বিশ্বমানবতার প্রেমে উৎসর্গীত এক মহান বাঙালি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

newsgarden24.com    ১০:২৩ পিএম, ২০২০-০৮-৩১    110


 বিশ্বমানবতার প্রেমে উৎসর্গীত এক মহান বাঙালি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

মুহাম্মদ এহছানুল হক মিলন: সভ্যতার পরিক্রমায় যুগে যুগে বহু প্রতিভাধর মানুষের অবির্ভাব হয়, যারা তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ থেকে অতি সাধারণে পরিণত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম। বাংলা সাহিত্যের ভান্ডারে তার সৃষ্টি সম্ভারগুলো আপন আলোয় আলোকিত।
বৃটিশ শাসন ও শোষণের মহা দুর্যোগময় মুহূর্তে পরাধীনতার জিঞ্জিরাবদ্ধ এদেশের দুঃখময় নিমর্ম বাস্তবতা এড়িয়ে দূরে-বহুদূরে নিভৃতে নিরালয় ফুলের সৌরভ মাখানো নিকুঞ্জে বসে হৃদয়ে ভালবাসার জোয়ার তুলে অনেকেই যখন প্রেমের ছন্দ সাজাতেন, নির্যাতিত অসহায় মানুষের আর্ত চিৎকার এবং করুণ আহাজারিতে শব্দ শুনে কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে অনেকে যখন না শোনার ভান করতেন’ উপরন্তু অত্যাচারী ঔপনিবেশিক শোষক শ্রেণীর স্মৃতিগান গাওয়ায় মগ্ন থাকতেন । তখন একটি মাত্র হৃদয় কেঁদে উঠতো সে হৃদয় মানবতাবাদী এক মহান কবির সংবেদনশীল, প্রেমিক হৃদয় । তিনি আর কেউ নন, আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম । তবে তাঁর সে কান্নার চোখ থেকে অশ্রু ঝরার পরিবর্তে, মন থেকে বেদনার বহিঃপ্রকাশের পরিবর্তে হৃদয় হতে রক্তক্ষরণের পরিবর্তে জ্বলে উঠতো বিদ্রোহ আর বিপ্লবের লেলিহান শিখা । তাই তো আর বসে না থেকে যে বিপ্লবের পথে নব চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন শপথে নতুন উদ্দীপনায় অত্যাচারের রাহু গ্রাস থেকে মানবতার মুক্তির জন্য সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংগ্রামী আহ্বানের গান গেয়েছেন তিনি ”আনন্দময়ীর আগমনী”তে বলেছেন-
”আর কতকাল থাকবি বেটি/মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?/স্বর্গ যে আজ করেছে/অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল!../রণাঙ্গণে নামবে কে আর/তুই না এলে কৃপাণ ধরে?”
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কবি নজরুল মর্মে মর্মে পলে পলে অনুভব করেছেন আর্ত মানবতার ব্যথা-বেদনা । মানবতার উপর এতটুকু নির্যাতন তাঁর চোখ এড়ায়নি । যেখানেই অত্যাচার হয়েছে সেখানেই বারুদের মতো জ্বলে উঠেছেন তিনি; মসীর ঘায়ে অত্যাচারীর শরীরকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন বারবার । তিনি শুধু অত্যাচারীকে আঘাত করেই ক্ষান্ত হন নি অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়িয়েছেন আশার আলোকবর্তিকা হাতে- নিরাশার মনে জুগিয়েছেন ভরসা, দুর্বলের প্রাণে তুলে দিয়েছেন শক্তির তোহফা । তাইতো সে সময় যখন অবচেতন হয়ে শোষকদের পদতলে মানবের দল নিষ্প্রাণ দেহের মত পড়ে থাকত-ওদের পদাঘাতকেও অমৃত মনে করে একান্ত বাধ্যানুগতের মত তা মেনে নিত নিঃসঙ্কোচে-নির্দ্বিধায়; কবি তখন মানবের ঘুমন্ত বিবেককে আঘাত করেছেন জাগরণের গান দিয়ে, নিজস্ব ব্যক্তিত্বের অহংকারে জেগে উঠার উদাত্ত আহ্বানে তাঁর ”যুগবাণীতে” অবচেতনের চেতনা জাগাতে চেয়েছেন এভাবে-
”তুমি কি চাও? কুকুরের মত ঘৃণ্য মরা মরিতে,/না মানুষের মত মরিয়া অমর হইতে?/তুমি কি চাও?শৃংখল না স্বাধীনতা?/তুমি কি চাও? তোমাকে লোকে মানুষের মত ভক্তি-শ্রদ্ধা করুক,/না পা-চাটা কুকুরের মত মুখে লাথি মারুক?”
মাটির কাছাকাছি থেকে কবি মানুষকে একান্তভাবে ভালবেসে ছিলেন বলেই সাত তলা আর গাছ তলার পার্থক্য তিনি বুঝতে পেরেছিলেন । তিনি বুঝেছিলেন- সমাজের প্রভাবশালী অর্থাৎ জমিদার, রায়ত, ঘাতক,বাবুসাব আর কৃষক, শ্রমিকম কুলি মজুরসহ সর্বস্তরের মেহনতি মানুষের মাঝে বিরাট এক পাথ্যক্যের দেয়াল উঠেছে । তাঁর  উপলদ্ধিতে এসেছিল- বিদেশী ঔপনিবেশিক শোষকরাই শুধু নয়, দেশীয় ঠাকুররাও লেখনীতে তাই স্খরিত হয়েছে এদের অত্যাচারী হাত মানবতাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে । তারঁ লেখনীতে তাই স্খরিত হয়েছে আরেক বেদনাময় সুরের ব্যঞ্জনা-
”তোমাদের সেবিতে হইল যারা মজুর, মুটে ও কুলি,/তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগালো ধূলি!/তারাই মানুষ-তারাই দেবতা!/জনগণকে যারা জোঁকস মশোষে তারে মহাজন কয়,/সন্তানসম পালে যারা জমি তারা জমিদার নয়/মাটিতে যাদের ঠেকেনা চরণ/মাটির মালিক তাহারাই হন ।” ধর্মীয় শৃংখল আর ধ্বংসাত্মক সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে সর্ব পর্যায়ের অসহায় মানবতার কল্যাণ কামনা করেছেন তিনি।
সাহিত্য-সংস্কৃতির জগতে প্রথিতযশা ব্যক্তিগণ তাদের কর্মভিত্তিক এক একটি বিশেষ অভিধায় অভিষিক্ত হন। এই সকল অভিষিক্ত নাম দিয়ে কিছু কিছু ব্যক্তিকে খুব সহজে চেনা যায়। যেমন- বাউল স¤্রাট বললে লালন কে, বিশ্বকবি বললে রবীন্দ্রনাথকে, পল্লীকবি বললে জসীম উদ্দীনকে বোঝায়। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে তার সাহিত্য কর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন অভিধায় অভিহিত করা হয়ে থাকে।
যেমন-

(১)    বাঙালীর জাতীয় কবি: কবি তার সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বাঙালী জনগোষ্ঠীর প্রায় অধিকাংশ জাতি, উপজাতি, শ্রেণি, গোষ্ঠীর জীবনাচরণ, কথা, ভাষা, সংস্কৃতি উঠে এসেছে। দখলদার বৃটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা এবং বিপ্লবী ধারার লেখালেখির জন্য ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর উপস্থিতিতে তাকে বাঙালী জাতির ‘জাতীয় কবি’ হিসাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়। বিশ্বে যত বাঙালি আছেন তার সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি- কবি নজরুল ইসলাম তাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসাবে পরিচিত হয়ে গেছেন। ১৯৭১ সালে ”বাংলাদেশ” রাষ্ট্র” গঠিত হওয়ার ৪১ বছর আগে কবি কাজী নজরুল ’বাঙলাদেশ’ নামে পূর্ণাঙ্গ কবিতা রচনা করেন- নম, নম, বাংলাদেশ মম....। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই অকপটে বলেছিলেন. ’সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী,/ রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করো নি।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ , তোমার সে কথা আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে । তুমি এসে দেখে যাও, আমার বাঙালি মানুষ হয়েছে ।’
(২)    বাংলাদেশের জাতীয় কবি: তারপর ৪ মাস ১৪ দিনের মাথায় ভারতের কলকাতা থেকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত আন্তরিক প্রচেষ্টায় কবি নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে এসে ধানমন্ডির ২৭ নম্বরের পাশে ২৮ নম্বর রোডে কবি ভবনে(বর্তমান নজরুল ইনস্টিটিউটে) বাঙালির জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধের সময় নজরুলের অসংখ্য গান, কবিতা- আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে এ মর্যাদা দেয়া হয়। ২৫ মে, ১৯৭২ সালে প্রথম নজরুল জন্মজয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলকে নিয়ে এক বাণীতে বলেন, ’কবি নজরুল বাঙলার বিদ্রোহী-আত্মা ও বাঙালির স্বাধীন ঐতিহাসিক সত্তার রূপকার । বাঙলার শেষ-রাতের ঘনান্ধকারে নিশীথ-নিশ্চিন্ত নিদ্রায়  বিপ্লবের রক্তলীলার মধ্যে বাঙলার তরুণরা শুনেছে রুদ্র-বিধাতার অট্টহাসি, কাল-ভৈরবের ভয়াল গর্জন—নজরুলের জীবনে, কাব্যে, সঙ্গীতে ও তাঁর কন্ঠে।  প্রচন্ড সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের মতো, লেলিহান অগ্নিশিখার মতো, পরাধীন জাতির তিমির-ঘন অন্ধকারে বিশ্ববিধাতা নজরুলকে এক স্বতন্ত্র ছাঁচে গড়ে পাঠিয়েছেন এই ধরার ধূলায়।
(৩)     গোদা কবি বা ওস্তাদ কবি ও ব্যাঙ্গাচি: নজরুলের বয়স যখন মাত্র ১২/১৩ বছর, তখন অর্থ উপার্জনের তাগিদে তিনি নিমসা, চুরুলিয়া ও রাঘাখড়া- এই তিনটি লেটো নাচের দলে নাটক ও গান রচনার দায়িত ¡পান। তার রচনা এত ভালো হতে লাগলো যে, তাকে ওস্তাদ কবি বা গোদা কবি বলে সবাই ডাকতে থাকে। তখন কার বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চকোর নজরুলকে ব্যাঙ্গাচি আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, এই ব্যাঙ্গাচি বড় হয়ে সাপ হবে। বলাবাহুল্য কবিয়াল শেখ চকোরের এই ভবিষ্যদ্বাণী বৃথা হয়নি।
(৪)    সৈনিক কবি ও হাবিলদার কবি: ১৯১৭ সালের জুলাই মাসে কবি নজরুল ৪৯ বেঙ্গল  ব্যাটালিয়নে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসাবে যোগ দেন। এ-সময় কবি নজরুল দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। করাচি সেনানিবাস থেকে কবি কলকাতার সওগাত পত্রিকার জন্য লেখা পাঠাতেন। তখন থেকে কবি নজরুল সওগাত পত্রিকার সদস্য ও পত্রিকার পাঠকদের কাছে সৈনিক কবি হিসাবে চিহ্নিত হন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব সুধাকান্ত রায় চৌধুরী সৈনিক কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলে সম্বোধন করতেন। নজরুল সৈনিক জীবনে কর্মদক্ষতার গুণে দ্রুত হাবিলদার পদে পদোন্নতি পান। কবি মোহিতলাল মজুমদার মোসলেম ভারত পত্রিকার সম্পাদককে লেখেন, “যাহা আমাকে সর্বাপেক্ষা বিস্মিত ও আশান্বিত করে, তাহা আপনার পত্রিকার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি লেখক হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলাম সাহেবের কবিতা, বহুদিন কবিতা পড়িয়া এত আনন্দ পাই নাই, এমন প্রশংসার আবেগ অনুভব করি নাই।” মোহিতলাল মজুমদার ভিন্ন আরও অনেক কবি নজরুলকে “হাবিলদার কবি” বলতেন।
(৫)    বাঁধন হারার কবি: কবি নজরুলের ‘বাঁধনহারা’ পত্রোপন্যাস প্রকাশ পাবার পর এত আলোড়ন সৃষ্টি হয় যে সাহিত্যিক মহল তাকে ‘বাঁধনহারার কবি’ বলতে থাকেন।
(৬)    শাতিল আরবের কবি: কবি নজরুলের ‘শাতিল আরব’ নামক কবিতাটি- মোসলেম ভারত পত্রিকার ১৩২৭ সালের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় প্রকাশিত হলে এতই জনপ্রিয় হয় যে, তখন অনেকেই নজরুলকে ‘শাতিল আরবের কবি’ হিসাবে আখ্যায়িত করতে থাকেন।
(৭)    যুগ¯্রষ্টা নজরুল: নজরুল গবেষক এবং নজরুলের সান্নিধ্যে কবি-সাহিত্যিক খান মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন নজরুলকে যুগ¯্রষ্টা নজরুল বলে অভিহিত করেন। তিনি এই অভিধায় একটি গ্রন্থও রচনা করেন, আল হামরা লাইব্রেরি গ্রন্থটি ১৯৫৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চার বারেরও বেশি পুনঃমুদ্রণ করেন।
(৮)    বিদ্রোহী কবি: ‘বিদ্রোহী কবিতাকে বাংলা সাহিত্য তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার একটি বলে উল্লেখ করেন আমেরিকান অধ্যাপক জনাব হেনরি গ্লাসি। হেনরি গ্লাসির এই উক্তির সাথে  অসংখ্য সাহিত্য সমালোচক সহমত পোষণ করেন। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে কলকাতার ৩/৪ সি তালতলা লেনের ভাড়াবাড়িতে এক রাতেই কবি নজরুল বিদ্রোহী কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় সাংবাদিক অবিনাশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের মাধ্যমে ‘বিজলী’ পত্রিকায় ৬ জানুয়ারি ১৯২২ সালে। তবে সময়ের এক হিসাবে ‘মুসলিম ভারত’ পত্রিকার কার্তিক সংখ্যা ১৩২৮-এ। যদিও পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়  পৌষ ১৩২৮ সালে। সে কারণে কবিতাটির প্রথম প্রকাশকারি হিসাবে ‘মুসলিম ভারত পত্রিকা’ দাবিদার। তবে যাইহোক, বিজলী পত্রিকার মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্য প্রথম বিদ্রোহী কবিতাটিকে দেখতে পায়। বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর এর চাহিদা এত বেশি হয় যে, বিজলী পত্রিকার ঐ সংখ্যা দুইবারে মোট ২৯ হাজার কপি ছাপানো লাগে। কোন কবিতার জন্য একটি পত্রিকা দুইবার মুদ্রণ করার নজির আর কোন সময় হয়েছে বলে জানা নেই। বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর সমগ্র ভারতে হৈ চৈ  পড়ে যায়। রাজনৈতিক দৃষ্টিতে ব্রিটিশ সরকার নড়েচড়ে ওঠে। কবি নজরুলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে শুরু করে। এরপর নজরুল তার সাহিত্য কবিতা, গানে, নাটকে বিদ্রোহাত্মক বিভিন্ন লেখা লিখতে শুরু করেন। সকল মহলে ‘গোদা কবি’ থেকে হয়ে ওঠেন ‘বিদ্রোহী কবি’। বিশ্ব সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ ‘বিদ্রোহী কবি’ বলতে কবি কাজী নজরুল ইসলামকেই বোঝায়। বিদ্রোহী সাহিত্য চর্চার কারণে নজরুলের পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ ইংরেজ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং আরও পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত তালিকায় রাখে। বিশ্বে আর কোন কবি নেই যার এতগুলো গ্রন্থ বাজেয়াপ্তের কবলে পড়ে।
(৯)    বিশকবি: কবি নজরুল তার কাব্যের ভাষা, বিষয়মান, গুরুত্ব সবকিছু বিবেচনায় বর্তমান বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। বর্তমানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সকল ভাষায় নজরুল সাহিত্য অনুদিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এখন বিশ্বের প্রায় চল্লিশটা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল সাহিত্য পড়ানো হচ্ছে। বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর কবি নজরুলকেও অনেকে ‘বিশ্বকবি’ বলেন। এর কারণ বিশ্ব বাংলাভাষার ওপর ভিত্তি করে একটি মাত্র দেশ বাংলাদেশ, বিশ্বের যত দেশ আছে সকল দেশে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসাবে নজরুলের বিশেষ পরিচয় বহন করছে। তাছাড়া নজরুল সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিশ্বের নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত, বঞ্চিত, মানুষের পক্ষের কণ্ঠস্বর, বিশ্বের শ্রমিকের অধিকার, নারীর অধিকার, পরাধীন জাতির অধিকার, কৃষকের অধিকার প্রভৃতি বিষয়ে নজরুলের লেখনী যেভাবে কথা বলেছে তার তুলনা খুব কমই আছে। এ কারণেও নজরুলকে অনেকে ‘বিশ্ব মানবতার কবি’ বলে থাকেন। ২০০৫ সালে খুলনার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক নজরুল মেলাও আয়োজন করা হয়। মেলা শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রতিবেদনে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় অভিহিত করা হয়। এছাড়া নজরুলকে ‘বিশ্বমাপের’, বিশ্বমানের, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিশ্ব মানবতার’, ‘বিশ্ব মানুষের মুক্তির কবি প্রভৃতি বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. সুনীল ভট্টাচার্য (সাহিত্যকণ্ঠ ১ আগস্ট, ২০০৮, পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫)
(১০)    সাম্যের কবি: এই অভিধাটিও নজরুলে জন্য একান্ত নিজস্ব। বিশ্বের কোনো কবিকেই এই অভিধায় অভিহিত করা যায় না। মানবিক সাম্যের বাণী নিয়ে নজরুল অপেক্ষা এত উদাত্ত সোচ্চার বলিষ্ঠ বক্তব্য আর কেউ রেখেছেন কিনা সন্দহ । যেমন-
ক) গাহি সাম্যের গান/মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই/নহে কিছু মাহিয়ান।
খ) উহারা প্রচার করুক হিংসা-বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ/আমরা বলিব সাম্য, শান্তি -এক আল্লাহ জিন্দাবাদ।
গ) চাষা বলে কর ঘৃণা দেখ চাষা রূপে লুকায়ে জনক বলরাম এল কিনা/যত নবী ছিল মেষের রাখাল তারাও ধরিল হাল/ তারাই আনিল অমর বাণী যা আছে রবে চিরকাল (মানুষ কবিতা, সর্বহারা।
ঘ) ওকে? চাল? চমকাও কেন? নহে ও ঘৃণ্য জীব/ওই হতে পারে হরিশচন্দ্র ওই শ্মাশনের শিব।
ঙ) দেখিনু সে দিন রেলে/কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে। চোখ ফেঁটে এলো জল/এমনি করিয়া কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
চ) শোন মানুষের বাণী/জন্মের পরে মানব জাতির থাকে নাকো কোন গ্লানি।
ছ) সকল কালের সকল দেশের সকল মানুষ আসি/এক মোহনায় দাঁড়াইয়া শোন এক মিলনের বাঁশি।
উপরের উদাহরণসমূহ থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, কাজী নজরুল ইসলাম কতখানি মানবতাবাদী ও সাম্যের কবি ছিলেন। এই বক্তেব্যের সাথে সহমত পোষণ করেন বিশিষ্ট প্রবন্ধকার রহমান শেলীসহ আরো অনেকে।

(১১)    নারী চেতনার কবি: আমার জানা মতে, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বের প্রথম পুরুষ কবি, যিনি নারীদের মর্যাদা, অধিকার, সম্মান প্রতিষ্ঠায় সর্বাপেক্ষা সোচ্চারভাবে তার কাব্যে ও সাহিত্যে বক্তব্য রেখেছেন। উদাহরণ হিসাবে তার ‘নারী’ কবিতার কথা বলা যায়। এই একটি কবিতাই বিশ্বের তাবৎ নারীদের পক্ষে যে সুদৃঢ় বক্তব্য ব্যক্ত করেছে তার নজির বিশ্ব সাহিত্য বিরল।
ক) বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর....।
খ) কোন কালে একা হয়নি ক জয়ী পুরুষের তরবারি/প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী।
বস্তুত উপরে উল্লেখিত উদাহরণ-ই বলে দেয়, নজরুল কত বলিষ্ঠ ‘নারীবাদী কবি’ ছিলেন। নজরুল একমাত্র কবি যার সাহিত্যে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছে।
(১২)    ধর্ম নিরপেক্ষ কবি: বিশ্বের অধিকাংশ কবি ধর্ম নিয়ে যখন সাহিত্যচর্চা করেছেন তখন কেবল তার নিজের ধর্মকে নিয়েই লিখেছেন। নজরুল এক্ষেত্রে অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন। তিনি বিশ্বের চারটি ধর্মকে নিয়েই সাহিত্যচর্চা করেছেন। তার ওপর উপ-মহাদেশের প্রধান দুটি ধর্ম হিন্দু ও ইসলাম ধর্মীয় সমাজকে নিয়ে আরও বেশি মাত্রায় লিখেছেন। তিনি হিন্দু ধর্মীয় ভাবধারায় যেমন- শ্যামা সঙ্গীত, ভাব সঙ্গীত, ভজন প্রভৃতি লিখেছেন তেমনি ইসলামী ভাবধারায়ও হামদ-নাত ও গজল লিখেছেন। যেমন-
ক)  গাহি সাম্যের গান যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান/ যেখানে মিশেছে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান। (সাম্যবাদী)
খ) আমি হিন্দু না মুসলমান ও জিজ্ঞাসে কোন জন.....।
(১৩)    ইসলামী রেঁনেসার কবি: কবি নজরুল ইসলামী ভাবধারায় কবিতা গান লেখার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের আর্থ-সামাজিক, মানসিক, মানবিক উৎকর্ষ সাধন বা জাগরণের জন্যও কবিতা গান লিখেছেন। যেমন-
ক) কোথা সে আজাদ কোথা সে পূর্ণমুক্ত মুসলমান/আল্লাহ ছাড়া করেনা কারেও ভয় কোথা সেই প্রাণ।/কোথা সে আরিফ, কোথা সে ইমাম, কোথা সে শক্তি বীর/মুক্ত যাহার বাণী শুনি কাঁদে ত্রিভুবন থরথর।
খ) বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান/দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কেল্লায় ওড়ে নিশান।
গ) দিকে দিকে পুনঃজ্বলিয়া উঠেছে দ্বীন-ই-ইসলামী লাল মশাল/ওরে বে খবর তুইও ওঠ জেগে তুইও তোর প্রাণপ্রদীপ জ্বাল।  এই সব গান ও কবিতার কারণে নজরুল বিশ্ব মুসলিমের ‘রেঁনেসার কবি’ হয়ে উঠেছেন।

(১৪)    মানবতাবাদী কবি: কবি নজরুলকে সাম্যবাদী কবি বলার পাশাপাশি তাকে ‘মানবতাবাদী কবি’ও বলা হয়। নজরুল কাব্যে মানবতাবোধ অত্যন্ত গভীরভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। যেমন-
ক) আমি সেই দিন হব শান্ত যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না/ অত্যাচারির খড়গকৃপান ভীম রণভুমে রণিবে না। এছাড়া নজরুলের ‘সামাবাদী’ ‘মানুষ’ ‘নারী’ প্রভৃতি অসংখ্য কবিতা ও গানে বিশ্ব মানবতার আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। তাই নজরুলকে ‘মানবতাবাদী কবি’ বলা হয়। নজরুল ব্যক্তিগত জীবনেও যথেষ্ঠ মানবতাবাদী ছিলেন। ধর্মীয় বেড়াজাল, বংশীয় আশরাফ, আতরাফের শ্রেণীবিভেদ, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ধনী-গরীব অঙ্গীয় সৌষ্ঠবের সাদা-কালো বিভেদ এসব কিছুই নজরুল অত্যন্ত সজাগ ও আত্মজ অনুভূতিতে একাকার করে দেখেছেন। তাই নজরুল ছিলেন স্বভাবজাত ‘মানবতাবাদী কবি’।
(১৫)    শিশুতোষ কবি: বাংলা সাহিত্যে যে ক’জন শিশু সাহিত্যিক আছেন, নজরুল তাদের মধ্যে অন্যতম। যদিও বাংলা সাহিত্যে অনেক শিশু সাহিত্যিক আছেন তবুও নজরুল এক্ষেত্রে ভিন্নভাবে তার আসনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষত শিশুতোষ গানে নজরুল এখনো অনন্য। ‘ভোর হলো দোর খোলো’, ‘কাঠ বিড়ালী’, ‘লিচু চোর’ ‘প্রজাপতি’ প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই, এমনও রঙিন পাখা’ প্রভৃতি অনেক আকর্ষনীয় ও মজাদার ছড়া, গান, কবিতা নজরুল রচনা করেছেন। যা আমাদের শিশুরা যেমন আগ্রহ করে আবৃত্তি করে, তেমনি গায়। শিশুদের নাচের গানের ক্ষেত্রে শিশু কিশোরদের ভাবধারা প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন মোমের পুতুল, মোমের দেশের মেয়ে নেচে যায়, বিহবল চঞ্চল পায়, নাচে ইরানী মেয়ে নাচে, লাল টুকটুক বউ যায় গো ইত্যাদি। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলাম অনেক শিশুতোষ বেতার নাটক রচনা করেছেন, যা তৎতালীন কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছে। আর এসব কারণেই নজরুলকে ‘শিশুতোষ কবি’ বলা হয়।

(১৬)    রোমান্টিক কবি: বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক কবিদের মধ্যেও নজরুলের আসন অনেক অনেক উপরে। রোমান্টিক গানের ক্ষেত্রে নজরুলের তুলনা নজরুল নিজেই । কতকগুলো গানের উল্লেখ করলেই বিষয়টি আরও সহজবোধ্য হবে।
ক) মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী/ দেব খোপায় তারার ফুল, কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতি চাঁদের দুল।
খ) তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সে কী মোর অপরাধ।
গ) এ রকম অসংখ মর্মস্পর্শী রোমান্টিক গানের  ¯্রষ্টা কাজী নজরুল ইসলাম। সে কারণে তাকে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ‘রোমান্টিক বা প্রেমের কবি’ বলা হয়।
(১৭)    সুর স¤্রাট কবি: কবি নজরুলকে গানের সুর স¤্রাট বলা হয়। গানে কত বিচিত্র সুর রাগ যে তিনি সংমিশ্রণ করেছেন তা সত্যিই বিস্ময়কর। নজরুল নিজেই কয়েকটি রাগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ২৯টি সুর তাঁর গানে সন্নিবেশিত করেন। শুধু তাই নয়, নজরুল তার গানে অসংখ্য মিশ্র রাগ মিশ্র সুর সংযুক্ত করেন। এখানেই শেষ নয়। নজরুল তার গানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ও ভাষার গানের সুর রাগের মিশ্রণ ঘটান। যেমন- মিসরীয়, আরবী, কানাডীয়, ইরানী, শাওতালী, কর্নাটকী, বেদে, পাহাড়ী, মাঝি-মাল্লা প্রভৃতি এলাকা ও জাতির গানের সুর নজরুলের গানে এসেছে। বিশ্বের কোন কবি গীতিকারের গানে সুরের ক্ষেত্রে এত বৈচিত্রময় সুরের খেলা দেখা যায় না। পৃথিবীর কোন ভাষার গানে এত বৈচিত্রময় সুর ও রাগের সংমিশ্রণ দেখা যায় না। এসব কারণে কবি নজরুলকে গানের জগতে ‘সুরের স¤্রাট’ বলা হয়।
         (১৮)  তারুণ্যের কবি: নজরুলকে ‘তারুণ্যের কবি’ বলা হয়। নজরুল সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে তারুণ্যের জয়গান। যেমন-
        ক) চল্ চল্ চল্ .....
         খ) থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে .....
গ) ছাত্র দলের গান .....। প্রভৃতি গান ও কবিতা বাংলা তরুণ ও সুর সমাজকে
বিশেষভাবে উজ্জীবিত করে। নজরুল নিয়ত তরুণদের মতো ভাঙা গড়ার খেলায় সাধনা করেছেন। যৌবনের জয়গান নজরুল সাহিত্যের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সমাজ বিনিমার্ণে তরুণ ও যুব সমাজকে কবি নজরুল বারংবার বিভিন্নভাবে আহ্বান জানিয়েছেন। তাই নজরুলকে ’তারুণ্যের কবি’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
(১৯)    বহু ভাষায় কবি: কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা, উর্দু, আরবী, ফার্সি, ইংরেজি,                       হিন্দী, সংস্কৃতি প্রভৃতি ভাষা জানতেন এবং এ সকল ভাষায় তিনি সাহিত্য চর্চাও করেছেন। বাংলা সাহিত্যে কেন বিশ্ব সাহিত্য খুঁজলেও এতো অধিক ভাষায় সাহিত্য চর্চা করার নজির মেলা ভার। বিশ্বে অনেক বহু ভাষাবিদ আছেন যেমন- ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কিন্তু বিশ্বের অন্যতম ৭টি ভাষায় সাহিত্য চর্চা করার দৃষ্টান্ত কেবল শুধু নজরুলই দেখিয়েছেন। শুধু বিভিন্ন ভাষায় সাহিত্য চর্চাই নয় বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণে সাহিত্য চর্চার দৃষ্টান্ত কেবল নজরুল সাহিত্যেই অধিক পরিমাণে প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন-
         ক) দাঁড়ি মুখে সারিগান লা শরীক আল্লাহ
         খ) আলগা করগো খোপার বাঁধন দিল উহি মেরী ফাঁস গায়ী প্রভৃতি।
(২০)    বাউল কবি: নজরুল সাহিত্যে বাংলা গানের অন্যতম দিক বাউল গান বা মরমীগান এ ক্ষেত্রে লালনকে স¤্রাট বলা হলেও নজরুলও এ বিষয়ে যথেষ্ট বলিষ্ঠভাবে পদাচরণা করেছেন। যেমন-
ক) আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল আমর দেউল আমারেই আপন দেহ/ আমার এ প্রাণের ঠাকুর নহে সুদূর অন্তরে মন্দির গেহ (রণগীতি)
খ) এ দেহেরই রঙ মহলায় খেলিছে লীলা-বিহারী/মিথ্যা মায়া, এ কায়া, কায়ায় হেরি ছায়া তারি। (গুলবাগিচা)
গ) দেখিয়াছ সেই রূপের কুমারে গড়িছে যে এই রূপ রূপে রূপে হয় রূপায়িত যিনি নিশ্চল নিশ্চুপ। তবে সরাসরি বাউল কবি হিসাবে নজরুল চিহ্ণিত না হলেও তিনি যে বাংলা বাউল সঙ্গীত জগতে বড় ভূমিকা রেখেছেন সর্বজন স্বীকৃত ।
(২১) দার্শনিক কবি: বিশ্বের প্রায় সকল কবি ভাবনার গভীরে প্রবেশ করে প্রকৃতির রূপ রস আস্বাদন করেন কিন্তু সকল কবি দার্শনিক কবি হয়ে ওঠেননি। কবি নজরুল ভাব বক্তব্যের গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি সৃষ্টিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, মনতত্ত্ব নির্ভর করে অনেক দার্শনিক তত্ত্বকে উন্মোচিত করেছেন। এগুলো যদিও সুফিবাদের আলোকে গড়ে ওঠা বাউল সঙ্গীত,ভাব সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে,তবু মধ্যে ফুটে উঠেছে নজরুলের নিজস্ব দর্শন।
যেমন-
 ক) মোরে ’আমি’ ভেবে তারে স্বামী বলি দিবাযামী নামি উঠি/কভু দেখি-আমি তুমি     যে অভেদ কভু প্রভু বলে ছুটি।
খ) আমি ছিনু পথ ভিখারিনী তুমি কেন পথ ভুলাইলে/মুসাফিরখানা ভুলায়ে আনিলে কোন     এই মঞ্জিলে?
(২২) চারণ কবি: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে ক’জন চারণ কবি হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। নজরুল জীবনীকারগণ বলেছেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে কবিতা গান রচনায় নজরুল ছিলেন অতুলনীয়, সরাসরি হারমোনিয়াম নিয়ে নতুন করে গান সৃষ্টি করে গান রচনা ও পরিবেশনায় নজরুল দক্ষ ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় কুমিল্লার রাজপথে নজরুল হারমোনিয়াম নিয়ে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন। এ কারণে তাকে পুলিশের হাতে বন্দীও হতে হয়। বন্ধুদের আড্ডায় যখনতখন তিনি গান রচনা করতে পারতেন।এরকমএকটিগান‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী দেব খোপায় তারার ফুল। বাসে, ট্রেনে চলতে চলতে চায়ের দোকানে বসে,বিয়ের আসরে প্রভৃতি স্থানে নজরুলকে গান রচনা করতে,গান গাইতে দেখা গেছে। তাই নজরুল বিশ্বের অন্যতম চারণ কবিদের একজন ।
(২৩)     কবি পুরুষ: বর্তমান বাংলা ভাষায় সব্যসাচী কবি আল মাহমুদ কবি নজরুলকে কেবল কবি না বলে “কবি পুরুষ’ বলেছেন, এর কারণ হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন যে,নজরুল একমাত্র কবি যিনি তার সাহিত্যচর্চার মাধমে সমকালীন সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সেই সাথে তার নিয়ন্ত্রণও করেছেন। সামাজিক কুসংস্কার, অনিয়ম, অবক্ষয়, পরাধীনতা ইত্যাতির বিরুদ্ধে তিনি এ.ত বেশি সোচ্চার ছিলেন যে সমকালীন শুধু নয় পূর্বপর কোন কবির ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
(২৪) ভাষা বিদ্রোহী: কবি আল মাহমুদ কবি নজরুলকে ‘ভাষা বিদ্রোহী’ কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করেছেন। কারণ নজরুল তার সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে ভাষার সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেননি। তিনি যখন যেমন খুশি তার সাহিত্যে বাংলা, উর্দু, আরবী, ফার্সি, ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃতি প্রভৃতি ভাষার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন।
(২৫)     স্বাধীনতার কবি: ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের ভূমিকা অনেক বেশি সাহসী ওব্যাপক। কবি নজরুল প্রথম বাঙালী, যিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ধূমকেতু পত্রিকায় তিনি বলেন,‘ও সব স্বরাজ-টরাজ বুঝি না, চাই ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতা’। নজরুল আরও বলেন,‘ভারতের এক পরমানু অংশও ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকবে না’। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানবিরোধী আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন একককোন কবির গান প্রচারের ক্ষেত্রে নজরুলের কবিতা গানই ছিল সর্বাধিক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে যুদ্ধ চলাকালীন নজরুলের পায় ষোলটি গান ও কবিতা বারংবার প্রচার বরা হত । এসব গান ও কবিতার মধ্যে ’শিকল পরা ছল মোদের ঐ শিকল পরা ছল’, ’কারার ঐ লৌহ কপাট’, ’ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’, ’চল-চল-চল’ প্রভৃতি অন্যতম । আর এসব কারণেই নজরুলকে ’স্বাধীনতার কবি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ।
    উপরে উল্লেখিত বহুল পরিচিত অভিধা ছাড়াও বিভিন্ন নজরুল গবেষক, প্রবন্ধকার সাহিত্যিক, কবি কাজী নজরুলকে আরও অনেক অভিধায় অভিহিত করেছেন । এসকল অভিধার একটি নাতিদীর্ঘ তালিকা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে- ’পথচারী নজরুল’ বলেছেন আব্দুল মান্নান সৈয়দ । তিনি নজরুলকে আরও বলেছেন ’একক’ ’অন্যন্য’  দৈনিক যুগান্তর, ২১ মে ২০০৪) ’অভিমানের কবি’ বলেছেন শাহাবুদ্দীন আহমেদ(দৈনিক ইনকিলাব, ২ মে ২০০০) ’প্রেমিক কবি’ বলেছেন সলিম হাসান(দৈনিক ইনকিলাব, ২ মে ২০০০) ’কালোত্তর নজরুল’ বলেছেন তহমিনা বেগম  (দৈনিক ইনকিলাব, ৬ জুন ২০০৩) ’বিদ্রোহের বরপুত্র’ বলেছেন (কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পত্রিকার ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৯ সংখ্যা) বিশিষ্ট নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলাম কবি নজরুলকে বলেছেন ’জ্যৈষ্ঠের ঝড়’  (দৈনিক উত্তেফাক, ২৫ মে ২০০৩) ’ধুমকেতুর নজরুল’ (দৈনিক প্রথম আলো, ২ মে ২০০২) ’আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃত’  (দৈনিক যুগান্তর, মে ২০০২) ’দেশ ও দেশীয়দের বন্ধু কবি’ বলেন জীবনানন্দ দাশ  (দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ মে ২০০৪) ’ছায়ানট’ বলেন ড. সরদার আব্দুস সাত্তার, ভারতীয় ঐতিহ্যের সন্তান’ বলেন হোসেনুর রহমান (ভারত বিচিত্রা, আগস্ট ২০০৪) ’মহামুক্তির কবি’ বলেন অধ্যক্ষ ফোরকান আলী (মাসিক অনন্ত প্রত্যাশা, ২ মে ২০০৬) তিনি নজরুলকে ’সাম্যবাদের কবি’ও বলেন, ’ঝিঙের ফুল’বলেন কামাল হোসেন  (দৈনিক যুগান্তর ১ সেপ্টেম্বর ২০০৬) ’সঞ্চিতার কবি’ বলেন নাগিস ওয়াজেদ, জাতীয়তাবাতের কবি বলেন ড. মাহবুব উল্লাহ  (দৈনিক আমার দেশ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬) ’ স্বাধীনতার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা’ বলেন মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন  (দৈনিক প্রবর্তন, ২৭ আগস্ট ২০০৭) ’মানবজাতির বিবেকের কন্ঠস্বর’ বলেন সুকান্ত গুপ্ত  (দৈনিক সমকাল, আগস্ট ২০০৭) দুরন্ত পথিক’ বলেন রূপজ দাস রূপু  (দৈনিক সমকাল, ২৫ আগস্ট ২০০৭) ’ন্যায়নীতি ও সুনীতির প্রবক্তা’ বলেন ম. মিজানুর রহমান  (দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৪ আগস্ট ২০০৭) ’আধুনিক বাংলা গানের রূপকার বলেন কাজী শওকত শাহী  (দৈনিক দিনকাল, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৩) ’যুগমানব’ বলেন মুসা আল হাফিজ  (দৈনিক প্রবর্তন, ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭) ’বিশ্ব কাব্য সাহিত্যের নতুন ¯্রষ্টা বলেন আল মুজাহিদী  (দৈনিক ইনকিলাব, ৩০ আগস্ট ২০০৭) তিনি নজরুলকে একাধারে ’বিদ্রোহী ও বিপ্লবী’ও বলেন । উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু নজরুলকে বলেন ’নজরুল একটি জ্যান্ত মানুষ’ ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে নজরুলকে অভিহিত করেন । ’প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কবি নজরুলকে বলেন ’যুগোত্তীর্ণ কবি’ যার সান্নিধ্যে নজরুলের জীবনের বড় অংশ অতিবাহিত হয়েছে সেই সুদক্ষ অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ বলেন ’আত্মভোলা মৌনকর্মী’ ’উদার বিরাট বিপুল মন’ ’আগুনের শিখা’  (দৈনিক যুগান্তর, ২ মে ২০০৮, শান্তনু কায়সার) ’দ্রষ্ট ও ¯্রষ্ট’ , যুগ¯্রষ্টা’ ’ত্রিকালদর্শী লেখক’ অসাধারণ সৃষ্টিধর্মী প্রতিভার অধিকারী বলেছেন মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ  (দৈনিক জনকন্ঠ, ২৩ মে ২০০৮) ’সময়ের সাহসী সন্তান’ বলেন শরীফ হোসেন (দৈনিক জন্মভুমি , ২ মে ২০০৮) ’যুগ প্রবর্তনের কবি’ বলেছেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন (কাগজ , ২ মে ২০০৮) আচার্য প্রফুল্ল রায় নজরুলকে বলেন ’বাংলার কবি’, ’বাঙালির কবি’ । শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নজরুলকে বলেন ’পরম কল্যাণী’ । ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন ’বাঙালী মানসে প্রোজ্বল প্রতীক’ । বিদ্রোহের আগুন জ্বালানো কবি বলেন শরীফ হোসাইন আহম্মদ চৌধুরী  (দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২ মে ২০০৮) ’কবি স¤্রাট’ উপাধি দেয়া হয় ১৯২৯ সালে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে এক সংবর্ধনার মাধ্যমে (দৈনিক দয়া দিগন্ত, ২ মে ২০০৮) ’মহাকবি’ বলেছেন প্রফেসর আব্দুল মান্নান সৈয়দ । ’ভালকবি অনেক আছে নজরুলের মত কেউ নেই’ বলেছেন জাপানী সাহিত্যিক কিয়োকো নিওয়া (দৈনিক প্রথম আলো)

’জাগরণের কবি’ বলেছেন ড. মহাম্মদ আব্দুল মুনিম খান (যুগান্তর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮) ”ভাষাশিল্পী’ বলেছেন মনসুর মুসা (পূর্বাণী, ১৯৭৬ ঈদসংখ্যা) ’প্রেম ও যদ্ধের যুগলবন্দী কবি’ বলেছেন শান্তনু কায়সার  (দৈনিক ইত্তেফাক) ’আধ্যাত্মিক কবি’ বলেছেন সৈয়দ গোলাম মোরশেদ (দৈনিক যুগান্তর, ২০১০) ’ছোটদের বন্ধু’ বলেছেন সেলিনা আহম্মেদ । ’ধর্মীয় সম্প্রীতি সাধনার কবি’ বলেছেন ড. সৌমিত্র শেখর ( ভারতবিচিত্রা) ’বজ্র শিখার মশাল’ বলেছেন প্রফেসর মোঃ আব্দুল মান্নান ( ’নজরুল এক অখন্ড মহাকাব্য’) ’একজন দক্ষ শব্দশিল্পী’ বলেছেন আবুল কালাম মনজুর মোর্শেদ । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ’নজরুল ও বঙ্গবন্ধু’ এক সমান্তরাল  (দৈনিক প্রথম আলো, ২৫ জুন ২০১১) ’অত্যাচার ও শোষণমুক্ত বিশ্বের দিশারী’ বলেছেন নেয়ামত হোসন  (দৈনিক জনকন্ঠ, ২৭ মে ২০১১) ’কবিতার বিস্ময়’ বলেছেন রবিউল হোসেন  (দৈনিক জনকন্ঠ, ২৭মে ২০১১) ’আমার প্রেরণার কবি’ বলেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম আজাদ  (দৈনিক পূর্বাঞ্চল, ২১ জুলাই ২০০৯) ’সর্ব?

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সৈনিক শহিদুল সরদারকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায়

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সৈনিক শহিদুল সরদারকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায়

newsgarden24.com

মো. আককাস আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সৈনিক, আওয়ামী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তা... বিস্তারিত

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বাড়ছে!

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বাড়ছে!

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: দেড়শত বছরের পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, চট্টগ্রামের পাথরঘাটা সতীশবাবু লেইনের মুখে ... বিস্তারিত

নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মানবতার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও দলের সংখ্যা প্রচুর। ইতিহাসে এমন মানুষের সংখ্য... বিস্তারিত

আইন করে অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যুগ বোধহয় শেষ...

আইন করে অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যুগ বোধহয় শেষ...

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আমাদের দেশে গণমাধ্যম সমসময়ই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের দিকে... বিস্তারিত

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯, আহত ৬১৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯, আহত ৬১৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯জন নিহত ও ৬১৮জন আহত হয়ে... বিস্তারিত

নির্যাতিত ও প্রতারিত ৪ কিশোরীর আইনী সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা

নির্যাতিত ও প্রতারিত ৪ কিশোরীর আইনী সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ফরিদপুরের তুলি (১৪) মা-বাবার সন্ধান পান ৪ মাস পর। খাগড়াছড়ির শেলী (১৫) পিতা-মাতার চ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ'র জামিন

সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ'র জামিন

newsgarden24.com

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ... বিস্তারিত

কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা

কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা

newsgarden24.com

ক্রমশই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম— ডাল, ভোজ্যতেল, রসুন, আদা, পেঁয়াজের পর নতুন করে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে... বিস্তারিত

মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে আস্তানায়ে জহির ভান্ডার

মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে আস্তানায়ে জহির ভান্ডার

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে হয়রানিমূলক ডিজিটাল ন... বিস্তারিত

 রাউজানে রহিতকরণ বিজ্ঞপ্তি পেয়েও দৌহিত্রসম্পত্তি বিক্রী করার জনগুঞ্জন

রাউজানে রহিতকরণ বিজ্ঞপ্তি পেয়েও দৌহিত্রসম্পত্তি বিক্রী করার জনগুঞ্জন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলাধীন নোয়াপাড়া গ্রামের পথেরহাট এলাকার কালুদপ্তরী... বিস্তারিত