ছাত্রলীগের কারণেই ঢাবিতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোন নিরাপত্তা নেই: বিএনপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ আগস্ট ২০১৮, বুধবার: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীকে কোমরে দড়ি বেঁধে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় এ তীব্র সমালোচনা করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, এ যেন গোটা ছাত্রসমাজের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা নির্মমতার পথ বেছে নিতে পারে, এটি তার একটি নিকৃষ্ট উদাহারণ। এটা জাতির জন্য শুধু লজ্জার নয় এ দৃশ্য দেখে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রুহুল রিজভী বলেন, তারা তো কোন অন্যায় করেনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। সরকার কতটা নিষ্ঠুর নির্মম হতে পারে যে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায্য আন্দোলনের দাবি দমন করতে তাদরে গ্রেফতার করে পায়ে ডান্ডা বেড়ি ও কোমরে দড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন ন্যাক্কারজনক দৃশ্যের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। অবিলম্বে তাদের রিমান্ড বাতিল করে মুক্তি দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল চলমান ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। আসলে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের ডি-ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষ হচ্ছে ছাত্রলীগ। তাদের কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন উঠে বসে, সেজন্যই ছাত্রলীগের হুকুমই তামিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগের কারণেই সেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কোন নিরাপত্তা নেই। সর্বব্যাপী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ন্যায্য দাবির আন্দোলনে তারা বিজয়ী হবেই।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে এখন অবলম্বন করা হয়েছে নির্যাতনের পথ। দেখানো হচ্ছে নানা ধরণের নাটক ও প্রহসন। আন্দোলন শুরু হওয়ার দুদিন পর ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন এবার মাঠে নামবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগে কতো মাঠে নামানো হলো কি কারণে তার নমুনাতো সারা দেশবাসী দেখলো।
রিজভী বলেন, নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের সশস্ত্র হামলা করতে ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতেই তাদের নামনো হয়েছিল। রক্তাক্ত শরীরে ভয়ার্ত আর্তনাদে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে কোমলমতি শিক্ষার্থী আর সাংবাদিকদের। আন্দোলন দমাতে এখন সরকারি সহিংসতার পাশাপশি তারা নির্বিচারে মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনে বিএনপিকে জড়াতে হীন কৌশল তারা প্রথম থেকেই এঁটে আসছে। এখন সেটা জোরেশোরে শুরু করেছে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মিথ্যা দিয়ে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক ফ্লেভার দেয়ার জন্যই এ মিথ্যা মামলা। বানোয়াট গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহববুল হক নান্নুকে, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরুন্নেছা হককে, অনলাইন এক্টিভিস্ট মাহাদী আরজান ইভান, রাজন বেপারী, ফাতেমা খানম, শান্ত ইসলাম জুম্মন, ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন পিয়াসকে ও যুবদল নেতা টিপু সুলতান মজুমদারকে। আমি অবিলম্বে আটকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল আপনাদেরই একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী পরোক্ষে আপনাদের উদ্দেশ্য করেই স্বৈরাচারি চেহারার কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরেছেন। মানুষের মতপ্রকাশর স্বাধীনতা নেই, গণমাধ্যমের স্বাাধীনতা নেই উল্টো গণমাধ্যমের ওপর চলছে দলন নিপীড়ন, সশস্ত্র হামলা ও রক্তাক্ত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন তারা। ধমক দেয়া হচ্ছে ইলকট্রনিক মাধ্যমকে। প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ন্যায় বিচারের বাণী গুমরে গুমরে কাঁদছে। দেশজুড়ে লুটের রাজত্ব চলছে সবই আছে সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। এই বিভৎস্য অনাচারমূলক অরাজক পরিস্থিতিকেই কি ওবায়দুল কাদের শান্তিময় পরিবেশ বলতে চাচ্ছেন।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সিইসি বলেছেন নির্বাচনে অনিয়ম হবে না, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কেন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, কারণ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশও ধ্বংস করে দিয়েছে। কাদের সাহেব আপনারা যতই ধাপ্পাবাজি করুণ না কেন, জনগণের কাছে জবাব দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, জবাব দিতে হবে পাথর লুটের, কয়লা লুটের, ব্যাংক লুটের, শেয়ারবাজার লুটসহসহ সমস্ত আর্থিক খাত ধ্বংসের, জবাব দিতে হবে অসংখ্য গুম খুন বিচারবহির্ভূত হত্যার। জবাব দিতে গণতন্ত্র হত্যার, রাজনীতি ধ্বংস করার, মানুষের ভোটাধিকার হরণের। জবাব দিতে হবে বাকস্বাধীনতা হরণের। জবাব দিতে তরুণ সমাজের সাথে প্রতারণার। ষড়যন্ত্রের কথা বলে পার পাওয়া যাবে না। আপনারাই প্রতিনিয়ত দেশ ও দেশের মানুষের সাথে চক্রান্ত করে চলছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: