চট্টগ্রামের চকবাজার ঘিরে পুলিশের টোকেন বাণিজ্য!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জুলাই ২০১৮, বুধবার: চট্টগ্রাম নগরীতে চকবাজার এলাকা জুড়ে রাস্তার উপর অবৈধ গাড়ী ও ভাসমান দোকানের নৈরাজ্য চলছেই। প্রতিদিনই গাড়ীর ধাক্কায় বা দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন কেউ না কেউ। আর রাস্তা বাদ দিয়ে নিরাপদ চলাচলে ফুটপাতে হাটার জায়গা পর্যন্ত নেই, তাও ভাসমান দোকানের দখলে। এতে জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, লাভবান হচ্ছে সন্ত্রাসী ও পুলিশ। রাস্তায় যানজট সৃষ্টির মূলে রয়েছে এসব সমস্যা। বিশেষ করে টমটম। বিদ্যুৎ খেকো এ যান অবৈধ হলেও ক্ষমতার জোরে রাস্তা দখলে রেখেছে এরা। সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠলেও এ থেকে যেন বাঁচার উপায় নেই। বলা হয়, পুলিশের প্রত্যেক দায়িত্বরত কর্মকর্তার এলাকায় তাদের নলেজ ও ম্যানেজ মানি ছাড়া অবৈধ কিছুই সম্ভব না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অবৈধ টমটমের দুইটি লাইন চলছে চকবাজার থেকে। একটি লাইন চলছে চকবাজার থেকে রাহাত্তারপুল মুখী সড়কে, অন্যটি চকবাজার পোস্ট অফিসের সামনে থেকে আন্দরকিল্লা পর্যন্ত। আর এসব টমটম গাড়ী লাইন নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় সন্ত্রাসী। আর থানা ও ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে দিচ্ছেন ‘টোকেন’ অনুমোদন!
অনুসন্ধানে জানা যায়, এখানে গাড়ী চলাচল করতে শুরুতেই লাইনের নিয়ন্ত্রক সন্ত্রাসীকে প্রতি টমটম বাবদ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিভিন্ন খরচ বাবদ দিতে হয় প্রতিদিন ১৫০ টাকা। এছাড়া প্রতিমাসে প্রতিটি গাড়ি ৬০০ টাকা পরিশোধ করে পুলিশের ‘টোকেন’ বাবদ এবং এই সড়ক গুলোতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকেও প্রতিদিন গাড়ী প্রতি ১০ টাকা দিতে হয়।
ব্যাটারি চালিত টমটম চলছে চকবাজার ও বাকলিয়া থানা এলাকার প্রতিটি অলিগলিতে। অন্তত দুই হাজার টমটম আছে এ জোনে। আর এসব টমটম থেকে প্রতিমাসে চাঁদা উঠছে কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি থেকে শুরু করে ট্রাফিক বিভাগের টি.আই, সার্জেন্ট থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত ভাগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
একই ভাবে চকবাজার কেয়ারি মার্কেটের সামনে কলেজ রোড থেকে চার চাকার মাহিন্দ্রা ও বড় তাকিয়া নামে দুইটি অবৈধ গাড়ীর লাইন চলছে। চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণকে। প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। যার অধিকাংশ চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিক্ষার্থী। এসব গাড়ীর চালকরা প্রায়ই অনভিজ্ঞ। এই লাইন দুইটিও নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ। তবে এখানে টাকার পরিমাণ টমটমের চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া, রাস্তা ও ফুটপাত জুড়ে অধিকাংশ জায়গা ভাসমান দোকানের দখলে। তেলপট্টি মোড় থেকে অলি খাঁ মোড়, গুলজার থেকে চট্টগ্রাম কলেজ, প্যারেড মাঠের পূর্বপাশ কেয়ারির সামনে কানেক্টিং সড়ক ও লালচাঁন্দ রোডে ভ্যান গাড়ী নিয়ে বসে শতশত ভাসমান দোকান। এখানেও পুলিশ নির্ধারিত চাঁদা আদায় করে এসব দোকান বসার সুযোগ দিচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, চকবাজার এলাকা থেকে চালিত এসব অবৈধ গাড়ীর লাইনের টাকার ভাগাভাগি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। এসব লাইন কিছুদিন একপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকলে, আবার ক্ষমতাবলে অন্য পক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ নিয়ে অসংখ্যবার বড় ধরনের সংঘাত হয়েছিল। স্থানীয় তিনটি গ্রুপ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া সবসময়। ফলে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে নানা সংবাদ প্রকাশের পর বা কোন চাপে পড়ে পুলিশ এসব লাইন বন্ধ করলেও, পুনরায় চালু করা হয়। অভিযান গুলোকে বলা যেতে পারে একপ্রকার লোকদেখানো। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনের লোক যদি দুর্নীতিতে জড়িয়ে আইন ভাঙে তাহলে পুলিশ প্রশাসনের কাছে কিছুই আশা করা যায় না। আর এসব অনিয়ম ও অপকর্ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা অসম্ভব। এখানে জনসাধারণ অসহায়।
চকবাজারে অবৈধ গাড়ী পার্কিং ও ভাসমান দোকানের ব্যাপারে এডিসি উত্তরের নিকট জানতে চাইলে তিনি এডিসি দক্ষিণের সাথে কথা বলতে বলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: