শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টনক নড়ছে সরকারের

নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের করা আন্দোলনের ফলেই সরকার দ্রুতগতিতে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগী হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশ্লেষক নাসরীন সুলতানা মনে করেন সড়ক ও পরিবহণ ব্যবস্থাপনার ভুলত্রুটিগুলো সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যে কারণে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নতুন অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনে।
“ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্যাক্স টোকেন, রোড পারমিট, ফিটনেসসহ গাড়ির বিভিন্ন বিষয়গুলো আগের সড়ক পরিবহন আইনে সেভাবে উঠে আসেনি। এবারের আইনে এই বিষয়গুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়েছে”, বলে মন্তব্য করেন মিজ. সুলতানা।
এই আন্দোলন না হলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এবিষয়ে এতোটা আলোচনা হতো না বলে মনে করেন মিজ.সুলতানা।
আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অনেকসময়। অনেক সময়ই এমন অভিযোগ পাওয়া যায় যে, আইন অমান্য করার পর শাস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা ছাড় পেয়ে থাকেন।
আরো পড়ুন:
জিগাতলা-সায়েন্স ল্যাব ‘ঠান্ডা’, অশান্ত বাড্ডা
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
সংঘর্ষ ছড়াচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে
কাজেই আইন প্রণয়ন হলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব?
নাসরীন সুলতানা মনে করেন, “একজন নাগরিক হিসেবে আমি আশা করবো যেই আইন আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন যেন সুষ্ঠভাবে হয়।”
মিজ. সুলতানা বলেন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যেমন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে তেমনি আইন প্রণেতাদের ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকেও পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে।
মিজ সুলতানা বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এত কম সময়ের মধ্যে কোনো আন্দোলন এত বেশি আলোড়ন তৈরী করতে পারেনি।”
তাঁর মতে আন্দোলনের কারণে সরকার নড়েচড়ে বসেছে, যা ছাত্রসমাজের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাফল্য।

Leave a Reply