আড়াই বছরেরও বেশী সময় ধরে মহসিন কলেজের দুটি ছাত্রাবাস বন্ধ

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রসিদ্ধ কলেজ সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ। এই কলেজে ১৩ হাজারের মতো ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করে। কিন্তু কলেজের দুটি ছাত্রাবাস আড়াই বছরেরও বেশি সময় সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। কলেজের শত শত শিক্ষার্থী নানা ভোগান্তি সহ্য করে অধ্যয়ন করলেও ছাত্রাবাস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ছাত্ররাজনীতির কুপ্রভাবে ছাত্রাবাসগুলোতে আছর লেগেছে বলে মনে করছেন অনেকে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ছাত্রাবাস চালু করার মতো অবস্থা এখনো হয়নি। পুরো বিষয়টি অনিশ্চিত বলে জানান তারা। অবশ্য ছাত্ররা বলছে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলেই ছাত্রাবাস চালু করতে পারে। ছাত্রদের ভোগান্তি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকায় ছাত্রাবাসের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে আছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্রে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ অবস্থিত। পাহাড়ে স্থাপিত এই কলেজে রয়েছে পর্তুগিজ ভবন। এটি নগরীর অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিনের মহসিন ফান্ডের অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা
(চট্টগ্রাম মাদ্রাসা) হিসেবে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শুরু থেকেই এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯২৭ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম মাদ্রাসাকে চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ নামকরণ করা হয় এবং এর কার্যক্রম উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ইন্টারমিডিয়েট কলেজকে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ নামকরণ করা হয়। কলেজটিতে আগে থেকে ইন্টারমিডিয়েট ছিল। ১৯৭৯–৮০ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু করা হয়। ১৯৯৬–৯৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক
(সম্মান) কোর্স, ১৯৯৩–৯৪ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রথম পর্ব এবং ১৯৯৬–৯৭ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স শেষ পর্ব চালু করা হয়।
বর্তমানে এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১৩ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে যেসব ছাত্র দূরদূরান্ত থেকে এখানে পড়তে আসে, তাদের আবাসন সংকট ঘুচাতে কলেজটিতে ‘হাজী মুহাম্মদ মহসিন মুসলিম ছাত্রাবাস’ ও ‘নতুন হোস্টেল’ নামে দুটি ছাত্রাবাস আছে। দুটি ছাত্রাবাসের একটিতে ১৬০ জন এবং অন্যটিতে ৮০ জন ছাত্র থাকত।
২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের ব্যাপক সংঘর্ষের পর কলেজের ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ রয়েছে। ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু দরজা–জানালা ভেঙে গেছে। অযত্নে, অবহেলায় পড়ে থাকা হোস্টেল দুটির পলেস্তারা খসে পড়ছে। ব্যবহার না থাকায় ছাত্রাবাসগুলো ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।
অথচ কর্তৃপক্ষ চাইলে ছাত্রাবাস দুটি চালু করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছে ছাত্ররা। তারা বলেছে, ইতোমধ্যে ছাত্র রাজনীতির ব্যাপক পটপরিবর্তন হয়েছে। ছাত্র শিবিরের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে মহসিন কলেজের ছাত্ররাজনীতি পুরোপুরি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। গত আড়াই বছরে উল্লেখ করার মতো কোনো অঘটনও ঘটেনি। কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। শুধু হোস্টেল দুটি বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক ছাত্রকে ভাড়া বাসা বা মেস করে থাকতে হচ্ছে।
কয়েকজন ছাত্র বলেন,
আমাদের কলেজে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা যা হয়েছিল তা মিটে গেছে। এখন এখানে ছাত্রাবাস চালু করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ যদি কড়াকড়ি করে, বহিরাগতদের হোস্টেলে ঢুকতে না দেয়, তাহলে সমস্যা হবে না।
কলেজের ছাত্ররা জানায়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক মেধাবী ছাত্র এখানে অধ্যয়ন করে। লেখাপড়া করতে আসা অনেক ছাত্রের চট্টগ্রামে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। অথচ তাদেরকে বড় অংকের অর্থ খরচ করে বেসরকারি হোস্টেল কিংবা ভাড়া বাসায় মেস করে থাকতে হচ্ছে। ওখানে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। অনেক ছাত্রকে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। অথচ হোস্টেলগুলো অব্যবহারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এগুলো সংস্কার করে ছাত্রদের থাকতে দিলে অনেকের উপকার হবে।
এ ব্যাপারে সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অঞ্জন কুমার নন্দী বলেন, হোস্টেলগুলো চালু করার কোনো সুযোগ নেই। এগুলো আর বাসযোগ্য নেই। পাকিস্তান আমলে নির্মিত হোস্টেলগুলোর দরজা– জানালা ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। পলেস্তারা খসে পড়েছে। যখন–তখন অঘটন ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, শতবর্ষী কলেজ হিসেবে আমাদের কলেজ একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। ওই প্রকল্পে নতুন হোস্টেল করা হতে পারে। তখন হোস্টেল চালু হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: