইনের প্রয়োগ শিথিল হওয়ার সাথে সাথে বিকল্পের চাহিদা কমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা শূন্যের কোটায় নেমে আসে। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন বন্ধ হলে বিকল্পের চাহিদা সৃষ্টি হবে এবং তা বাজারে চলে আসবে। যে সব সুবিধার অপব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন, বিপণন করা হচ্ছে তা দেখভাল করার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সদিচ্ছা, আন্তরিকতা, সততা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং জবাবদিহিতার অভাবে বর্তমানে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা। পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব।
২০০২ সালে আইনটি ভাল করে স্টাডি করা না হয়ে থাকলে গত ১৫ বছরে তিনি বা তাঁর অধিদপ্তর আইনটি সংশোধনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি কেন? বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত রুটিন ওয়ার্ক তথা বাজারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পলিথিন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। প্রয়োজন পলিথিন উৎপাদান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যেখানে জনগণ তাঁদের কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছে না। এই আইন যতক্ষণ বলবৎ আছে ততক্ষণ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসাবে তাঁরা তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন এটাই জনগণের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধকারী প্রথম দেশ। বর্তমানে বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ও ব্যবহার হ্রাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আমেরিকার বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পলিথিন উৎপাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইনের অধীন প্রদত্ত নির্দেশ লংঘনজনিত অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০ সংশোধন করে পলিথিন শপিং ব্যাগ সংক্রান্ত অপরাধসমূহের ব্যাপারে অনুসন্ধান, কোন স্থানে প্রবেশ, কোন কিছু আটক, আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ এবং প্রয়োজনবোধে পরিবেশ আদালত বা স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালতে পরিবেশ আদালত আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশের এস আই/ সমপর্যায় হতে এ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ পর্যন্ত; মেট্রোপলিটন বহির্ভূত এলাকায় এস আই/ সমপর্যায় হতে সহকারী পুলিশ সুপার পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণকে উক্ত আইনে সংজ্ঞায়িত “পরিদর্শক” এর ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
 
কাপড়ের মতো দেখতে এক ধরনের রঙিন পলিথিন টিস্যু (যা চায়না টিস্যু নামে পরিচিত) ব্যাগে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। পরিবেশবান্ধব পাটজাত দ্রব্য, কাগজের ব্যাগ ও ঠোঙা, কাপড়ের ব্যাগ ইত্যাদি সহজলভ্য বিকল্প থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন, বিপণন, বাজারজাত ও ব্যবহার করা হচ্ছে। রফতানিকৃত পণ্যের বাজারজাত, প্যাকেজিং, নার্সারির চারা, রেণুপোনা পরিবহন এবং মাশরুম চাষের ক্ষেত্রে পলিথিন উৎপাদনের ছাড়পত্র নিয়ে পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরী করে বাজারজাত করা হচ্ছে। পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানীকৃত পলি প্রোপাইলিন ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধুমাত্র ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই কোটির বেশী পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়া হয়। এগুলো দ্বারা ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৫ লাখের বেশী টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। এসব ব্যাগ পলিথিনের হলেও কাপড়ের ব্যাগ হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, ফ্যাশন হাউজ, বিভিন্ন কোম্পানিসহ সারা দেশের বাণিজ্যিক বিতানগুলো টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ পলিথিন ও টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ফলে কাগজ, পাট ও কাপড়ের ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং লক্ষ লক্ষ শমিক বিশেষ করে নারী-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
 
করণীয় :
ক্স পলিথিন নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
ক্স পলিথিন শপিং ব্যাগ ও টিস্যু ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ক্স নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
ক্স পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ও ঠোংগা ইত্যাদি সহজলভ্য করা এবং এগুলো ব্যবহারে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করা।
ক্স বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানীকৃত পলি প্রোপাইলিন পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ক্স টিস্যু ব্যাগ তৈরীর কাঁচামাল আমদানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ক্স পরিবেশ অধিদপ্তর, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
ক্স পরিবেশ অধিদপ্তর, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এফবিসিসিআই এর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

২০০২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়। সেখানে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে প্রথম অপরাধের দায়ে অনধিক দুই বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২ লাখ টাক অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্তিত হবেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংশোধিত ২০১০ সালের আইনের ৭(১) ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তির কারণে পরিবেশ বা প্রতিবেশের ক্ষতি হলে সেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক তা পরিশোধ করতে হবে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বা উভয় ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শুধু ঢাকা শহরে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সারা দেশের চিত্রটি কেমন হবে? প্রতিদিন এই বিপুল পরিমাণ পলিথিনের স্থান হচ্ছে আমাদের নদ-নদী, খাল-বিল এবং মাটি বা জমি। জমিতে বছরের পর বছর পড়ে থেকে মাটির উর্বরতার সর্বনাশ করছে পলিথিন। কারণ মাটিতে পড়েই ধীরে ধীরে এর বিষাক্ত উপাদান মাটিতে ছড়াতে থাকে। আমাদের অতি শিগগির পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আর সেটা করতে হলে প্রথমত, যারা পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং পলিথিনের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে সম্পূর্ণভাবে। দ্বিতীয়ত, পলিথিনের খারাপ দিক সম্পর্কে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদি পলিথিনের বিকল্প বাজারে থাকা সত্ত্বেও তা পলিথিনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ পলিথিন বাজারে রয়েছে। যদি পলিথিন বন্ধ করা যায় তাহলে ধীরে ধীরে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাবে বিকল্প পণ্য ব্যবহারে। বাজারে যাওয়ার আগে যারা ব্যাগ নেন না তারাও ব্যাগ নিয়েই বাজারে যাবেন।

পলিথিন সস্তা, সহজে বহনযোগ্য, স্থায়ী হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বেশি। বিজ্ঞানের অন্যান্য কল্যাণকর আবিষ্কারের মতোই পলিথিন আবিষ্কার ছিল একটি চমৎকার। কিন্তু অনেক আবিষ্কারের মতোই আজ পলিথিন আমাদের মানব সভ্যতাকেই হুমকির ভেতর ফেলেছে। পলিথিনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। পলিথিনের ব্যবহার কমাতে আমাদের নিজেদেরও পরিবর্তন করতে হবে। যেহেতু আমরা এখন জানি যে, পলিথিন আমাদের নিজেদের জীবন ব্যবস্থার জন্য হুমকি তাই আমাদের উচিত হবে নিজে থেকেই পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। অভ্যস্ত হতে হবে পাটের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ইত্যাদির ওপর। পাটের তৈরি পলিথিন ব্যাগ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে তা দ্রুত একেবারে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এটা যত দ্রুত সম্ভব হবে তত দ্রুত পরিবেশ রক্ষা করা যাবে। তাছাড়া পাটের তৈরি পলিথিন ব্যাগ টেকসই ও মজবুত। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলোজ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা এ পলিব্যাগ কয়েক মাসের মধ্যেই মাটিতে মিশে যায়। ফলে পরিবেশের জন্য নিরাপদ। তাছাড়া এখন পর্যন্ত পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সম্ভাবনা হিসেবে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ বিকল্প কিছু ব্যবহার না করলে কোনোদিনই পলিথিনের ব্যবহার কমানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে মানুষ তা ব্যবহার করবেই। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে নিজে থেকেই সচেতন হয়ে কাজটি করা যেতে পারে। পরিবেশ বাঁচাতে পলিথিনকে ‘না’ বলার কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই। নিজে সচেতন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য সদস্যদের নিরুৎসাহিত করতে হবে পলিথিন ব্যবহারে। পলিথিন উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ যদি কঠোর হাতে দমন করা যায় তাহলে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে আসবে। কারণ ব্যবহারের জিনিস না পেলে একসময় এর বিকল্প কোনো কিছু জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। প্লাস্টিক পণ্যের যেমন রিসাইকেল করা হচ্ছে সেরকম পলিথিন দিয়েও যদি কিছু করা সম্ভব হয় তাহলে পলিথিন আর এখানে সেখানে পড়ে থাকবে না। কিছুদিন আগে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, পলিথিন জ¦াল দিয়ে জ¦ালানি তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এক ব্যক্তি। সেই তেল তিনি বিক্রিও করছেন। এভাবে পলিথিন দিয়ে যদি বিকল্প কোনো শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয় তাহলে তা যেমন আমাদের জ¦ালানির অভাব পূরণ করবে অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা পাল?

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

‘বঙ্গবন্ধুর ডাকা সেই খোকা আমি জাবেদ’

‘বঙ্গবন্ধুর ডাকা সেই খোকা আমি জাবেদ’

newsgarden24.com

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ: রাজনীতি এটা একেবারে আমার শৈশবের পরতে পরতে। স্বাধীনতার সংগ্রাম আর বাবা... বিস্তারিত

লেখক আহমেদ আমিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

লেখক আহমেদ আমিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও লেখক আহমেদ আমিন চৌধুরী ... বিস্তারিত

অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ব্যবস্থাই ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর আহরণে বড় বাঁধা

অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ব্যবস্থাই ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর আহরণে বড় বাঁধা

newsgarden24.com

নিউজগার্যেন ডেস্ক: বাংলাদেশে ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য উৎপাদনকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারের ক... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকুরি মেলা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকুরি মেলা অনুষ্ঠিত

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২২ মার্চ ২০২১ চট্টগ্রাম নগরীর ওর্য়াল্ড ট্রেড সেন্টার, আগ্রাবাদে ইপসা ইনক্লুশন... বিস্তারিত

চট্টগ্রাম’র কিং অব চিটাগাং এ ৯৪’র বন্ধুরা ফিরে পেয়েছে ছাত্র জীবনের আনন্দ

চট্টগ্রাম’র কিং অব চিটাগাং এ ৯৪’র বন্ধুরা ফিরে পেয়েছে ছাত্র জীবনের আনন্দ

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক:আজ ১২ মার্চ ২০২১ইং তারিখ চাট্টগ্রামের একটি অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত

বিশ্ব কিডনি দিবস

বিশ্ব কিডনি দিবস

newsgarden24.com

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ: ১১ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস। সারা বিশ্বে কিডনি রো... বিস্তারিত

সর্বশেষ

“পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার”

“পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার”

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আজ ১৫ এপ্রিল, ২০২১ তারিখ বিকাল ৩ টায় বিজিএমইএ আঞ্চলিক কার্যালয়, বিজিএমইএ ভবন, চট... বিস্তারিত

ইসলামী ব্যাংক বরিশাল, বগুড়া ও খুলনা জোনের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন

ইসলামী ব্যাংক বরিশাল, বগুড়া ও খুলনা জোনের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর বরিশাল, বগুড়া ও খুলনা জোনের ত্রৈমাসিক ব্যবস... বিস্তারিত

রমজানে ফ্রী ইফতার অ্যান্ড সেহেরি শপ খুললো পুলিশ

রমজানে ফ্রী ইফতার অ্যান্ড সেহেরি শপ খুললো পুলিশ

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষ ও হাসপাতালের রোগী এবং স্বজনদের জন্য ব্য... বিস্তারিত

‘করোনা মোকাবেলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কভিড ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি’

‘করোনা মোকাবেলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে কভিড ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি’

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমনের ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতির কারণে উদ্ভ... বিস্তারিত