‘ধনী ও দরিদ্রের আয় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি নেই’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার: অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নতি হলেও ধনী ও দরিদ্রের আয় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি কম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ পিছিয়ে, ১৫৭ দেশের মধ্যে অবস্থান ১৪৮তম। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো ‘কমিটমেন্ট টু রিডিউসিং ইনইকুয়ালিটি-সিআরআই’ নামের এ সূচক প্রকাশ করে। এ সূচকে সবার ওপরে রয়েছে ডেনমার্ক এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নাইজেরিয়ার। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, আর্থিকভাবে অনেক এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের অবস্থান ১৪৯তম। আর ভারতের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে মাত্র একধাপ এগিয়ে ১৪৭তম। ধনী দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারে অনেক ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে লাগামহীন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়া। এ অঞ্চলের আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। অক্সফাম ও ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ সূচক প্রকাশ করে। সূচক প্রকাশ উপলক্ষে তৈরি এ প্রতিবেদনে বৈষম্য কমাতে বিভিন্ন দেশের তৎপরতার দিকটিই মূলত তুলে ধরা হয়েছে। এ সূচক তৈরি হয়েছে সামাজিক খাতে সরকারের ব্যয়, করনীতি এবং শ্রমিকদের অধিকারের বিবেচনায় প্রতিটি দেশের অবস্থা বিচার করে। সরকার ধনী ও দরিদ্রদের বৈষম্য কমাতে কতটা উদ্যোগী, এই সূচকের মাধ্যমে তা দেখানোর চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। অক্সফাম গত বছর প্রথম এ সূচক প্রকাশ করে। ওই সূচকে অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা ছিল ১৫২। তাতেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৮ নম্বর। অর্থাৎ, এক বছরে এ সূচকে অবস্থার উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত খানা আয় ও ব্যয় জরিপেও দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও অর্থনীতিবিদরা ৭ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি বৈষম্য কমানোকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সূচকের তিন মানদণ্ডের মধ্যে সামাজিক খাতে ব্যয়ের বিচারে বাংলাদেশ আছে ১৪৬তম অবস্থানে। করনীতির ক্ষেত্রে অবস্থান কিছুটা ভালো, ১০৩ নম্বরে। আর শ্রমিক অধিকারের ক্ষেত্রে অবস্থান মূল সূচকের মতোই- ১৪৮তম। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর আইনে নারীদের আয়করে কিছু ছাড় দেওয়ার প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্যের বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রমিক ও শ্রম পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রম অধিকার ও মজুরির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। আর সার্বিক সূচকে এ অঞ্চলের আট দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা মালদ্বীপের অবস্থান ৬৮ নম্বরে। সূচকে শ্রীলংকা ১০২, পাকিস্তান ১৩৭, মিয়ানমার ১৩৮, নেপাল ১৩৯, ভারত ১৪৭ ও ভুটান ১৫২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক এ সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা পাঁচ দেশ হলো- ডেনমার্ক, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও নরওয়ে। আর সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা পাঁচ দেশ হলো- নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান, হাইতি, শাদ ও সিয়েরা লিওন। অক্সফাম বলছে, ২০১৫ সালে ১৯৩ দেশের সরকার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। সে অনুযায়ী দেশগুলোর তৎপরতা কেমন, প্রতিবেদনে সেই বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসডিজির ১০ নম্বর লক্ষ্য হলো দেশের ভেতরে এবং দেশে দেশে আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক এ সংস্থার মতে, বৈষম্য কমিয়ে আনতে না পারলে এসডিজির প্রথম লক্ষ্য দারিদ্র্য দূর করা অসম্ভব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: