বিজিএমইএ’র পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ আগস্ট ২০১৮, বুধবার: চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক অবস্থা এবং আসন্ন ঈদ-উল-আযহার প্রাক্কালে চট্টগ্রামস্থ পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু)। পাশে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, পরিচালক কাজী মাহাবুবউদ্দিন জুয়েল, সাইফ উল্লাহ্্ মনসুর, আমজাদ হোসেন চৌধুরী।  বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেছেন, নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিবাদ ও পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের সাত দিনের মধ্যে ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ১৬৮ বক্স কনটেইনার ছাড়াই পাঁচটি জাহাজ চলে গেছে। ৮ আগস্ট সমিতির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক অবস্থা ও ঈদুল আজহার প্রাক্কালে চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ফেলে যাওয়া কনটেইনারের বিপরীতে বায়াররা ডিসকাউন্ট ও এয়ার শিপমেন্ট চাইছে। তিনি বলেন, বন্দরের ধারণক্ষমতা ৪৮ হাজার টিইইউস। দুই বছর আগে ধারণক্ষমতা ছিল ৩৭ হাজার টিইইউস। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) কনটেইনার ছিল ৪৩ হাজার ৫০৭ টিইইউস। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী রপ্তানির ক্ষেত্রে সপ্তাহে সাত দিন বন্দর, কাস্টম, ব্যাংক, বিমাসহ লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবস্থা করেছেন। বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।  বক্তারা বলেন, রপ্তানীতব্য তৈরী পোশাকের ১,১৬৮টি বক্স কন্টেইনার ছাড়াই ৫টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করে। নিশ্চিত ভাবে সংশ্লিষ্ট রপ্তানীকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।
বন্দরে মোট ধারণ ক্ষমতা ৪৮,০০০ টিউজ। গত ২৯/০৭/২০১৮ইং তারিখে বন্দর ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিল ৪১,০০০ টিউজ। ০৭/০৮/২০১৮ইং তারিখে বন্দর ইয়ার্ডে মোট কন্টেইনার ছিল ৪৩,৫০৭ টিউজ। এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে আমদানী-রপ্তানী পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারীতে বিঘœ সৃষ্টি হয়।
একদিকে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি, অন্যদিকে বন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত ইক্যুপমেন্ট না থাকায় প্রায়শই জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়, যা- প্রতিনিয়ত তৈরী পোশাক খাতের গতিশীলতা ব্যাহত করে। গত ১০/০৭/২০১৭ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা / ০৭ দিন আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে। এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
বর্তমানে বন্দরে ০৪টি গ্যাংট্রি ক্রেন আছে। আগামী অক্টোবরে আরো ০৬টি গ্যাংট্রি ক্রেন সংযুক্ত হবে। যা আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বে-টার্মিনাল ঃ
বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও চলমান প্রবৃদ্ধির মোকাবেলায় পতেঙ্গা উপকূলে ১২০০ একর জায়গায় বে-টার্মিনাল নির্মান কাজ শুরু করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন এরিয়ার ৬ গুন বেশী এই বে-টার্মিনাল। এই টার্মিনালে বেশী ড্রাফটের জাহাজ সহ একসাথে ৩০-৩৫টি জাহাজ বার্থিং করতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ চলাচল জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই টার্মিনালে ২৪ ঘন্টা জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এতে জাহাজের গড় অবস্থান কাল কমে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রথম পর্ব এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের কাজ সমাপ্ত হবে মর্মে বন্দর সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে ভুমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। আগামী ২২ আগষ্ট, ২০১৮ইং তারিখে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরী ভাতা ইত্যাদি সময়মত পরিশোধের দায় রয়েছে কারখানা মালিকদের। গত রোজার ঈদ সহ পূর্ববর্তী সব ঈদে আমরা শতভাগ কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি আসন্ন ঈদ-উল-আযহা’র মাসেও আমরা শ্রমিকদের মজুরী ও ভাতাদি পরিশোধ করতে সক্ষম হবো। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পরিবহণের ঘোষিত ও অঘোষিত ধর্মঘটে ক্ষতিগ্রস্থ রপ্তানীকারকদের পক্ষে সময়মত মজুরী পরিশোধ করা কষ্ট সাধ্য হবে। তারপরেও আমরা সর্বোত ভাবে প্রিয় শ্রমিক ভাই বোনদের ন্যায্য পাওনাদি বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।
এ’ক্ষেত্রে ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা অত্যাবশক। ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশনায় ব্যাংক সুদের হার ৯% নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আগামীকাল ০৯/০৮/২০১৮ইং তারিখে থেকে কার্যকর করার জন্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আমরা আশা করি তা যথাসময়ে কার্যকর হবে এতে বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শেখ হাসিনার গতিশীল, সাহসী ও দূরদর্শি নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে স্বীকৃত। ইতিমধ্যে আমরা জাতিসংঘ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে প্রাথমিক স্বীকৃতি পেয়েছি। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং পর্যায়ক্রমে ২০৪১ সালে উন্নত দেশ গঠনে আমরা সরকারী ও বেসরকারী খাত একতা বদ্ধ হয়ে কাজ করছি। আমাদের বর্তমান লক্ষ্য ২০২১ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশিত ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরী পোশাক রপ্তানী করা। আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
চট্টগ্রাম গার্মেন্টস্ শিল্পের সূতিকাগার। ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশের তৈরী পোশাকের ৪০ শতাংশই চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানী হত। সম্ভবতঃ কোঠা পরবর্তী মুক্তবাজারে প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হয়ে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। হাতের কাছে বন্দর, আইসিডি, কাস্টমস্্ সহ সবরকম সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এ ব্যর্থতা হতাশা জনক। বর্তমানে চট্টগ্রামে নিবন্ধিত কারখানা-৬৮১টি, চালু আছে ৩৫৭টি, বন্ধ হয়েছে ৩২৪টি।
সরকার, মিরশ্বরাই-এ বন্দর সুবিধা সহ বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছেন। সেখানে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা সহ তুলনামূলক স্বল্প মূলে প্লট বরাদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। কর্ণফুলির পূর্বতীরে আনোয়ারায় গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। কর্ণফুলি নদীর তলদেশে নির্মিত হচ্ছে টানেল। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এ’সব পুরোপুরি চালু হলে বদলে যাবে চট্টগ্রামের দৃশ্যপট। চট্টগ্রামে বিনিয়োগ বাড়বে এবং তৈরী পোশাক শিল্প, পর্যটন সহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরে আসবে হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব।

Leave a Reply

%d bloggers like this: