রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়: বিএনপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার: রায়কে ফরমায়েশি রায় আখ্যা দিয়ে রায় প্রত্যাখান করেছে বিএনপি। সরকার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই রায়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ বুধবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জ্জা ফখরুল বলেন, বিচারিক আদালত থেকে ২১ আগষ্টের বোমা হামলার মামলাটি নিয়ে এসে আওয়ামী লীগ নেতাকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ, পুলিশের পূর্বানুমতি ছাড়াই মুক্তাঙ্গন থেকে ২১ আগষ্টের সমাবেশের স্থান স্থানান্তর, ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়, পরবর্তীতে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে মুফতি হান্নানের ফাঁসি মানুষের নিকট প্রতীয়মান। তিনি বলেন, সরকার আদালতকে ব্যবহার করে এমন একটি রায় দিয়েছে, যেভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো৷ ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার এই হামলা নিয়ে শুরুতেই পদক্ষেপ নিয়েছিলো৷ তদন্ত শুরু করেছিলো। সেসময় সাক্ষীরা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমান সহ বিএনপির কারো নাম বলেননি। কিন্তু ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে বিতর্কিত করার জন্য দলীয় লোক আব্দুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন শুরু করে৷ এই কর্মকর্তা একজন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি মুফতি হান্নানকে নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলতে বাধ্য করে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই মামলায় অন্য কোনো সাক্ষীর কথা বলা নেই৷ কেউ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়নি৷ কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাকে জড়ানো হয় এবং যাবতজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ থেকে পুণরায় প্রমাণিত হলো, এই দেশের নাগরিকের সুবিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার কথাই প্রমাণ হলো, যে দেশে প্রধান বিচারপতি সুবিচার পায় না, সে দেশে সাধারণ নাগরিক কি করে সুবিচার পাবে? ফখরুল বলেন, আমরা দেশবাসীকে সরকারের এহেন প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও আদালতের মাধ্যমে তা কার্যকর করার অপকৌশল সম্পর্কে জনগণকে সজাগ হয়ে অনির্বাচিত এই সরকারকে হটিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আহ্বান জানাচ্ছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: