নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

newsgarden24.com    ০৭:০১ পিএম, ২০২০-০৯-১৮    115


নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মানবতার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও দলের সংখ্যা প্রচুর। ইতিহাসে এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক যারা পৃথিবীর নির্মাণ ও উন্নতি সাধনে অকাতরে শ্রম দিয়েছেন।
ইতিহাসের পাতা উল্টালেই দেখা যায় অগণন, অসংখ্য মানুষ এসে ভিড় করেছে এবং নিজেদেরকে মানবতার সেবক ও নির্মাতা হিসাবে দাঁড় করাতে যারপরনাই চেষ্টা করেছে। তারাও মানবতার সেবা ও নির্মাণের মাপকাঠিতে বিবেচিত ও উত্তীর্ণ হতে চায়। আমরাও বলি, পৃথিবী ও মানবতার তাদের সমূহ চেষ্টা-অবদান বিচার করে দেখা দরকার। সূক্ষ্ম নিক্তিতে মেপে দেখা দরকার, মানবতার নির্মাণ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের মাপকাঠিতে পরিপূর্ণভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে কে?

প্রথমেই ভাবতে হয় চিন্তাবিদ দার্শনিকদের কথা। পরম গাম্ভীর্য আর শ্রদ্ধাস্নাত এ কাফেলাটি রীতিমতোই সম্মানিত শাগরেদ হয়ে আসছে যুগে যুগে মানব সভ্যতার। বড় বড় গ্রীক দার্শনিক আর ভারত বর্ষের নামি-দামি জ্ঞান-গুরুদের ছোঁয়ায় এ কাফেলা বরাবরই ছিল অনন্য-বরেণ্য। দর্শন ও বিজ্ঞানের প্রতি দুর্বলচিত্ত  আমরা এই কাফেলার প্রতি চোখ তুলতেই আরেকবার নড়ে উঠি। অবলীলায় বলে উঠি, এরাই মানব জাতির মাথা উঁচু করেছে। মানবতার উভয় হাত জ্ঞান-বিজ্ঞানের মণি-মুক্তায় পূর্ণ করে দিয়েছে। অথচ আমরা যদি একবার একদিকদর্শিতা আর নিজস্ব লালিত বিশ্বাসের গণ্ডিমুক্ত হয়ে ভাবি এবং চিন্তা করি, আচ্ছা বিজ্ঞানী আর দার্শনিকদের এ কাফেলাটি কি মানবতার জন্য বিশেষ কোন করুণা হিসাবে চিহ্নিত হতে পারে? মানব সভ্যতার জন্য এই গোষ্ঠীকে কি রহমত বলা যায়? আচ্ছা জিজ্ঞেস করি মানবতা তাদের কাছে কি পেয়েছে?

মানবতার কোন তৃষ্ণা নিবারণ করেছে এই কাফেলা? মানবতার কোন যন্ত্রণার চিকিৎসা করেছে এই জ্ঞান গুরুর দল-দার্শনিক কাফেলা? আমরা এসব প্রশ্ন নিয়ে যতই ভাবি শূন্যতা আর দৈন্যতা ছাড়া কিছুই খোঁজে পাই না। কেবল পাই সাগর সাগর নৈরাশ্য।

আপনি নিজেই দর্শন শাস্ত্র পড়ুন। দার্শনিকদের জীবনপাতাগুলো উল্টে দেখুন! মনে হবে দর্শনের জীবন সমুদ্রে ছোট একটি দ্বীপ ছিল। কিছু রক্ষিত জায়গা ছিল। সীমানা পাতা ক্ষুদ্র একটি এলাকা ছিল। জ্ঞানগুরু-দার্শনিকরা আল্লাহ প্রদত্ত তাদের সকল শক্তি ও মেধা সেই ছোট ক্ষুদ্র রক্ষিত ভূমিতেই শেষ করে দিয়েছেন।

মানবতার যেসব চাহিদা ছিল আশু পূরণীয়, সেসব সমস্যাকে এক মুহূর্তের জন্যেও রেখে দেয়া যায় না, সেসব সমস্যার গ্রন্থি উম্মোচন ব্যতিরেকে মানবতার গাড়ি এক পা এগুতে পারে না, জ্ঞান-গুরু দার্শনিকরা সেসব সমস্যার প্রতি একবারও চোখ তুলে তাকাননি। এসব সমস্যা উত্তরণে মানবতাকে সহায়তা করা তো অনেক পরের কথা, এসব সমস্যা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা বা পর্যালোচনাও হয়নি। হয়নি কোন বাক-বিতণ্ডা। তারা বরং তাদের সেই জ্ঞানভূমিতে, চিন্তা ও দর্শনের দ্বীপ-রাজ্যে নিরাপদ শান্তিময় জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু মানবতা তো আর সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ-রাজ্যে বন্দি থাকেনি। দার্শনিকদের আবাদভূমি গ্রীকেও তো অদার্শনিক কম ছিল না। এই দার্শনিকগণ আকাশের নক্ষত্রপূঞ্জ নিয়ে খুব ভেবেছেন। নক্ষত্রের বিচরণ পথ, আকাশ-মণ্ডলী আরো কত কিছু নিয়ে মাথা ক্ষয় করেছেন, কিন্তু অদার্শনিকদের ওসব বিষয়ের সাথে কী সম্পর্ক? তা ছাড়া মানবতাই বা এসব থেকে কি পেয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা এসব দিয়ে কতটুকু উপকৃত হয়েছে?  উদভ্রান্ত, পথহারা, ম্রিয়মাণ মানবতার জন্য তারা কী করেছেন? তারা জীবন যাপন করেছেন অথচ জীবনের সাথে তাদের যেন কোন সম্পর্কই ছিল না। জীবনের চার পাশে জ্ঞান ও দর্শনের প্রাণহীন দেয়াল দিয়ে রেখেছিলেন তারা। সম্পর্কে যা ছিল কেবল দর্শনের কয়েকটি কেতাবি কথা।

এখন চলছে রাজনীতির যুগ। সর্বত্রই রাজনৈতিক হৈ চৈ। আমাদের দেশ এখন স্বাধীন। আশা করি এই উপমাটি দার্শনিকদের অবস্থা ও ভূমিকা নির্ণয়ে সাহায্য করবে। আপনারা সকলেই জানেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। কোনটা আমেরকিকার দূতাবাস, কোনটা রাশিয়ার, কোনটা ভারতের আবার কোনটা ইরানের। এসব দূতাবাসের ভিতরেও মানুষ আছে। জীবনযাপন প্রাণচাঞ্চল্য সবই আছে। সেখানে তারা খাওয়া-দাওয়া করে, পড়াশোনাও করে। অনেক বড় বড় শিক্ষিত, কূটনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নিবাস এই দূতাবাসগুলো। অথচ আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কোন বিষয়েরে সাথে এদের সম্পর্ক নেই। আমাদের পরস্পরের ঝগড়া-বিবাদের সাথেও তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের দারিদ্র্য, ঐশ্বর্য, চারিত্রিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতি-অবনতি নিয়েও তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। বরং তাদের নির্ধারিত কিছু কাজ আছে, তাও সীমিত অঙ্গনে। তারা কেবল সেই কাজ নিয়েই ব্যস্ত। তাই তারা আমাদের দেশে থেকেও যেন নেই। দর্শনের বিষয়টিও ছিল অনুরূপ। জ্ঞান-গুরু দার্শনিকরা সেই দূতাবাসের বদ্ধ নিবাসে বসে জ্ঞান চর্চায় মগ্ন থাকতেন। জীবন-যুদ্ধের সাথে তাদের তেমন সম্পর্কই ছিল না।

দার্শনিকদের পরেই আসে কবি সাহিত্যিকদের পালা। কাব্য ও সাহিত্যের প্রতি আমাদেরও ঝোঁক আছে। তাই আমরা কাব্য ও সাহিত্যকে খাটো করে দেখছি না। তবু আমি বলতে বাধ্য, কবি সাহিত্যিকরাও মানবতার ব্যথা দূর করতে সচেষ্ট হননি।

মানবতার দীর্ঘ যন্ত্রণা আর ভয়াল জখম বেদনার চিকিৎসা না করে তারা আমাদেরকে দিয়েছেন কিছু বিনোদন মাত্রা আর অবসর কাটানোর নিস্ফল সওদা। সন্দেহ নেই তারা আমাদের সাহিত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু মানবতার ব্যথায় বিমূঢ় হয়নি তাদের মাথা। মানবতার সংস্কার ও সংশোধনের চিন্তা করতে পারেননি তারা। আর এটা তাদের সাধ্যাতীতও বটে।

জীবনের উত্থান পতন হয়েছে। মানবতা ভেঙ্গেছে-গড়েছে। আর কবি সাহিত্যিকরা বসে বসে মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনিয়েছেন। এর উদাহরণ হল এমন, মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় নিপতিত। কেউ জ্বলছে, কেউ যুদ্ধ করে মরছে। আরেকজন বাঁশীওয়ালা মিষ্টি সুরে বাঁশী বাজাচ্ছে আর হাঁটছে। হতে পারে লড়াকু যোদ্ধা আর অসুস্থ জনেরা তার সুরে কিছুটা হলেও আমোদিত হবে। ভাবের ভোগে শরিক হবে। কিন্তু তার সেই সুরমুর্ছনায় জীবনের সমস্যা তো পার হবে না। অধিকন্তু তার সুরে সমস্যার জট খোলার কোন নির্দেশনাও নেই। তবুও আমাদের জীবন সাহারায় কাব্য ও সাহিত্যের প্রয়োজন আছে। আমাদের আত্মা ও বিবেক শাণিত করি। প্রাণিত করি কাব্য-সাহিত্যের ছোঁয়ায়। কিন্তু এতে জীবন সমস্যার তো সমাধান হচ্ছে না। রক্তাক্ত জীবন-যুদ্ধের দাওয়া তো এখানে নেই। আর আমাদের কবি সাহিত্যিকরাও কোন বিষয়ে কখনো চাপাচাপি করেন না। বিশেষ কোন লক্ষ্য ও টার্গেটে তারা সংকল্পবদ্ধ হন না। তাই সে জন্যে জীবন-পণ লড়াই তাদের করতে হয় না। তা ছাড়া লড়াই সংগ্রাম তাদের নাগালভুক্তও নয়। অথচ সংগ্রাম ও যুদ্ধ ছাড়া কোন সংস্কার বা বিপ্লব হতে পারে না। এ কারণেই সংস্কার ও সংগ্রামের ইতিহাসে কবি-সাহিত্যিকদের পদচারণা তেমন একটা নজরে পড়ে না।

তৃতীয় পর্যায়ে আমরা ভাবতে পারি বিজয়ী বীরদের কথা। যাদের তরবারির আঘাতে ঝরে পড়ে যায় পতাকা, খান খান হয়ে যায় সিংহাসন। যারা দেশের পর দেশ জয় করে সৃষ্টি করেন ইতিহাসের নতুনধারা। এবং স্বাভাবিকভাবেই আমরা এই বিজয়ীদের প্রতি অনেকটা দুর্বল থাকি। তাদের তলোয়ারের ঝনঝনানি যেন আজও আমাদের কানে বাজে। বাহ্যত তাদের চিৎকার শুনে মনে হয়, তারা মানবতার জন্য অনেক কিছু করেছেন।   কিন্তু তাদের ইতিহাস কি তাই বলে? তাদের ইতিহাস কি ন্যায় ও ইনসাফের ইতিহাস, না ত্রাস ও নারকীয়তার ইতিহাস? আলেকজান্ডারের নাম শোনাতেই মানুষের স্মৃতিপটে ভেসে উঠে তার নির্যাতনের বর্বর কাহিনীগুলো। তাই কোনক্রমে তাদের মানবতার বন্ধু হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না। আলেকজান্ডার তো গ্রীস থেকে ভারত পর্যন্ত দেশের পর দেশ উলট পালট করে দিয়েছিল। শত দেশ শত জাতি তার অত্যাচারে যাবতীয় শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে হয়েছিল বঞ্চিত। তার মৃত্যুর হাজার বছর পরও পতিত নির্যাতিত জাতিগুলো উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তা ছাড়া চেঙ্গিস খানদের অবস্থাও এর থেকে ভিন্ন নয়। পৃথিবীর খ্যাতনামা অন্যান্য বিজয়ীরাও অনুরূপ জীবনধারায় ছিল অভ্যস্ত। তাই বিজয়ী যোদ্ধারা হতে পারে স্বীয় দেশ ও জাতির জন্য বন্ধু, বরং পরম বন্ধু। কিন্তু অন্যদের জন্য নিঃসন্দেহে আগ্রাসন ও বিপদ।
চতুর্থ পর্যায়ে আমরা ভাবতে পারি সেই সব সংগ্রামী জীবন যোদ্ধাদের কথা- যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। এদের কথা ভাবতে গেলে শ্রদ্ধায় অবনত হই আমরা। সন্দেহ নেই তারা আমাদের মাতৃভূমির জন্য অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়– যারা অন্য দেশের বাসিন্দা তাদের জন্য কি করেছেন তারা?

আপনি নিশ্চয় আব্রাহাম লিংকনের নাম শুনেছেন। আধুনিক আমেরিকার স্থপতি তিনি। কিন্তু তিনি ভারত, মিশর, ইরাকসহ অন্য দেশের জন্য কি করেছেন? সন্দেহ নেই আমেরিকাকে এক নম্বর সুপার পাওয়ার হিসাবে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি, কিন্তু বিশাল পৃথিবীর জন্য গোলামি ও দাসত্বের নব শৃঙ্খল কি সৃষ্টি হয়নি এতে? সাদ যগলুলের কথাই ভাবুন! তিনি মিশরবাসীর জন্য এক আশীর্বাদ পুরুষ। মিশরের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিত্ব। কিন্তু মিশরীয়দের জন্য তো তিনি কিছুই করতে পারেননি। মূলত এই জাতিপূজা স্বদেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও অন্য দেশ ও জাতির জন্য এক মহাবিপদ। কারণ, জাতিপূজা আর জাতীয়তাবাদের মূল প্রেরণাটাই হল, নিজের জাতির মাথা উঁচু করা আর অন্য জাতির মাথা নীচু করা। এই প্রেরণা ও বাসনা পূরণ করার লক্ষ্যে স্বীয় জাতির মাথা উঁচু করতে গিয়ে অনেক জাতিকে দাসত্বের শিকলে আবদ্ধ করতে হয়। এমনকি নিজেও সেই জাতির দাসত্ব মেনে নেয়। এ কথার সাথে কারো দ্বিমত নেই।

পঞ্চম পর্যায়ে আমরা ভাবতে পারি আধুনিক বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারকদের কথা। নিঃসন্দেহে তারা জাতিকে অনেক নতুন নতুন বিষয় উপহার দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় অনেক অভিনব আসবাবপত্র আবিষ্কার করেছেন। তাদের এ সেবা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ, তাদের এসব আবিষ্কার মানবতার জন্য উপকারী। বিদ্যুত, বিমান, রেডিও তাদেরই অবদান। এ জন্যে তাদের অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। এবং মানুষ এসব আসবাবপত্র দিয়ে প্রতিনিয়ত আমোদিত-আস্বাদিত হচ্ছে। তারপরও একবার ভেবে দেখুন, শুধু এসব আবিষ্কারই কি মানব ও মানবতার জন্য যথেষ্ট? এসব আবিষ্কারের সাথে যদি সদিচ্ছা না থাকে, ধৈর্য ও সংযম না থাকে, সৃষ্টির প্রতি দরদ ও আন্তরিকতা না থাকে, সেবার মনোভাব না থাকে, আর যদি এর দ্বারা মানবতার মৌলিক সমস্যা ও চাহিদার সমাধান না হয়, তাহলে আপনিই বলুন, এই সৃষ্টি মানবতার জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ?

আমাদের বিজ্ঞানীরা মানবগোষ্ঠীকে নতুন নতুন অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু সেগুলো ব্যবহারের সঠিক চেতনাটা দিতে পারেনি। এই নব্য আবিষ্কারকে কাজে লাগাবার মত মন ও অনুভূতি দিতে পারেনি তাদেরকে। এসব সৃষ্টি ব্যবহার করে অনাসৃষ্টির সম্ভাব্য পথ পরিহার করার পরামর্শ ও শিক্ষা দিতেও দৈন্যের পরিচয় দিয়েছে আমাদের বিজ্ঞানীরা।

ইতিমধ্যে আমরা দুটো বিশ্বযুদ্ধ দেখেছি। আধুনিক আবিষ্কারের জঘন্য ব্যবহারের প্রদর্শনী আমাদেরকে অনেক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি, চারিত্রিক প্রশিক্ষণ আর আল্লাহপ্রীতি ছাড়া আধুনিক আবিষ্কার ও সৃষ্টি শুধু অভিশাপই নয়- মানব ও মানবতার জন্য এক মহাত্রাস, ভয়ানক আজাব।

আমি কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানীদের ছোট করে দেখছি না, আমি বরং বলছি, এসব আবিষ্কার ও সৃষ্টির সাথে সুচিন্তা, শুভলক্ষ্য, সুন্দর চরিত্র ও নিয়ন্ত্রিত বিবেক-বুদ্ধির সমন্বয় দরকার। যদি এসবের সমন্বয় ছাড়া সৃষ্টি ও আবিষ্কার হয় তাহলে সেটা হবে অসম্পূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের ভিতরে সদিচ্ছার উদয় না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সুন্দর ও মঙ্গলজনক কাজ করতে তাদের নিজেদের মধ্যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাবে না, শত উপায়-উপকরণ, অজস্র সুযোগ-সুবিধা তাদেরকে সৎ ও সাধু বানাতে পারবে না। মনে করুন আমার কাছে দেয়ার মত অর্থ আছে। নেয়ার মত অসহায় মানুষও আছে অনেক। আমাকে বাধা দেয়ার মত কেহ নেই। কিন্তু আমার মধ্যে দান করার মত প্রেরণা ও আগ্রহ নেই। তাহলে আমাকে দান করতে, অসহায়কে সাহায্য করতে কে উৎসাহিত করবে?

এসবের বাইরে আরেকটি মানব কাফেলা আছে। তারাও আমাদের মত মানুষ। তারা আল্লাহ তায়ালার নবী। তাঁর নির্বাচিত দূত কাফেলা। তারা কখনো নিজেদের আবিষ্কারক বা বিজ্ঞানী বলে দাবি করেন না। তারা নিজেদেরকে জ্ঞান-গুরু হিসাবেও দাবি করেন না। কবি-সাহিত্যিক হিসাবেও গর্ব নেই তাদের। তারা নিজেদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেন না। আবার অনর্থক নিজেদেরকে খাটোও করেন না। তাঁরা বরং অত্যন্ত বলিষ্ঠ, সহজ ও সরল ভাষায় বলে দেন, তারা এই পৃথিবীতে তিনটি বিষয় প্রদান করেন।

এক. বিশুদ্ধ জ্ঞান,
দুই. সেই জ্ঞানের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস,
তিন. সেই জ্ঞান ও বিশ্বাস মোতাবেক জীবন-যাপন করার অমিততেজ অনুপ্রেরণা।

এই হল নবী আদম (আ.) থেকে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সকল নবী রাসুলের শিক্ষার সারসংক্ষেপ।

এ পর্যায়ে আমি সেই জ্ঞানের কথা বলতে চাই, নবী ও রাসুলগণ মানবজাতিকে যে জ্ঞান শিক্ষা দেন। হ্যাঁ, তাঁরা মানবজাতিকে এ কথাই শিক্ষা দেন, এই পৃথিবীকে কে বানিয়েছেন? কেন বানিয়েছেন?

নবীর কথা হল, প্রথমেই আমাদের জানতে হবে, আমাদেরকে কে সৃষ্টি করেছেন? আমাদেরকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যই বা কী? এসব জিজ্ঞাসার সমাধান করেই আমাদেরকে এগুতে হবে। নইলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই হবে ভুল। আমাদের সকল প্রচেষ্টাই হবে বৃথা। অধিকন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে এ পৃথিবীকে, এ পৃথিবীর একটি পরমাণুকেও কাজে লাগাবার, ব্যবহার করার অধিকার নেই আমাদের।

কারণ, এ পৃথিবীর যাবতীয় কর্মকাণ্ড, বচন-উচ্চারণ, খানা-পিনা, উঠা-বসা, এ পৃথিবীরই একটি ক্ষুদ্র অংশ। সুতরাং এ বিশাল বিশ্ব সম্পর্কে যখন আমি কিছুই জানব না, এর মূল নিয়ামক ও পরিচালক শক্তি সম্পর্কে আমি থাকব অজ্ঞ, অধিকন্তু এই নিখিল ভুবন সৃষ্টির মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথেও যখন আমার একাত্মতা নেই, তখন এই পৃথিবীর কোন কিছু থেকেই উপকৃত হবার, আস্বাদিত-আমোদিত হওয়ার অধিকার আমার নেই। এই বিশ্ব নিয়ন্তার উপলব্ধি ও তার বিশ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য না জেনে আমি একটি রুটির গায়েও আঙ্গুল বসাতে পারি না। আমি যেভাবে এই বিশাল দুনিয়ার একটি অংশ, এই রুটির একটি টুকরোও এই বিশাল পৃথিবীর একটি অংশ। শুধু তাই! আমরা এ পৃথিবী নামক যে গ্রহটিতে অবস্থান করছি এটাও সেই বিশাল জগতের একটি ক্ষুদ্র অংশ।

আচ্ছা বলুনতো, গ্রহ-নক্ষত্রের বিশাল জগতে আমাদের এই পৃথিবীটার কি দাম আছে? গ্রহ-নক্ষত্রের বিশাল রাজ্যে আমাদের এই পৃথিবীর গুরুত্বের কথা জানতে পারলে আপনি সত্যিই লজ্জা পাবেন। শুধু ছোট একটি সূর্যের তুলনায় আপনার এই পৃথিবীটাকে একটু মেপে দেখুন। আর আপনার এই মহান দেশ! আচ্ছা, এটাকে কি কোন তুলনায় আনা যায়? এবার বলুন এই বিশাল জগত সম্পর্কে আপনার মত ক্ষুদ্র সত্তাকে কে অবহিত করল? কার মহিমায় এ বিশাল রাজ্যের সাথে আপনার সম্পর্ক গড়ে উঠল? নিশ্চয় এ বিশ্ব জগতের স্রষ্টার অনুগ্রহে। এবং যে উদ্দেশ্যে তিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন সেই উদ্দেশ্যের খাতিরেই তো পরিচয়ের এই সেতু। অথচ এই মহান সৃষ্টিকর্তাকে যদি আপনি না জানেন কিংবা না মানেন, তার দেয়া জীবন লক্ষ্যই যদি আপনার মনঃপূত না হয় তাহলে তাঁর জগতের ক্ষুদ্র একটি দানা-পানি কি আপনি ব্যবহার করতে পারেন? সেই অধিকার কি আপনার আছে?

আমি জানতে চাই, আপনার হাতে খাবারের যে টুকরা আছে, এই টুকরাটি যদি আপনাকে প্রশ্ন করে বসে এবং বলে, – হে মানব! আমিতো তোমার সৃষ্টিকর্তাকে চিনি এবং তার আদেশমাফিক তোমার তরে আমি আমার অস্তিত্বকে বিলীন করে দিচ্ছি। কিন্তু তুমি! তুমি তো তোমার সৃষ্টিকর্তাকে জানো না। তাঁর বন্দেগিও কর না। তাহলে তুমি কোন অধিকারে আমাকে ভোগ করবে? বলুন, তখন আপনি কি জবাব দেবেন?

শুধু খানা-পিনাই নয়, পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু ব্যবহারের সময়ই এ কথা ভাবতে হবে– এর সৃষ্টিকর্তা কে? কেন সৃষ্টি করেছেন তিনি এটা।

কিন্তু এক আজব ট্রাজেডি। আজ পৃথিবীর সকল কাজ চলছে। বাজারে প্রাণ-চাঞ্চল্যের তরঙ্গায়িত প্লাবন। যোগাযোগ সম্পর্ক গড়ে উঠছে-বৃদ্ধি পাচ্ছে নিয়ত। গাড়ি চলছে। বাড়ি গড়ছে। চলছে কল-কারখানা। অথচ কারোরই এ কথা জানবার অবসর নেই, আচ্ছা – এতো কিছু যে হচ্ছে এগুলোর সৃষ্টিকর্তা কে? আর কেন-ই বা তিনি এত কিছু বানালেন?

নবী মুহাম্মদ (সা.) যখন এ পৃথিবীতে আগমন করেন, তখনও মানবতার গাড়ি চলছিল। তবে লক্ষ্যহীন। দার্শনিক, বিজ্ঞানী, কবি-সাহিত্যিক, বিজেতা, শাসক, কৃষক এবং ব্যবসায়ী সকলেই ছিল প্রচণ্ড ব্যস্ত। কারোরই মাথা উঠাবার সুযোগ ছিল না।

আপন পেশা ও কর্মে যেন উবু হয়ে পড়ে আছে সকলে। তখন শাসকও ছিল, শাসিতও ছিল। অত্যাচারী ছিল, অত্যাচারিতও ছিল। কিন্তু তারা জানতো না কে তাদের সৃষ্টি করেছেন। তারা খোঁজে দেখেনি কেনই বা এ পৃথিবীতে তাদের আগমন। এই অজ্ঞ, লক্ষ্যচ্যুত মানবগোষ্ঠীর কাছেই একজন বিশাল মানবের আগমন হয়। তিনি এসে মানবতার পতাকাবাহীদের জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা বলতো, তুমি মানব জাতির প্রতি কেন এই অত্যাচার করেছো? তাদেরকে প্রভুর সন্ধানটি পর্যন্ত দাওনি। সারা জাহানের বাদশার দরবার থেকে টেনে এনে নিজের গোলাম বানিয়ে রেখেছো। কোন অধিকারে তুমি অপূর্ণ কিশোর মানবতাকে অন্যায় পথে তুলে দিয়েছ? হে অত্যাচারী ড্রাইভার! তুমি যাত্রীকে জিজ্ঞেস না করেই কোন দিকে জীবনতরী ভাসিয়ে দিয়েছ?
তিনি মানবতার হৃদয়ে দাঁড়িয়ে জানতে চান, চিৎকার করে ডাক দেন। তাঁর প্রশ্নের উত্তর না দেয়ার উপায় নেই। পাশ কাটাবার পথ নেই। তাঁর এই চিৎকার শুনে মানুষ দু দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল তাঁর ডাকে সাড়া দেয়। অন্যদল অস্বীকার করে।

অবশ্য এ দুটো ভিন্ন তৃতীয় কোন পথ নেই।

নবীরা কখনো এ কথা বলেন না, আমি কোন গুপ্ত ধনের সন্ধান নিয়ে এসেছি। মানুষের শক্তিকে যাদুর কাঠি বুলিয়ে কাবু করবার মত কোন চমকও তাদের দেখান না। নতুন কোন আবিষ্কারও তাঁদের স্লোগানের অন্তর্ভুক্ত হয় না। ভূগোল কিংবা খনিজ সম্পদ বিষয়ে বিশেষ কোন দক্ষতার দাবিও তাঁরা করেন না। তাঁরা বরং বলেন, আমরা এই বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তার সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে মানুষকে সঠিক ও যথার্থ ধারণা দেই- তাঁর দেয়া জ্ঞানের আলোকেই। এবং আমাদের মাধ্যমেই তাকে খোঁজে পাওয়া সম্ভব।

তারা আরো বলেন, এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা একজন। তাঁরই আদেশ ও ইচ্ছাকল্পে এই পৃথিবী চলছে। এই পৃথিবীর শাসন ও সৃষ্টিতে তাঁর কোন শরিক নেই। এই পৃথিবীকে লক্ষ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি তিনি এবং এর যাত্রাও উদ্দেশ্যহীন নয়। এই জীবনের পর আরেকটি জীবন আছে। সেই জীবনে এই জীবনের হিসাব নেয়া হবে। সেখানে ভাল কর্মের পুরস্কার আর মন্দ কর্মের শাস্তি পেতে হবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে আইন ও বিধান যারা নিয়ে এসেছিলেন এবং যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ বলে দেন তাঁরাই নবী, তাঁরাই রাসুল। তাঁরা সকল দেশে সকল জাতির কাছে একই আহবান নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের নির্দেশনা ব্যতীত কেউ আল্লাহ তায়ালার পথ অতিক্রম করতে পারে না। তাঁদের এই আহবান, এই নির্দেশনা শাশ্বত। তাদের মত ও পথে কোন বিরোধ নেই, দ্বিমত নেই। অথচ দু’জন দার্শনিক কোন একটি বিষয়ে একমত হতে পারেন না।

তবে জানা থাকলেই যে বিশ্বাস থাকবে এমনটিও আবশ্যক নয়। আমরা আজকাল কত কিছুই তো জানি। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস কত ক্ষীণ, কত দুর্বল। জ্ঞান সবক্ষেত্রেই বিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে না। প্রাচীনকালে কত দার্শনিক জীবনভর একমুঠো বিশ্বাস জমাতে পারেনি। এই সভ্য যুগেও সন্দেহের ব্যাধিতে আক্রান্তদের সংখ্যা কম কোথায়? কিন্তু নবীগণ শুধু জ্ঞান দান করেই ক্ষ্যান্ত হন না, সঙ্গে সঙ্গে সেই জ্ঞানের প্রতি বিশ্বাসও সৃষ্টি করেন। কারণ, জ্ঞান অবশ্যই বড় সম্পদ। কিন্তু তার চাইতেও বড় সম্পদ হল, বিশ্বাস। যে জ্ঞানে বিশ্বাস নেই সে জ্ঞান শুধু জিহবার অলংকার, মন মগজের বিলাসপত্র আর অন্তরের ভণ্ডামি মাত্র। এসব পঙ্কিলতার বহু ঊর্ধ্বে ছিলেন নবীগণ। তাঁরা সর্বদাই স্বীয় অনুসারীদের ইলম ও জ্ঞানের পাশাপাশি দান করেছেন অসীম বিশ্বাস। তাঁরা যা কিছু জেনেছেন সে অনুযায়ী কাজও করেছেন। প্রয়োজনে সেই জ্ঞানের আলোকে জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হননি তাঁরা। জ্ঞান তাঁদের মন মগজে আলো বিচ্ছুরণ করত। তাঁদের হৃদয়কে করত অগাধ সাহসী ও শক্তিমান। তাঁদের

সেই সাহস ও শক্তির কাহিনী আজ আমাদের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আমাদের পুরনো ইতিহাসের সোনালী অংশ।

তাঁদের পারিপার্শ্বিক পৃথিবীর দিকে তাকালেই আমরা তাঁদের সেই জ্ঞান ও বিশ্বাসের স্বাক্ষর দেখতে পাই।

আজ পৃথিবীতে বিশ্বাস নেই বলেই বিশ্বজুড়ে অপরাধের এই সয়লাব। কারণ, যদি বিশ্বাস থাকত তাহলে অন্যায় অবিচারের এই তুফান বইতো না। সমাজের সর্বত্র ঘুষ ও সূদের তাণ্ডব হতো না। এসব অপরাধ অজ্ঞানতার কারণে হচ্ছে এমনতো নয়। কারণ চুরি করা অপরাধ এটা কে না জানে? সূদ হারাম এটাতো সকলেরই জানা। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা অন্যায়, এটা কার অজানা? জানে সকলেই, কিন্তু বিশ্বাস নেই। আমরা বরং লক্ষ্য করছি, যেখানে জ্ঞানের প্রতিযোগিতা তুঙ্গে সেখানেই অপরাধের বাজার বেশি গরম। যারা সূদের অপকারিতা জানে, এই বিষয়ে বই লিখেছে তারাও সূদ গ্রহণে অগ্রণী। বার বার ছিনতাই ডাকাতির শাস্তি ভোগ করার পরও ডাকাতিতে লিপ্ত হয়। বার বার জেল খাটার পরও তারা অপরাধে লিপ্ত হয়। অপরাধ ও তার শাস্তি সম্পর্কে তারা অজ্ঞ নয়। অথচ তারা আপন পথে অবিচল।

তাই যদি বিদ্যাটাই যথেষ্ট হতো তাহলে একবার চুরির শাস্তি ভোগ করার পর আর চুরি করার কথা ছিল না। অথচ শাস্তি ভোগ করার পরও অপরাধী অপরাধ ছাড়ছে না। এতেই প্রমাণিত হয়, শুধু জানাটাই যথেষ্ট নয় জ্ঞানের সাথে বিশ্বাসের মিলন অপরিহার্য।

জ্ঞান আবশ্যক। সেই জ্ঞানের প্রতি বিশ্বাসও আবশ্যক। কিন্তু জানার সাথে বিশ্বাসের মিলন হলেই কি তা বাস্তবে রূপায়িত হতে পারে? অনেক ক্ষেত্রেই তো এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। কত লোক আছে যারা জানে মদ পান করা ভাল নয়। এর যেসব ক্ষতি আছে তার প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস আছে। অথচ মদ পান করে যাচ্ছে রীতিমত। ধূমপান ক্ষতিকর। এটা জানে সকল লোক।

বিশেষ করে চিকিৎসকরা তো ভালো করেই জানে। অথচ ধূমপায়ী ডাক্তারের সংখ্যা কি খুব নগণ্য?

আসল কথা হল, অন্যায় ত্যাগ করার মনোভাব ও স্পৃহা থাকতে হবে। দেখা যায়, অপরাধের নেশাকে জানা সত্ত্বেও পরাজিত করতে পারছে না অনেকেই। নবীগণের এটাও একটা স্বতন্ত্র অবদান। তারা জ্ঞান ও বিশ্বাসের পাশাপাশি অপরাধ বর্জনের মত স্পৃহাও তৈরি করেন মানুষের ভেতর। সে স্পৃহা বলে তারা অন্যায় চাহিদাকে পরাজিত করতে পারে। যার বলে নবীদের অনুসারীরা তাদের জ্ঞান ও বিশ্বাসকে কাজে লাগাতে পারেন। সে মাফিক জীবন গড়তে পারেন। তাদের হৃদয় তাদের অভিভাবকত্ব করে। অন্যায় কর্মে বলিষ্ঠ হতে বাধা প্রদান করে।

সর্বকালের সকল নবী তাঁর অনুসারী জাতিকে এই তিনটি সম্পদ দান করেছেন। এই শক্তির পরশেই লক্ষ কোটি মানুষ পথের সন্ধান পেয়েছে।   জীবন বদলে গেছে তাদের। তাই মানবতার প্রতি সত্যিকার অর্থে যদি কেউ করুণা করে থাকে সেটা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম করেছেন। তারা মানবতাকে পথ দেখিয়েছেন। তাদেরকে যথাসময়ে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
কিন্তু ধীরে ধীরে পৃথিবী এই সম্পদই হারাতে বসেছে। বিশুদ্ধ জ্ঞান নেই। বিশ্বাসের প্রদীপও নিভে গেছে। সৎকর্মের আগ্রহ আজ কবরবাসী। খৃষ্টাব্দ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এসে মানবতার এই তিন সম্পদ এত দুর্লভ হয়ে পড়েছিল -তার ঠিকানা পাওয়াও ছিল মুশকিল। কোথাও এসবের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। দেশের পর দেশ খুঁজে এমন একজন আল্লাহর বান্দা পাওয়া যেত না যার নিকট সঠিক জ্ঞানের আলো আছে। এমন কোন আদম সন্তান পাওয়া যেত না যার আত্মায় বলিষ্ঠ ঈমান ও বিশ্বাস আছে। নবীগণ যে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে আগমন করেছিলেন তা সংকুচিত হতে হতে এক বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। বর্ষাভেজা আঁধার রাতের জোনাকীদের সংশয় ও অপরাধের অন্ধ জগতের কোথাও ঝলকে উঠত সেই আসমানি আলো। ঈমান ও বিশ্বাসের সে এক দুর্ভিক্ষ কাল। সে কালে একজন দুর্বার বিশ্বাসীর সন্ধান ও সংস্পর্শ ছিল স্বপ্নসম। সালমান ফারেসি (রাজিআল্লাহু তায়ালা আনহু) বিশ্বাস ও সততার সন্ধানে বেরিয়েছিলেন। ইরান থেকে সিরিয়া, সেখান থেকে হিজরা পর্যন্ত সফর করে মাত্র চার জন বিশ্বাসীর সাক্ষাত পেয়েছিলেন তিনি।

এই নিশ্ছিদ্র আঁধার আর আবিশ আচ্ছাদিত তমসার জগতেই আবির্ভাব হলো সর্বশেষ নবীর। তিনি এলেন। জ্ঞান, বিশ্বাস ও সৎকর্মের প্রতি অগাধ স্পৃহার মশাল হাতে করেই এলেন। আর তা এমনভাবে ঘোষণা করলেন- এত ব্যাপক প্রচার করলেন যে, অল্প সময়ের ব্যবধানে সে আলো মহল্লা, শহর ও রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ল।

তিনি এসে কেবল জ্ঞান, বিশ্বাস আর আদর্শের শিক্ষাই দেননি শুধু, মানুষের মধ্যে এসবের প্রাণ সৃষ্টি করেছেন। বরং সে ছিল এক শিঙ্গার ধ্বনি। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের কোন কান বলতে পারবে না, এ আওয়াজ আমি শুনিনি। যদি কেউ এর দাবি করে এটা তার সংকীর্ণতা। আহবানকারীর সীমাবদ্ধতা বা সংকীর্ণতা নয়।

পৃথিবীতে কি আজ এমন আবাদ ভূমি আছে যেখানে ‘আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আশ হাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ এর ধ্বনি উচ্চারিত হয় না? পৃথিবীর সকল কণ্ঠ যখন ম্লান-অবসন্ন হয়ে পড়ে, জাগ্রত সকল শহরে যখন ঘুমের নিরবতা নেমে আসে, সর্বত্র যখন বাক-বিরতির গাঢ় নিস্তব্ধতা, তখনও কান পেতে দিন, কানময় আলোড়িত হবে সেই সুর– আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ তাঁরই রাসুল।

রেডিওর মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে যে কোন কথা দেশ থেকে দেশান্তরে। আহবান পৌঁছে যায় মানুষের ঘরে ঘরে। কিন্তু আমেরিকা কিংবা বৃটেনের কোন রেডিও কি আজ পর্যন্ত তাদের কোন বক্তব্যকে এতটা ছড়াতে পেরেছে যতটা ছড়িয়েছে এই আহবান? অথচ এই আহবান আরবের এক নিরক্ষর নবীর। সাফা পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে একদিন তিনি উচ্চারণ করেছেন এই আহবান।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাওহিদের যে স্লোগান উচ্চারণ করেছিলেন, তার সুর ও আহবানে পৃথিবীর সকল ধর্ম, সকল দর্শন ও সকল চিন্তাই কম বেশি প্রভাবিত হয়েছে। তিনি সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছেন, মানুষের প্রভু মাত্র একজন। আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করা চরম অপমানের বিষয়। আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.) এর সামনে ফেরেশতাদের মাথা ঝুঁকিয়ে দিয়েছেন যাতে আদম সন্তানেরা আর কারো সামনে নিজেদের মাথা নত না করে। এবং তারা যেন বুঝতে পারে, সৃষ্টির এই মহান গোষ্ঠির মাথাই যখন আমাদের সামনে অবনত, তখন আমরা তো পৃথিবীর কারো সামনে নত করতে পারি না আমাদের মাথা।

যেদিন থেকে পৃথিবীর মানুষ এই তাওহিদের মর্মকথা শুনেছে সেদিন থেকে শিরক নিজে নিজেই লজ্জায় অবনত হয়েছে।

পরাজয় বরণ করেছে নিজে নিজেই। মুহাম্মদের কণ্ঠে উচ্চারিত তাওহিদ-একত্ববাদের সুর-ই ভিন্ন। এখানে তাওহিদের রয়েছে নিজস্ব ব্যাখ্যা। রয়েছে তার স্বতন্ত্র দর্শন। সেখানে তাওহিদ আত্মার গহীনে আশ্রয় পেয়েছে।

অতঃপর মুহাম্মদ (সা.)  ইলম ও বিশ্বাসের সাথে এমন এক শক্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন যাতে সহস্র পুলিশ, অযুত-লক্ষ আদালত ও প্রশাসনের চেয়ে অধিক ক্ষমতা নিহিত। সত্যের প্রতি অনুরাগ, মন্দের প্রতি অনীহা আর জবাবদিহিতার আত্ম-উপলব্ধিই সেই শক্তি।

মূলত এই চেতনা এই শক্তির বরকতে -এক সাহাবি পাপ কর্মে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই– অনুশোচনায় অস্থির হয়ে পড়েন।

কেঁপে উঠে হৃদয় তার গভীর বেদনায়। দৌড়ে আসে সে নবীজির দরবারে। এসে নিবেদন করে, হে রাসুল! আমাকে পবিত্র করে দিন! রাসুল (সা.) চেহারা ফিরিয়ে নেন। সে আবার মুখোমুখি দাঁড়ায়, আরজ করে, আমাকে পবিত্র করুন! রাসূল মুখ ফিরিয়ে নেন। সাহাবি আবার সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রিয় নবীজি খোঁজ-খবর নেন- সে আবার মানসিক রোগী নয়তো? জানতে পারেন, লোকটি সম্পূর্ণ সুস্থ। নবীজি তাকে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করেন। প্রশ্ন হল, কোন শক্তি তাকে শাস্তি গ্রহণে উৎসাহিত করল?

এখানেই কি শেষ? গামেদিয়া গোত্রের সেই নিরক্ষর নারীর কাহিনী শুনুন। সে নারী থাকত অজপাড়াগাঁয়ে। একবার শয়তানের ফাঁদে পড়ে একটি পাপে জড়িয়ে পড়ল লোকচক্ষুর অন্তরালে। কেউ দেখেনি, শুনেওনি। কিন্তু হৃদয় তার দগ্ধ হল বিবেকের দংশনে। কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিল না। এক রাশ তপ্ত জ্বালা তাকে তাড়া করে ফিরছিল। খানা-পিনা কিছুতেই তৃপ্তি নেই। খানা খেতে বসলেই খাবারই যেন তাকে প্রতিবাদ করে বলে, তুমি অপবিত্র! পানির কাছে গেলে পানি তার আত্মায় আঘাত করে, তুমি অপবিত্র। তার ভিতর রাজ্য ভরে একটি আওয়াজ সে শুনতে পায়, তুমি অপবিত্র, তোমার আবার খানা-পিনার কি অধিকার? তোমাকে প্রথমে পবিত্র হতে হবে। শাস্তি তোমাকে পেতেই হবে। শাস্তি ছাড়া তোমার বিকল্প পথ নেই। কী আর করবে সে। হাজির হয় নবীজির খেদমতে! আবেদন জানায় আমাকে শাস্তি দিন। আমাকে পবিত্র করে দিন। নবীজি খোঁজ নেন। জানতে পারেন, তার গর্ভে সন্তান আছে।

নবীজি ইরশাদ করেন, আচ্ছা, তুমি না হয় পাপ করেছো, কিন্তু গর্ভের সন্তানটির কী অপরাধ? তার জন্ম হবে যখন, তখন আসবে।

প্রিয় পাঠক! একবার ভাবুনতো। সন্তান প্রসব হতে কি কিছু সময় খরচ হয়নি? এই সময় সে কি খানা-পিনা করেনি?

খানা-পিনার স্বাদ, জীবনের রূপ-রস কি তাকে বাঁচার আহবান জানায়নি? সে তো আটক ছিল না। সে চাইলে কি নবীজির দরবারে হাজিরা দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারত না? কিন্তু আল্লাহর এ বান্দির অবস্থা দেখুন! সে তার সংকল্পে স্থির।

কিছু দিন পর নবীজির দরবারে এসে হাজির। বিনীত কন্ঠে আওয়াজ করছে, হে রাসূল! আমি তো অবসর হয়ে গেছি। এখন আর দেরি কেন, আমাকে পবিত্র করে দিন।

নবীজি বললেন, না, না, তাকে দুধ পান করাতে হবে না? সে যখন দুধ ছাড়বে তখন এসো। সকলেই জানে এতে আরো দু’বছর সময় বেড়ে গেল। কত কঠিন পরীক্ষা কাল এটা। কোন পুলিশ নেই। কোন পাহারাদার নেই। মুকাদ্দামা নেই। মুচলেকা নেই। জামিন-জামানত কিছুই নেই। এই সময় জীবনের কত চিত্র সে দেখেছে। কল্পনার আকাশজুড়ে কত স্বপ্ন উড়েছে। অবুঝ নিষ্পাপ শিশুর হৃদয়কাড়া অবয়ব, নিবিড় শান্তির হাসির পল্লব। আর নিঃশব্দ উচ্চারণ- মা, আমিতো তোমার কোলেই বড় হব-মা! তোমার হাত ধরে হাঁটব। ঝাঁপিয়ে পড়ব সুখে-দুখে তোমারই বুকে।

এই আহবান কি উপেক্ষা করা যায়? কিন্তু তার হৃদয় বলছে, তুমি নাপাক। তুমি অপবিত্র। তোমাকে পবিত্র হতে হবে। হৃদয় তাকে শাসন করছিল, তোমাকে না একদিন আহকামুল হাকেমিনের কাছে দাঁড়াতে হবে শেষ বিচারের দিনে। সে দিনের শাস্তি কিন্তু ভয়ানক।

হৃদয়ের শাসনকে উপেক্ষা করতে পারল না সে। তাই সে হাজির হল নবীজির দরবারে। কোলে নিষ্পাপ শিশু। শিশুর মুখে তুলে দিয়েছে এক টুকরো রুটি। এসে আরজ করল, হে রাসূল! আমার সন্তান রুটি খেতে শিখেছে। দুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে সে। আর দেরি নয়। এবার আমাকে পাক করে দিন।

অবশেষে আল্লাহ তায়ালার এই মুখলিস, মুহসিন বান্দিকে শাস্তি দেয়া হল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার সৌভাগ্যের সনদ দান করেন। ইরশাদ করলেন, আল্লাহ তাঁর এ বান্দির তওবা এমনভাবে কবুল করেছেন, যদি তার এ তওবা মদিনাবাসীর মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়, তাহলে তা সকলের নাজাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

আমি বলি, এমন কী বিষয় ছিল, এমন কোন শক্তি ছিল যা তাকে কোন ধরনের হাতকড়া, মুচলেকা ও অন্যান্য জামানত ছাড়াই আদালতে হাজির হতে বাধ্য করেছিল। কোন সেই অদৃশ্য ক্ষমতা যা তাকে পুলিশের পাকড়াও ছাড়াই মাথা পেতে শাস্তি নিতে বাধ্য করেছিল। আজকের পৃথিবীতে তো শি??

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

নওগাঁয় বন্যায় ৩৮ হাজার কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি

নওগাঁয় বন্যায় ৩৮ হাজার কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি

newsgarden24.com

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় বন্যায় ১১টি উপজেলায় ৫ হাজার ৭শ ৮২ হেক্টর জমির রোপা আমন ধা... বিস্তারিত

একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প

একজন শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সালমার সফলতার গল্প

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মিস সালমা আক্তার। পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক। জন্মস্থান চাঁদপুর হলেও জন্ম, বেড়ে ও... বিস্তারিত

শুধু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গকন্যার জয়গানে বিভোর ছিলেন ডা. জাকেরিয়া চৌধুরী

শুধু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গকন্যার জয়গানে বিভোর ছিলেন ডা. জাকেরিয়া চৌধুরী

newsgarden24.com

মুহাম্মদ মহরম হোসাইন: সবাই পদপদবী ও চেয়ারের পাগল। রাজনীতি করলে পদ পেতে হবে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করতে ... বিস্তারিত

এতিমদের নিয়ে জন্মদিন পালন রাউজান পৌর কাউন্সিলর আজাদের

এতিমদের নিয়ে জন্মদিন পালন রাউজান পৌর কাউন্সিলর আজাদের

newsgarden24.com

মোজাফফর হোসাইন সিকদার: পবিত্র খতমে কোরআন, মিলাদ, ক্বেয়াম, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে ৪১ ত... বিস্তারিত

নওগাঁয় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

নওগাঁয় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

newsgarden24.com

মো.আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি। অ... বিস্তারিত

পূজা মন্ডপে স্থায়ী পুলিশ না দেয়ার সিদ্ধান্তে সনাতন সম্প্রদায় শংকিত: মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ

পূজা মন্ডপে স্থায়ী পুলিশ না দেয়ার সিদ্ধান্তে সনাতন সম্প্রদায় শংকিত: মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আসন্ন শারদোৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর চট্ট... বিস্তারিত

সর্বশেষ

নওগাঁয় মহাদেবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় মহাদেবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

newsgarden24.com

মো.আককাস আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় মহাদেবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হ... বিস্তারিত

পূজা উপরলক্ষে হাজারী গলিতে স্বল্প আয়ের মানুষদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

পূজা উপরলক্ষে হাজারী গলিতে স্বল্প আয়ের মানুষদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরী হাজারী গলির ঐতিহ্যবাহী শারদীয় দূর্গোৎসবের উদ্যোগে মহা সপ্তম... বিস্তারিত

ইপিজেড থেকে চসিক সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে নূন্যতম সাভিস চার্জ পেতে পারে: সুজন

ইপিজেড থেকে চসিক সড়ক অবকাঠামোগত উন্নয়নে নূন্যতম সাভিস চার্জ পেতে পারে: সুজন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, বাংলাদে... বিস্তারিত

কর্ম ও মানবতাই হলো মানুষের বড় ধর্ম: সুজন

কর্ম ও মানবতাই হলো মানুষের বড় ধর্ম: সুজন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, কর... বিস্তারিত