জলবায়ু পরিবর্তনে সহনশীল বেড়িবাঁধ তৈরি করতে হবে: মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার: আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে, স্থানীয় নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীলতা অর্জনে টেকসই উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার উপর গুরত্বারোপ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুনর্বিন্যাস ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করেছেন। তারা আরও বলেন, বাঁধ নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমের অনেক বিষয় বিকেন্দ্রীকরন করা উচিত। এ জন্য তারা সরকারের কাছে একটি গণতান্ত্রিক, স্থানীয়ভাবে দায়বদ্ধ ও জনঅংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরীর সুপারিশ করেন। আজ চট্টগ্রামের জিইসির মোড়ে অবস্থিত বাসমতি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও টেকসই নিরাপত্তায় প্রয়োজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কার”শীর্ষক এই সেমিনারে বক্তাগণ এসব কথা বলেন।
স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসা ও কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করেন এবং উক্ত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসা’র পরিচালক পলাশ চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। ইপসা’র পক্ষ থেকে মোরশেদ হাসান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোছাঃ ফাহমিদা আমিন, কো-অর্ডিনেটর-মনিটরিং এ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন, সিজিআরএফ প্রকল্প, কোষ্ট ট্রাষ্ট। এই সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন সংগঠন ইপসা’র উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি সহকারী প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় মিসেস ফাহমিদা আমিন উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ/ ফোল্ডারগুলির বর্তমান অবস্থা, বাঁধ নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন: ১. বাঁধ নির্মাণ পকিল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরীবীক্ষণ পর্যায়ে স্থানীয় জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জনগরে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। ২. প্রতিটি প্রকল্পে তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে যাতে জনগণ চাইলেই যেকোন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিযোগ করতে পারে। ৩. সরকার সিএসও, এনজিও এবং অন্যান্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে প্র্রল্পের কাজের গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য প্রকল্পের শুরুতে, মাঝখানে এবং শেষে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। কর্মসূচী বাস্তবায়নের উপর নাগরিক সমাজের পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন যেন সরকার গ্রহণ করে সেই ধরনের আইনী কাঠামো তৈরী করতে হবে। এবং ৪. প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল জনগনের চাহিদা মোতাবেক হতে হবে। সরকার এই সুপারিশগুলো নিশ্চিত করতে পারে একটি যথাযথ নীতিমালা গ্রহণ করে। প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথিরা তাঁদের বক্তৃতায় পরিকল্পনাভিত্তিক এবং উঁচু বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল খনন, স্লু-ইসগেট সচল করা এবং জনগণসহ জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার উপর জোর দেন।
এই সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার এবং প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জোহাইনুল আলম, সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান, ১৫ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব গিয়াস উদ্দিন, এবং ১৬, ২০ এবং ৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, বাঁশখালী উপজেলার অন্তর্গত খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোঃ বদরুলউদ্দিন, শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াসীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব চৌধুরী, পূর্বকোণ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক জনাব সাইফুল আলম, দেশ টিভির বিভাগীয় প্রধান আলমগীর সবুজ প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং নদীভাঙ্গনের ফলে স্থানচ্যুত মানুষের প্রতিনিধিগণ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: