লোককলা চর্চা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ আগস্ট ২০১৮, বৃহস্পতিবার: লোককলা চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে লোক কবিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সংগঠনের দোস্ত বিল্ডিংস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে ছিল উদ্বোধন, লোক গান ও কবিগানের কর্মশালা, বাইশ কবির মনসা মঙ্গল পুঁথি পাঠ, গাজী কালুর গীত, আলোচনা সভা। কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন চবি লোকশিল্প লোকসাহিত্য গবেষক ভাষ্কর ডি.কে. দাশ (মামুন)। চর্চা কেন্দ্রের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক প্রণব রাজ বড়–য়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথিবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান লোক কবি আবদুল লতিফ, সিএমপি’র সাবেক এডিসি কবি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক বাবুল কান্তি দাশ, নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল, সংগঠক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শিল্পী রতন কুমার রাহা, কবিয়াল সন্তোষ কুমার দে, কবিয়াল বাবুল দাশ, ডা. শিউলী চৌধুরী, সংগঠক মোশাররফ হোসেন খান রুনু, আইটি এক্সপার্ট মোহাম্মদ ইসমাইল, শিল্পী তপন কুমার দাশ, সংগঠক শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, ভাস্কর শিল্পী পিযুষ সরকার, সংগঠন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. সালাম, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ, পুঁথি পাঠক জগদীশ চন্দ্র দাশ, মোপলেস সংগঠক সজল দাশ, সংগঠক সালাউদ্দিন লিটন, নাট্যকর্মী মোঃ আজগর আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ মিজান, সোনিয়া সালাম, নাট্যকর্মী চৈতী দাশ, কবি আসিফ ইকবাল, রাসেল দত্ত রাজু, মোঃ ফয়সাল ইসলাম, কাজলী আখতার, খাদিজা আখতার ডলি প্রমুখ।
বাচিক শিল্পী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী’র সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বলেন বাংলাদেশের লোকজ ধারার সংগীতের ইতিহাস বহুকালের প্রাচীন। সাধারণত লোকায়ত বাংলার নিবিড় পল্লীতে এই লোকজ চর্চা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এখনও প্রত্যন্ত বাংলায় লোকজ ধারার গানের আসরে রাত জেগে মানুষ লোকগান শুনেন। বাঙালির হাজার বছরের লোকায়ত জীবনের প্রতিটি অনুষঙ্গে নিজস্ব ধারা বহতা নদীর মতো প্রবাহিত। লোকায়ত বাংলার জারি সারি, মাইজ ভান্ডারী গান, মারফতি, ভান্ডারী, আঞ্চলিক গান, কবি গান, পালট কীর্তন, ধামার গান, ছাদ পেটানো গান, বিশেষ করে বিয়ে বাড়ীতে পরিবেশিত কক্সবাজারের হঁওলা গান শোনার যে ঐতিহ্য তা আজ অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যেতে বসেছে। পুনরায় নতুন উদ্যোগে সে সমস্ত সংগীতের প্রশিক্ষণে সরকারী প্রণোদনা আবশ্যক। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লোক গানকে বাঁচিয়ে রাখতে আঞ্চলিক, লোক গানের চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে এতদাঞ্চলের হাজার বছরের পুরনো সংগীতকে ব্যাপক চর্চার ক্ষেত্র অবারিত করতে হবে।
সবশেষে মনসা মঙ্গল পুঁথি থেকে পাঠ করেন কবিয়াল সন্তোষ কুমার দে, কবিয়াল আবদুল লতিফ, পুঁথি পাঠক জগদীশ চন্দ্র দাশ, কবিয়াল বাবুল দাশ ও তাদের দল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: