বাল্যবিবাহ রোধ ও নির্যাতন থেকে শিশু কন্যাদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে: তিবরীজি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেছেন, শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের ও সকলের। বিভিন্ন কারণে শিশু কন্যারা ধর্ষণ, নির্যাতন ও ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। পারিবারিক অসচেতনতার কারণে অনেক শিশু শিক্ষার আলো ও তাদের অন্যান্য ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৮ বছরের নিচে অনেক কন্যা শিশুর বাল্যবিবাহের কারণে অকালে ঝরে পড়ছে। ডিভোর্সের শিকার হচ্ছে অসংখ্য নারী। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এসব কিছু বিবেচনায় এনে বিগত এক দশকে শিশুদের কল্যাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বহুমুখী উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর ১ জানুয়ারি সারাদেশে একযোগে বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নারীদের জন্য সরকারিভাবে কর্মদক্ষতামূলক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন টেড কোর্সের সুযোগ রয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। মেয়েদের অধিকার মেয়েদেরকেই আদায় করে নিতে হবে। অধিকার আদায় করতে গিয়ে উশৃঙ্খলতা নয়, সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে। শিশু কন্যারা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কিনা, কারো কুপ্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে কিনা কিংবা কেউ কোন ধরনের লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে কন্যা শিশুকে অনৈতিক কাজে নিচ্ছে কিনা তা পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু কন্যাদের নির্যাতন থেকে রক্ষায় সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক জাতীয় কন্যা শিশু দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- “থাকলে কন্যা সুরক্ষিত, দেশ হবে আলোকিত’।
তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নারী, তিনিও এক সময় কন্যা ছিলেন। নারীর ক্ষমতায়ন ও সড়ক যোগাযোগসহ বহুমুখী উন্নয়নের কারণে তিনি দেশে-বিদেশে এ্যাওয়ার্ড অর্জনের মাধ্যমে বিশ^নেত্রী হিসেবে ভূষিত হয়েছেন। গত মাসেও তিনি দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। সরকারের উন্নয়নের ধারা ও লক্ষ্য দেশের মানুষকে জানান দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ৪ থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী সারাদেশে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা। তিনি শুধু একধারে প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি উন্নয়নের রোল মডেল ও বিশ^ নেত্রী। আমরা সবাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করলে আগামী ২০২১ সালে এদেশ মাধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের আগে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আমরা সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে সামিল হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অঞ্জনা ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও বিউটিফিকেশন পিংকি দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইলমা’র প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ। বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার নীতা চাকমা। আলোচনা সভার পূর্বে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এক মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, বেসরকারি নারী ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-ইলমা, অর্জন, সূর্য কন্যা, দারিদ্র বিমোচন, নারী ঐক্য, জ্যোতি, সবুজের যাত্রা, যুগান্তর, ওয়ার্ল্ড ভিশন, নিবেদিত, প্রতিভাময়ী, নীলাম্বর ও সমতার প্রতিনিধিবৃন্দ। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: