জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইনই কাম্য নয়

newsgarden24.com    ১১:৪৪ এএম, ২০২০-০৮-২৩    124


জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো আইনই কাম্য নয়

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী: ডিজিটাল উন্নয়নে দেশ আজ উন্নত জীবনযাপনের সুবিধা ভোগ করছে। সর্বক্ষেত্রে এই উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। দৈনন্দিন কাজকর্মের ভোগান্তিও কমে গেছে সর্বক্ষেত্রে। চারদিকে বইছে উন্নয়নের সুবাতাস। এর ভালো দিকগুলোর সঙ্গে সঙ্গে কুপ্রভাবও বেড়েছে। বেড়েছে সাইবার অপরাধ। এই সাইবার অপরাধ দমন করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রয়োজন দেখা দেয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের।বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন প্রথম করা হয় ২০০৬ সালে। পরবর্তীকালে শাস্তি বাড়িয়ে আইনটিকে আরো কঠোর করা হয় ২০১৩ সালে। পরে ২০১৮ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬-সহ মোট ৫টি ধারা বিলুপ্ত করে বাংলাদেশের সংসদে কণ্ঠ ভোটে পাস হয় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’। আইনটি প্রস্তাবের পর গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমের কর্মীরা এবং বিভিন্ন মহল এর তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের সমালোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপরাধগুলোই বিভিন্ন ধারায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন ৩২ ধারায় সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন।এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বয়ে যায় সমালোচনার ঝড়। সম্পাদক পরিষদ বর্জন করে আইনটি। তারা এ আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা নিয়ে আপত্তি জানান। সাংবাদিক ইউনিয়নও আপত্তি জানায় আইনটি নিয়ে। আপত্তিগুলোকে যৌক্তিক বলে তা সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী কিন্তু কণ্ঠ ভোটে পাস করা এ আইনে কার্যত কোনো পরিবর্তনই আসেনি। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য জানার আইনি অধিকার থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-তে এ অধিকার সর্বতোভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুরক্ষিত করা হয়েছে দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিমত প্রকাশ করেন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সুরক্ষিত হয়ে এইরূপ অপরাধের অধিকতর বিস্তার ঘটবে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮-এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় ওঠার পরপরই অসংখ্য সাংবাদিক ‘আমি গুপ্তচর’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ করেন। এতদসত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে দেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’-তে কোনো পরিবর্তন আপাতত আসছে না। সংসদ যে বিল পাস করেছে তা-ই আইনে পরিণত হবে। অবশেষে সংসদে বিলটি পাস হয়।প্রস্তাবিত যে ধারাগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের আপত্তি ছিল তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ছিল ৩২ ধারা নিয়ে। প্রস্তাবিত আইনটির ঐ ধারায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য উপাত্ত, যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। পরে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে এটা পরিবর্তন করে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’-তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি দাফতরিক গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের অধিকাংশই অজামিন যোগ্য। আর পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।এই ডিজিটাল আইন কার্যকর হওয়ার ফলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ পুরো সাংবাদিকতাই আজ বাধার সম্মুখীন। মুক্ত সাংবাদিকতার সামনে সবসময়ই একটি খড়গ ঝুলছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আজ বাধার সম্মুখীন। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকছে না। দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্নীতিবাজ ব্যাংক লুটেরাদের সম্পর্কে কোনো রিপোর্ট করা যাচ্ছে না। তাই তারা হয়ে উঠেছে আরও বেপরোয়া। তৈরি হয়েছে একটা লুটপাটের রাজত্ব।আজ দেশ একটি দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই হাহাকারের মুহূর্তে সংঘটিত দুর্নীতি, অনিয়ম চোখে পড়ছে প্রকটভাবে। করোনা সময়ে মুক্ত সংবাদ পরিবেশনের ফলে এই ডিজিটাল আইনের ব্যবহার বাড়ছে। আর আইনটি এই সময়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। সম্প্রতি এই আইনের আওতায় অনেককেই আটক করা হয়েছে দুর্নীতি, অনিয়মের বিপক্ষে কথা বলার অপরাধে।এই আইন নিয়ে কূটনীতিক মহলের মতামত একটু বিশ্লেষণ করা যাক। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মতে, আইনটি বলবৎ হলে বাংলাদেশের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তা বিঘিœত হবে। ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা এ আইনের ২১, ২৫, ২৮ ও ৩২ ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিতর্কিত ৩২ ধারার ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট, ১৯২৩’ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত হতাশা ও দুঃখজনক। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যদি কোন সাংবাদিক ৩২ ধারায় অভিযুক্ত হন, তাহলে বিনা পারিশ্রমিকে তার পক্ষে লড়বেন। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সাংবাদিকদের জন্য করা হয়নি। তাহলে কেন আপনারা এটাকে নিজেদের ঘাড়ে নিচ্ছেন? আজ থেকে যতদিন আমি বেঁচে থাকবো ততদিনের মধ্যে কোনও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধারার অধীনে মামলা হলে বিনা ফিতে তার পক্ষে আমি আদালতে (মামলা পরিচালনা করতে) দাঁড়াবো ।’তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না। সাংবাদিকদের কাজ গুপ্তচরবৃত্তি নয়। তারা তথ্য সংগ্রহ করেন বা করবেন প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে।সবার সব মতামতকে উপেক্ষা করে এ আইন কার্যকর হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার আশ্বাসে সংবাদকর্মীরা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেছিলেন কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মুক্ত সাংবাদিকতার বাকরুদ্ধ করতেই এ আইন করা হয়েছে। লকডাউনের এই সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা হারিয়েছে সাংবাদিকরা। লকডাউনের প্রথম মাসেই ২০ জন সাংবাদিক মামলা, গ্রেফতার ও হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের অপরাধ তারা ত্রাণ চুরি, হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। অতএব দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না।তবে কি আমরা ধরেই নেব, এসব দুর্নীতি, অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্যই এ আইন তৈরি হয়েছে। করোনাকালীন এই দুঃসময়ে অসাধু সরকারবান্ধব ক্ষমতাশালী দুষ্কৃতকারীদের দুর্নীতিতে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা করছে এ আইন। এ নিয়ে কারো কিছু বলার নেই। অতি সচেতন কেউ এ নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করলে তার বাকরুদ্ধ করা হচ্ছে। ডিজিটাল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে। ফলে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে দেশ এই দুঃসময়ে। সম্প্রতি বিতর্কিত এই আইনে ছাত্র থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক, সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট গ্রেফতার। চলমান দুঃসময় মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সংকটকেই আরও প্রকট করে তুলেছে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল শুরু থেকেই। নীতিনির্ধারণ থেকে ত্রাণ বিতরণ পর্যন্ত সমন্বয়হীনতা, অস্বচ্ছতা ও অব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। সরকার এসব দুর্বলতা কাটানোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে ভিন্নমত ও সমালোচনা দমনের নীতি অনুসরণ করছে। ডিজিটাল আইন কার্যকর হওয়ায় অন্য আইনে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সম্প্রতি রাজশাহী ও রংপুরে দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলার পরপরই কোনো তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার করা হয়।এই করোনার দুঃসময়ে স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে সরকার এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার মাধ্যমে। অথচ স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে স্বাধীন মত প্রকাশ নির্বিঘœ হওয়া প্রয়োজন। মত প্রকাশজনিত ঘটনায় ২০১৮ সালে মামলা হয় ৭১টি এবং ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা ৬৩টি। অথচ চলতি বছর এ দুঃসময়ে প্রথম ৬ মাসেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যাা ১১৩টি। এ পর্যন্ত কেবল মত প্রকাশের কারণে ২০৮ জন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন যার মধ্যে ৫৩ জনই সাংবাদিক। দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরাদের স্বর্গরাজ্য কায়েম হয়েছে। সচেতন জাতি দেখে যাবে, কিছু বলবে না। কিছু বললেই মামলা হবে। তদন্ত ছাড়াই হতে হবে গ্রেফতার। আর দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরারা গড়ে তুলবে সম্পদের পাহাড়। সেই সম্পদে বাড়বে জিডিপির হার। সাধারণ মানুষ দেখবে আর কপাল চাপড়াবে। ভাগ্য বিপর্যয়ে নিঃস্ব হবে তারা। তাদের হক চলে যাবে ব্যাংক লুটেরাদের দখলে। তাদের চাপাকান্না শোনার কেউ নেই। সরকারি আশ্রয়-প্রশ্রয় যে দুর্নীতিবাজদের জন্যই। তাদের জন্যই তৈরি হয়েছে এ আইন।আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ আইন কার্যকরের পূর্বে সাংবাদিকদের কথা দিয়েছিলেন, তাদের পাশে তিনি থাকবেন। মুক্ত সাংবাদিকতা বিঘ্নিত হবে না। তিনি অনেক ক্ষেত্রেই দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এই দুঃসময়ে দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে তিনি যেন নিজেই বন্দি হয়ে আছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। এ পর্যন্ত যে ৫৩ জন সাংবাদিক অভিযুক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। মুক্ত সাংবাদিকতা ব্যাহত হচ্ছে প্রতি ক্ষেত্রে। ধন্য আমাদের সরকার। আমাদের জিডিপি বেড়ে যায় দুর্নীতির টাকায়। তাই ধন্য দুর্নীতিবাজরা।ফেসবুকে মত প্রকাশের জের ধরে দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যাপকহারে মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আর্টিকেল নাইনটিন।  সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, লেখক, সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট গ্রেফতার চলমান কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার সংকটকেই আরও প্রকট করে তুলেছে। আর্টিকেল নাইনটিন এসব গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানায় এবং একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি ও দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। সম্পাদক পরিষদের ব্যাখ্যা,সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থী, বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধাত্মক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারাকে আমরা সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করছি, নিচে তা হুবহু তুলে ধরলাম। একই সঙ্গে সেসব নিয়ে আমাদের অবস্থানের বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরলাম। ধারা ৮। কতিপয় তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার ক্ষমতা।—(১) মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করিলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমত, ব্লক করিবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে, অতঃপর বিটিআরসি বলিয়া উল্লিখিত, অনুরোধ করিতে পারিবেন।(২) যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের বা উহার কোনো অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করে, বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহা হইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লককরিবার জন্য মহাপরিচালকের মাধ্যমে, বিটিআরসিকে অনুরোধ করিতে পারিবেন।(৩) উপ-ধারা (১) ও (২)–এর অধীন কোনো অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে বিটিআরসি, উক্ত বিষয়াদি সরকারকে অবহিতক্রমে, তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতো, ব্লক করিবে। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষরা অভাবের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এই দুঃসময়ে চরম অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। কাজ হারিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য হন্যে হয়ে ছুটছে মানুষ। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছত্রছায়ায় দুর্নীতিবাজরা বাড়িয়ে চলেছে আমাদের জিডিপি। এর সমালোচনা করতে গিয়ে অভিযুক্ত হচ্ছে সংবাদকর্মীরা। হায় সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ। আলেকজান্ডারের সেই বিখ্যাত উক্তি আমরা মনেপ্রাণে ধারণ করি ও অনুপ্রাণিত হই। ধন্য বিচিত্র বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যা সত্যের মুখ চেপে ধরে আছে।জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ও হয়রানিমূলক কোনো আইনই কাম্য হতে পারে না। রাষ্ট্রকে বাক্স্বাধীনতার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট                                   
 
 

 

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল


রিটেলেড নিউজ

সাংবাদিক লাঞ্ছনার নিন্দা বিএফইউজে’র

সাংবাদিক লাঞ্ছনার নিন্দা বিএফইউজে’র

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: হেফাজত আমীরের নামাজে জানাজায় দায়িত্ব পালনকালে হাটাহাজারী মাদ্রাসায় সাংবাদিক... বিস্তারিত

সাংবাদিক আবু সায়েমের মায়ের ইন্তেকাল

সাংবাদিক আবু সায়েমের মায়ের ইন্তেকাল

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সদস্য আবু সাইমের মাতা জেসমিন আকতার (৬৪) আজ ... বিস্তারিত

দৈনিক কালেরকণ্ঠের চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈমের মায়ের ইন্তেকাল ও শোক

দৈনিক কালেরকণ্ঠের চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈমের মায়ের ইন্তেকাল ও শোক

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক:  দৈনিক কালেরকণ্ঠের চট্টগ্রামের ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র সাংবাদিক মুস্তফা নঈম&r... বিস্তারিত

 সাংবাদিক আলী আকবর’র পিতার মৃত্যু ও শোক

সাংবাদিক আলী আকবর’র পিতার মৃত্যু ও শোক

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন, চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি, বাংলাভিশনের সিন... বিস্তারিত

নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনারের সাথে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরাম’র শুভেচ্ছা বিনিময়

নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনারের সাথে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরাম’র শুভেচ্ছা বিনিময়

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩০ তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সালে... বিস্তারিত

সাংবাদিক সুজাউদ্দিনের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি সিইউজের

সাংবাদিক সুজাউদ্দিনের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি সিইউজের

newsgarden24.com

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: কক্সাবাজারে সাংবাদিক সুজাউদ্দিন রুবেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্য... বিস্তারিত

সর্বশেষ

কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সাথে আবু সুফিয়ানে’র সৌজন্য সাক্ষাৎ

কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সাথে আবু সুফিয়ানে’র সৌজন্য সাক্ষাৎ

newsgarden24.com

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবু সুফ... বিস্তারিত

কঠোর হস্তে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা হবে: ওসি আনোয়ার

কঠোর হস্তে মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা হবে: ওসি আনোয়ার

newsgarden24.com

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:Ñ মাদকের ছোবল থেকে সাতকনিয়ার খাগরিয়ার জনসাধারণকে রক্ষা করার উদ্দেশ... বিস্তারিত

সাতকানিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

সাতকানিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

newsgarden24.com

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সাতকানিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার এক সাজাপ্রাপ্ত আসা... বিস্তারিত

৫নং মোহরা ওয়ার্ড অগ্নিকান্ডে চান্দগাঁও থানা যুবদলের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

৫নং মোহরা ওয়ার্ড অগ্নিকান্ডে চান্দগাঁও থানা যুবদলের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

newsgarden24.com

৫নং মোহরা ওয়ার্ড এর পূর্ব মোহরা আব্দুর রশিদ কেরানীর বাড়িতে গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর, রবিবার রাতে সংগঠিত... বিস্তারিত