ঘটেছিল সেদিন কী?

রবিন আকরাম, ৭ আগস্ট ২০১৮, মঙ্গলবার: নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনটি এখন ন্যায়বিচারের আন্দোলনের পরিণত হয়েছে। রোববারও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ ও ‘সরকারি’ ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা। ছবি ঘরে দেখুন বিস্তারিত?
আগের দিনের হামলার প্রতিবাদ
ধানমন্ডিতে গত শনিবারের হামলার প্রতিবাদে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দু’টি মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়া হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন।
জিগাতলা যাওয়ার সিদ্ধান্ত
শাহবাগ থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জিগাতলা মোড়ের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জিগাতলার উদ্দেশে মিছিল
দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব হয়ে জিগাতলার দিকে মিছিল নিয়ে এগোয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জিগাতলা মোড়ে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সামনে দিয়ে ফিরছিল, অন্য অংশটি দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশের মুখোমুখি। আন্দোলনকারীরা পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করছিল।
টিয়ার শেল
এক পর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের দিকে টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও দূর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে ও টিয়ার শেলের ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালায়।
লাঠিসোঁটা হাতে ওরা কারা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, টিয়ারশেল থেকে বাঁচতে ধানমন্ডি লেকের পাশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ বেরিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে যুবকেরা শিক্ষার্থীদের তাড়া দেয়। একই সময়ে ঢাকা কলেজ থেকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অনেকেই রক্তাক্ত হন।
সায়েন্স ল্যাবরেটরিতেও টিয়ারশেল
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগ হাজির হলে বেলা দেড়টার পর পুলিশ সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিক থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু করে৷ তারপরই লাঠিসোঁটা, রড, পাইপ, রামদা হাতে মাথায় হেলমেট পরা একদল যুবক শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে কাঁটাবনের দিকে তাড়িয়ে দেন। ধাওয়ার সময় তাঁরা কয়েকজনকে মারধর করেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা
সাংবাদিকেরা যখন আহতদের ছবি তুলছিলেন, তখন অতর্কিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে তাঁদের শাসান। পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে বলেন, সাংবাদিকদের কেউ যদি ছবি তোলেন তাহলে সবাই ‘রক্তাক্ত’ হবেন। ছবি তুলতে গিয়ে মারধরের শিকার হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তাদের ক্যামেরাও ভেঙ্গে ফেলা হয়।
পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
হেলমেট পড়া, রাম দা, কিরিচ, লাঠি, রড হাতে যুবকরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলেও সে সময় পুলিশ ছিল নীরব। তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পুলিশের ভূমিকা।
ন্যায়বিচার চাই
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীদের ওপর বার বার হামলার পর দাবি পরিবর্তিত হয়ে স্লোগান হয়ে ওঠে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বা ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’।

Leave a Reply