রক্তাক্ত আগস্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি

newsgarden24.com    ০২:১৫ পিএম, ২০২০-০৮-২৯    175


রক্তাক্ত আগস্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম: মানুষের চিরায়ত স্বভাবমতে তারা সবচেয়ে বেশী গুজব ছড়ায় রাজনীতির ময়দানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সেই ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিকার ও ঈর্ষা প্রবলভাবে মানুষকে গুজব ছড়ানোর জন্য প্রলুব্ধ করে। প্রত্যেক ধর্মেই গুজব বা মিথ্যাচারকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে মিথ্যাকে সব গুনাহর মা বলা হয়েছে। গুজবের অন্যতম প্রতিক্রিয়া হলো ফিতনা। যা হত্যাকান্ডের চেয়েও জঘন্য অপরাধ।
¬¬¬¬¬আমাদের দেশের রাজনীতিতে গুজব যে কতবড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং তা হত্যাকন্ডের চেয়েও বড় নৃশংস ও জঘন্যতম তার প্রমাণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা এশিয়ার লৌহমানব সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা। একথা অনেকে বলে থাকেন খুনের পিছনে রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া কিছু জুনিয়র অফিসারের ব্যক্তিগত রাগ বিরাগ এবং ক্রোধ এই ঘটনার জন্য দায়ী। কেউ কেউ আবার বিদেশী মদদদাতা চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের দূষেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের নেপথ্যের কাহিনী আমাদের জাতীয় জীবনে সে রাতে নিহতদের রক্ত কর্তৃক সৃষ্ট বিপর্যয় নিয়ে খুব একটা ঘাটাঘাটি করতে চাই না। কারণ কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসে যদি? নেত্রী কিছু দিন আগে একটি সভায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথায় ছিলেন? বাঁশখালীর শহীদ মৌলভী সৈয়দ আহমদ, বগুড়ার শহীদ খসরু’র মত কি আর কেউ ছিল না? হাইব্রিড  নেতাদের দাপটে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা অসহায় এবং কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আজ টাকার কাছে জিম্মি। ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের নেপথ্যে যেসব গুজব বা ঘটনা সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণ, প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া সাধ্যমত উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।
ইতিহাসের এই জঘন্যতম ও নির্মম হত্যাকান্ডের পরবর্তী প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আমাদের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উত্থান ও বাঙ্গালির অবিসংবাধিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে জানতে হবে। প্রথমবার তিনি যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন, দলের মধ্যে অনেকেই সেই সময় তাঁর শত্র“ হয়ে গেলেন। এবং সেই শত্র“দের মাঝ থেকে দুজনকে নিজ ডানহাত-বাম হাত বানিয়ে তাঁর উপর ছড়ি ঘুরানোর সুযোগ করে দিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কা নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। এ নির্বাচনের পরে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ববাংলার রাজনীতিবিদরা যারা পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী বা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন তারা প্রকাশ্যে শত্র“তাবশতঃ গুজবের বসবতি হয়ে বিভিন্ন ঘটনা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাধ্যমে উত্তাল করে তুলল পূর্ববাংলা। গুজবের কারণে যুদ্ধের পূর্বে ও যুদ্ধক্ষেত্রে পাকিস্তানিদের  শোষণ জুলুম, নির্যাতন পৈশাচিক কর্মকান্ড আরো নির্মম হয়ে উঠল। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে ঢেলে সাজানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হতে লাগল। ঐ সময় কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্রেস্টো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তার জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব বাগ্মিতার কাছে ঘেষতে পারেন এমন ব্যক্তিত্ব তখন বাংলাদেশে ছিল না। ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়ীতে নিরাপত্তার চাদর বিহীন সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় একজন সরকারপ্রধান অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। এই ধরনের নেতা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ সরল একজন মানুষ। নিজের প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসতেন দেশ ও দেশের মানুষকে। তাঁর নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের কাছে সবকিছু নত হয়ে যেত। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে কিছু গতানুগতিক ভুলত্র“টি থাকতে পারে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। সদ্য স্বাধীনতা লাভকারী  দেশগুলোতে সচরাচর কমবেশী এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। দেশের শিক্ষিতজন ও একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীগণ প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের¬¬¬ বিরুদ্ধে অপমানজনক, মর্যদাহানিকর কিছু বিভ্রান্তিকর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলতে এবং লিখতে শুরু করলেন।
জনসম্মুখে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি তাদের হতোদ্যম বা উত্তেজিত করার প্রাণান্তকর চেষ্টা অবিরতভাবে করতে থাকেন। বড়বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কালোবাজারী অবৈধ মজুতদার ও সম্পদ পাচারের মত ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে সরকারী দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে বহুমূখী গুজব ছড়াতে থাকে। কবি সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক চতুর্ভুজ উপায়ে গুজব ছড়িয়ে গুজবকারীরা মাত্র এক থেকে দেড় বছরের মাথায় পুরো পরিস্থিতি এতই ঘোলাটে করে ফেলে যে কোন মানুষ একজন আরেকজনকে বিশ্বাসই করতে চাইত না। ষড়যন্ত্রকারীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে ‘৭৪ এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। এ সময় গুজবের কারণে জনগণ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য যেমন করতে পারছিল না তেমনি সর্বক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সন্দেহ প্রবণ হয়ে  দেশটাকে গুজবের দেশে পরিণত করল। প্রথম শ্রেণীর একটি শীর্ষ সংবাদপত্র বাসন্তির জাল পড়া ছবি ছাপালো। যা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে রীতিমত চারিদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার হয়ে উঠল। বাংলাদেশের ইতিহাসে হলুদ সাংবাদিকতা কাকে বলে এবং তা কত ভয়ানক হতে পারে তা হাতে কলমে নাকে চোখে কানে সুঁই ঢুকিয়ে জাসদের গণকণ্ঠ শিখিয়েছিল। আজকে আমরা যে সকল গুজবের কথা বলি জাসদ বা অন্য যারা সেদিন এই কাজগুলো করেছিল সেটা তখনকার গুজবের কাছে নিতান্তই শিশুসুলভ মনে হবে। ’৭৫ এ গুজব রচনাকারীরা অভিনব উপায়ে তাদের অপকর্মকে রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে তারা প্রকাশ্যে মুদ্রণ অযোগ্য কদর্য ভাষা প্রয়োগ করে গালিগালাজ করতে লাগল যাতে জনগণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে শ্রদ্ধাবোধ ও মর্যাদাবোধ রয়েছে তা মুছে যায়। ’৭৩ সালে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে একজন সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো। পাটের গুদামে আগুন দিয়ে, স্বসস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রাকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করলো, বঙ্গবন্ধু সংসদে দাঁড়িয়ে এই নৈরাজ্যে ও হত্যাকন্ডের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, পাকিস্তানি ভাবধারায় যারা দেশকে নিতে চায় এবং আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে ভূলণ্ঠিত করতে চায় তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। শান্তিপূর্ণ পথ সেদিন কারো জন্য খোলা ছিল না। সুবিধাবাদীদের দ্বন্দ্ব যে কত বড় রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনতে পারে তার নির্মমতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার হত্যাকান্ডের চেয়ে বড় উদাহরণ আর কোন কিছু হতে পারে না। ষড়যন্ত্রকারীদের সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত এবং তাদের সর্বশেষ পরিণতিও আমরা ইতিহাসের মধ্যে খুঁজে পাই। আগষ্টের রক্তাক্ত ইতিহাস আমাদের জাতীয় মান মর্যাদাকে নিদারুণভাবে কলঙ্কিত করেছে। গুজব সৃষ্টিকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত সেটা কত ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে আমরা রক্তাক্ত আগষ্ট থেকে  সেটা শিখতে পারি। মানুষ তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঈর্ষা এবং পরশ্রীকাতরতার দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে কি করতে পারে তা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের রক্তের ইতিহাসের মধ্যে দেখতে পাই।
খুনীরা যাতে গুজব ছড়িয়ে হত্যা কু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করার সুযোগ না পায় সে জন্য তাঁর রক্তের উত্তরসূরী চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে এদেশে আর কোনদিন রক্তাক্ত আগস্টের পূণরাবৃত্তি না ঘটে। লেখক:  শ্রম সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।
রক্তাক্ত আগস্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম: মানুষের চিরায়ত স্বভাবমতে তারা সবচেয়ে বেশী গুজব ছড়ায় রাজনীতির ময়দানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সেই ক্ষেত্রে ক্ষমতার অধিকার ও ঈর্ষা প্রবলভাবে মানুষকে গুজব ছড়ানোর জন্য প্রলুব্ধ করে। প্রত্যেক ধর্মেই গুজব বা মিথ্যাচারকে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে মিথ্যাকে সব গুনাহর মা বলা হয়েছে। গুজবের অন্যতম প্রতিক্রিয়া হলো ফিতনা। যা হত্যাকান্ডের চেয়েও জঘন্য অপরাধ।
¬¬¬¬¬আমাদের দেশের রাজনীতিতে গুজব যে কতবড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে এবং তা হত্যাকন্ডের চেয়েও বড় নৃশংস ও জঘন্যতম তার প্রমাণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা এশিয়ার লৌহমানব সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা। একথা অনেকে বলে থাকেন খুনের পিছনে রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া কিছু জুনিয়র অফিসারের ব্যক্তিগত রাগ বিরাগ এবং ক্রোধ এই ঘটনার জন্য দায়ী। কেউ কেউ আবার বিদেশী মদদদাতা চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের দূষেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের নেপথ্যের কাহিনী আমাদের জাতীয় জীবনে সে রাতে নিহতদের রক্ত কর্তৃক সৃষ্ট বিপর্যয় নিয়ে খুব একটা ঘাটাঘাটি করতে চাই না। কারণ কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসে যদি? নেত্রী কিছু দিন আগে একটি সভায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথায় ছিলেন? বাঁশখালীর শহীদ মৌলভী সৈয়দ আহমদ, বগুড়ার শহীদ খসরু’র মত কি আর কেউ ছিল না? হাইব্রিড  নেতাদের দাপটে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা অসহায় এবং কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আজ টাকার কাছে জিম্মি। ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের নেপথ্যে যেসব গুজব বা ঘটনা সৃষ্টি হয়েছিল তার কারণ, প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া সাধ্যমত উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।
ইতিহাসের এই জঘন্যতম ও নির্মম হত্যাকান্ডের পরবর্তী প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আমাদের স্বাধীনতার পূর্ববর্তী রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উত্থান ও বাঙ্গালির অবিসংবাধিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে জানতে হবে। প্রথমবার তিনি যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন, দলের মধ্যে অনেকেই সেই সময় তাঁর শত্র“ হয়ে গেলেন। এবং সেই শত্র“দের মাঝ থেকে দুজনকে নিজ ডানহাত-বাম হাত বানিয়ে তাঁর উপর ছড়ি ঘুরানোর সুযোগ করে দিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কা নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। এ নির্বাচনের পরে পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্ববাংলার রাজনীতিবিদরা যারা পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাসী বা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন তারা প্রকাশ্যে শত্র“তাবশতঃ গুজবের বসবতি হয়ে বিভিন্ন ঘটনা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাধ্যমে উত্তাল করে তুলল পূর্ববাংলা। গুজবের কারণে যুদ্ধের পূর্বে ও যুদ্ধক্ষেত্রে পাকিস্তানিদের  শোষণ জুলুম, নির্যাতন পৈশাচিক কর্মকান্ড আরো নির্মম হয়ে উঠল। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে ঢেলে সাজানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হতে লাগল। ঐ সময় কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্রেস্টো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তার জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব বাগ্মিতার কাছে ঘেষতে পারেন এমন ব্যক্তিত্ব তখন বাংলাদেশে ছিল না। ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়ীতে নিরাপত্তার চাদর বিহীন সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় একজন সরকারপ্রধান অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। এই ধরনের নেতা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ সরল একজন মানুষ। নিজের প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসতেন দেশ ও দেশের মানুষকে। তাঁর নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের কাছে সবকিছু নত হয়ে যেত। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে কিছু গতানুগতিক ভুলত্র“টি থাকতে পারে এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। সদ্য স্বাধীনতা লাভকারী  দেশগুলোতে সচরাচর কমবেশী এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। দেশের শিক্ষিতজন ও একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীগণ প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের¬¬¬ বিরুদ্ধে অপমানজনক, মর্যদাহানিকর কিছু বিভ্রান্তিকর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলতে এবং লিখতে শুরু করলেন।
জনসম্মুখে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি তাদের হতোদ্যম বা উত্তেজিত করার প্রাণান্তকর চেষ্টা অবিরতভাবে করতে থাকেন। বড়বড় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কালোবাজারী অবৈধ মজুতদার ও সম্পদ পাচারের মত ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে সরকারী দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে বহুমূখী গুজব ছড়াতে থাকে। কবি সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক চতুর্ভুজ উপায়ে গুজব ছড়িয়ে গুজবকারীরা মাত্র এক থেকে দেড় বছরের মাথায় পুরো পরিস্থিতি এতই ঘোলাটে করে ফেলে যে কোন মানুষ একজন আরেকজনকে বিশ্বাসই করতে চাইত না। ষড়যন্ত্রকারীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে ‘৭৪ এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। এ সময় গুজবের কারণে জনগণ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য যেমন করতে পারছিল না তেমনি সর্বক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সন্দেহ প্রবণ হয়ে  দেশটাকে গুজবের দেশে পরিণত করল। প্রথম শ্রেণীর একটি শীর্ষ সংবাদপত্র বাসন্তির জাল পড়া ছবি ছাপালো। যা নিয়ে দেশে ও দেশের বাইরে রীতিমত চারিদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার হয়ে উঠল। বাংলাদেশের ইতিহাসে হলুদ সাংবাদিকতা কাকে বলে এবং তা কত ভয়ানক হতে পারে তা হাতে কলমে নাকে চোখে কানে সুঁই ঢুকিয়ে জাসদের গণকণ্ঠ শিখিয়েছিল। আজকে আমরা যে সকল গুজবের কথা বলি জাসদ বা অন্য যারা সেদিন এই কাজগুলো করেছিল সেটা তখনকার গুজবের কাছে নিতান্তই শিশুসুলভ মনে হবে। ’৭৫ এ গুজব রচনাকারীরা অভিনব উপায়ে তাদের অপকর্মকে রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে তারা প্রকাশ্যে মুদ্রণ অযোগ্য কদর্য ভাষা প্রয়োগ করে গালিগালাজ করতে লাগল যাতে জনগণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে শ্রদ্ধাবোধ ও মর্যাদাবোধ রয়েছে তা মুছে যায়। ’৭৩ সালে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে একজন সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো। পাটের গুদামে আগুন দিয়ে, স্বসস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রাকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করলো, বঙ্গবন্ধু সংসদে দাঁড়িয়ে এই নৈরাজ্যে ও হত্যাকন্ডের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, পাকিস্তানি ভাবধারায় যারা দেশকে নিতে চায় এবং আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে ভূলণ্ঠিত করতে চায় তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। শান্তিপূর্ণ পথ সেদিন কারো জন্য খোলা ছিল না। সুবিধাবাদীদের দ্বন্দ্ব যে কত বড় রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে আনতে পারে তার নির্মমতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবার হত্যাকান্ডের চেয়ে বড় উদাহরণ আর কোন কিছু হতে পারে না। ষড়যন্ত্রকারীদের সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত এবং তাদের সর্বশেষ পরিণতিও আমরা ইতিহাসের মধ্যে খুঁজে পাই। আগষ্টের রক্তাক্ত ইতিহাস আমাদের জাতীয় মান মর্যাদাকে নিদারুণভাবে কলঙ্কিত করেছে। গুজব সৃষ্টিকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত সেটা কত ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে আমরা রক্তাক্ত আগষ্ট থেকে  সেটা শিখতে পারি। মানুষ তার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঈর্ষা এবং পরশ্রীকাতরতার দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে কি করতে পারে তা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের রক্তের ইতিহাসের মধ্যে দেখতে পাই।
খুনীরা যাতে গুজব ছড়িয়ে হত্যা কু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করার সুযোগ না পায় সে জন্য তাঁর রক্তের উত্তরসূরী চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে এদেশে আর কোনদিন রক্তাক্ত আগস্টের পূণরাবৃত্তি না ঘটে। লেখক:  শ্রম সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।

 

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বাড়ছে!

চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বাড়ছে!

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: দেড়শত বছরের পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, চট্টগ্রামের পাথরঘাটা সতীশবাবু লেইনের মুখে ... বিস্তারিত

নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানব জাতির গর্ব

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: মানবতার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও দলের সংখ্যা প্রচুর। ইতিহাসে এমন মানুষের সংখ্য... বিস্তারিত

আইন করে অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যুগ বোধহয় শেষ...

আইন করে অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যুগ বোধহয় শেষ...

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আমাদের দেশে গণমাধ্যম সমসময়ই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের দিকে... বিস্তারিত

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯, আহত ৬১৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫৯, আহত ৬১৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯জন নিহত ও ৬১৮জন আহত হয়ে... বিস্তারিত

নির্যাতিত ও প্রতারিত ৪ কিশোরীর আইনী সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা

নির্যাতিত ও প্রতারিত ৪ কিশোরীর আইনী সহায়তায় মানবাধিকার সংস্থা

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ফরিদপুরের তুলি (১৪) মা-বাবার সন্ধান পান ৪ মাস পর। খাগড়াছড়ির শেলী (১৫) পিতা-মাতার চ... বিস্তারিত

উন্নয়ন ও নগরায়নের অর্থ হলো প্রকৃতির সাথে সমন্বয় সাধন: সুজন

উন্নয়ন ও নগরায়নের অর্থ হলো প্রকৃতির সাথে সমন্বয় সাধন: সুজন

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রামের ভূ-... বিস্তারিত

সর্বশেষ

কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সাথে আবু সুফিয়ানে’র সৌজন্য সাক্ষাৎ

কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সাথে আবু সুফিয়ানে’র সৌজন্য সাক্ষাৎ

newsgarden24.com

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবু সুফ... বিস্তারিত

কঠোর হস্তে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা হবে: ওসি আনোয়ার

কঠোর হস্তে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা হবে: ওসি আনোয়ার

newsgarden24.com

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:Ñ মাদকের ছোবল থেকে সাতকনিয়ার খাগরিয়ার জনসাধারণকে রক্ষা করার উদ্দেশ... বিস্তারিত

সাতকানিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

সাতকানিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

newsgarden24.com

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সাতকানিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার এক সাজাপ্রাপ্ত আসা... বিস্তারিত

৫নং মোহরা ওয়ার্ড অগ্নিকান্ডে চান্দগাঁও থানা যুবদলের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

৫নং মোহরা ওয়ার্ড অগ্নিকান্ডে চান্দগাঁও থানা যুবদলের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

newsgarden24.com

৫নং মোহরা ওয়ার্ড এর পূর্ব মোহরা আব্দুর রশিদ কেরানীর বাড়িতে গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর, রবিবার রাতে সংগঠিত... বিস্তারিত