সন্ত্রাস এবং মাদকমুক্ত পটিয়া গড়বো: গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার: চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থীরা গণসংযোগের পাশাপাশি মনোননয়ন নিয়ে হিসাব মেলাতে ব্যস্ত। আসনটি গাজী জুয়েলের আসন হিসেবেই পরিচিত ছিল। গত নির্বাচনে গাজী শাহজাহান জুয়েল ক্ষমতার বাইরে। সবশেষ ২০১৪ সালে ভোটবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী। আগামী নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাচ্ছেন আরো ডজন খানেক প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ, গাজী শাহজাহান জুয়েল, এনামুল হক এনাম, চেয়ারম্যান ইদ্রিস। আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা প্রার্থী এ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। বিএনপি’র চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রিয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রদলের সাবেক বিপ্লবী সভাপতি পটিয়ার কৃতি সন্তান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও ২০ দলের মনোনয়নে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ নিউজগার্ডেন২৪কে বলেন, এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইব। এমপি হওয়ার পর পটিয়ার দুঃখ শ্রীমাই খালের ভাঙন রোধে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। তাছাড়া এলাকাটি সন্ত্রাস এবং মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করবো। মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান এবং রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করবো। ছাত্রদল নেতা গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ নিউজগার্ডেন২৪কে বলেন, সাবেক এমপির সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তার বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।’ আমি সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। মনোনয় পেলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব।’ ছাত্রদল নেতা গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ নিউজগার্ডেন২৪কে বলেন, ‘পটিয়া বিএনপির ঘাঁটি ছিল। এখানে বিএনপির অবস্থান গড়ে তুলেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। আমি চাই, দল সংগঠিত হোক। এ লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। মনোনয়ন চাইব, আশা করি দল মনোনয়ন দেবে।
ছাত্রদল নেতা গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ নিউজগার্ডেন২৪কে বলেন, এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দলকে একটা পর্যায়ে নিয়ে আসতে পেরেছি। মনোনয়নের বিষয়টি দল বিবেচনা করবে বলে আশা রাখি। বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নে তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন। দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। দল যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে এবং নির্বাচন করব। এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা আমার আছে। রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ করে পুরো পটিয়াকে উন্নত এলাকায় পরিণত করবো। অবকাঠামোগত উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবো। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি প্রার্থীকে জনগণ ভোট দেবেন। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্র করে আটকে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তবেই বিএনপি তাতে অংশ নেবে। তখন পটিয়া থেকে মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন পেলে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। নিউজগার্ডেন২৪ এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বিএনপি’র টিকেটে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২৮৯ চট্টগ্রাম-১২ থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। গুম, খুন, দুর্নীতি এ সরকারের যেন প্রধান প্রকল্প। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।২০১৪ সালের মত এদেশে আর কোন একতরফা নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তরুণদের উপর আস্থাশীল। দলের দু:সময়ে যারা রাজপথে ছিল সে সব তরুণ ও প্রবীণ নেতৃত্বকেই এবার মূল্যয়ন করা হবে।
তিনি জানান, দলের পটিয়া এবং পার্শ্ববর্তী মহানগরী এলাকায় দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। মানুষের হৃদয়স্পন্দন বুঝতে পারি। পটিয়ায় বিএনপির আভ্যন্তরীন যে গ্রুপিং রয়েছে সেখানে তাঁর মত তরুণ নেতৃত্বকে মনোনয়ন দেয়া হলে নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। অনেক নেতা কর্মী আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বলে তিনি জানান।
“আমি দলের সব পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সম্মান করি। তাদের মনোভাবকে শ্রদ্ধা করি। দলের তৃণমূল নেতারা যদি সমর্থন দেয় এবং দলের কেন্দ্রিয় মনোনয়ন বোর্ড যদি আমার উপর আস্থা রাখে ইনশাল্লাহ আমি পটিয়ার হারিয়ে যাওয়া আসনটি আবারো পুনরুদ্ধার করে গণতন্ত্রের মা, আমাদের জননী বেগম জিয়াকে উপহার দিতে পারবো” বলেছেন গাজী সিরাজ উল্লাহ। নিউজগার্ডেন২৪ এর সাথে সাক্ষাতকারে গাজী সিরাজ তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক, শিক্ষা-সংগ্রামী জীবন তুলে ধরেন। একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা স্কুল জীবনে ১৯৮৮ সালে বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক,, ১৯৯০ সালে ইউনিয়ন কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি, ১৯৯১ সালে এজে চৌধুরী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৯৩ সালে হুলাইন ছালেহ নুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান। বর্ণাঢ্য এই তরুণ রাজনীতিক ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। দলের দূর্দিনে তিনি ১৯৯৬-৯৭ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি সদস্য থেকে সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বিএনপি নেতাদের আগ্রহে তাঁকে ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি মহানগরী ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক পীঠস্থান চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা ও বিপ্লবী চেতনার কারণে তাকে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করতে হয়। ১/১১ মইন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকার কারণে তাকে জরুরী সরকার তাকে আটক করে। তিনি সে সময় ৮মাস নির্জন কারাগারের প্রকোষ্ঠে বন্দী ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা ও মামলার শিকার হযেছেন অসংখ্যবার। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৬৪টি। এসব মিথ্যা মামলা তাঁকে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি। বরং তিনি বর্তমানে দলের একজন বোদ্ধা ও পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। একজন মুক্ত চিন্তার রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী গাজী মো: সিরাজ উল্লাহ শহীদ জিয়া শিশু সংগঠনের সাথেও দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি পটিয়া সরকারি কলেজ ও বোয়ালখালি সিরাজুল ইসলাম কলেজে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের হামলায় মার্ত্মাক আহত হয়েও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পতাকা উড্ডীন রেখেছেন। গাজী সিরাজ পটিয়ার বরলিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন করেন। তাঁর মরহুম পিতা গাজী দুলা মিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী ছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন গ্রাম সরকারের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি। পরিবার থেকেই তাঁর জাতীয়তাবাদী রাজনীতিরি হাতেখড়ি। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও এল এল বি ডিগ্রি লাভ করেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তার ভাবনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪০ বছরেরও অধিক সময় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তা চেতনায় আজীবন রাজনীতি করেছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মা’ আমাদের মা বেগম জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবতী হয়ে বর্তমান সরকার কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। তাঁর মুক্তিই এখন আমাদের অগ্রাধিকার। তাঁকে মুক্ত করে এনে এদেশের মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার নিয়ে আমার দল কাজ করে যাচ্ছে। দলের সব পর্যায়ের নেতা কর্মীদের বিশ্বাস সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন এলাকার সাথে, এলাকার মানুষের সাথে তার যোগাযোগ আছে। মানুষ পরিবর্তন চায়-নতুনদের জায়গা দিতে আগ্রহী। যেহেতু দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন হবে সেহেতু দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে দলীয় নেতা কর্মীরাও তাকে সমর্থন দিবে। তাছাড়া একাদশ নির্বাচনে ছ্ত্রাদল ও যুবদলের শতাধিক নেতা নির্বাচন করতে আগ্রহী । দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানও চান তরুনরা এগিয়ে আসুক। তাই তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী বলে জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: