সাতকানিয়ার ক্রীড়ামোদিরা ক্ষুদ্ধ পুরস্কার না দেয়ায়

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ১৪ সেপ্টম্বর ২০১৮, শুক্রবার: যথারীতি মোতাবেক এই মৌসুমে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন জাতীয় আন্তঃ স্কুল মাদরাসার ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতা হয়। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সূত্রমতে চলতি বছর প্রায় ৭৫টি স্কুল ও মাদরাসা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে। কিন্তু পাহাড় পর্বত ডিঙ্গি ফাইনাল খেলায় অবতীর্ণ হয় সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল ও করাইয়ানগর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়। ফাইনাল খেলা অনুষ্টিত হয় ১০ সেপ্টেম্বর বিকাল বেলা সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল মাঠে। অনুষ্টিত খেলায় সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল ১Ñ০ করাইয়ানগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয়। তবে খেলার শেষে দেখা যায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপদের মধ্যে কোন ট্রপি দেয়া হয়নি। এতে খেলোয়াড়’রা যেমন মর্মাহত ও নিরুৎসাহি হয়েছেন তেমনি ক্রীড়ামোদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিগত বছর ও বিজয়ীদের মধ্যে কোন পুরস্কার দেয়া হয়নি। অথচ ফাইনাল খেলায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দেয়া হচ্ছে না। এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম হতাশা ও নিরুৎসাহ দেখা গেছে। জানা যায় ৭৫টি স্কুল ও মাদরাসার মধ্যে ৭০টি থেকে চাদাঁ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতি স্কুল কিংবা মাদরাসা থেকে ৭শ’ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ৪৯ হাজার টাকার চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে সূত্রেপ্রকাশ। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন জাতীয় আন্তঃ স্কুল মাদরাসার প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে ও কিছু আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয় বলে শিক্ষক মহলের দাবি। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিম শরীফ স্কুল মাদরাসার চাদাঁর স্বীকার করলে ও বোর্ডের আর্থিক সহায়তার কথা নাকচ করে দেন। তবে স্কুল মাদরাসা থেকে সংগ্রহকৃত উক্ত ৪৯হাজার টাকা কোথায় গেল তা সবার প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে। এদিকে খেলোয়াড় ক্রীড়ামোদী ও শিক্ষক মহলের দাবি যুগ যুগ ধরে এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয়ে আসছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে প্রতি বছরই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিম শরীফের উদাসীনতা ও সেচ্ছাচারিতা কারণে খেলোয়াড়’রা পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে। সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন প্রতিযোগিতার জন্য সরকারী কিছু বরাদ্দ আসে। এছাড়া স্কুল মাদরাসা থেকে চাদাঁ নেয়া হয়। তিনি বলেন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার না দেয়ায় আমি বিষয়টি সকলের মাঝে উপস্থাপন ধরি। সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল পর্ষদের সভাপতি ও পৌর মেয়র মোঃ জোবায়ের কাছে এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান আমি ঢাকায় আছি। আমি আসলে আয়োজকদের সাথে কথা বলব। সূত্রমতে অন্য্যন্য বছর খেলার জন্য মাইক ও ষ্টেইজ প্রয়োজন হত। এই বছর মাইক ও ষ্টেইজের ও প্রয়োজন হয়নি। যেহেতু একই সাথে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট ফুটবল শুরু হয়েছে। এই খেলার আয়োজকরা এসবের ব্যবস্থা করেছে। এই খাতের টাকা ও গচ্ছিত রয়েছে। সূত্রমতে সরকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার জন্য নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। তা বাস্তবায়নে কাজ যাচ্ছেন। কিন্তু সরকারী দপ্তরে ঘাপটিমেরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ফলে উদ্যোগের সুফল বাস্তবায়ন হবে কিনা সংশ্লিষ্ট মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। এছাড়া এখানকার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: