ধরাছোঁয়ার বাইরে ইয়াবা কারবারিরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুলাই ২০১৮, শুক্রবার: ধরাছোঁয়ার বাইরে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী ও মাদক কারবারিরা। আর এই মাফিয়ারা গ্রেফতার না হওয়ার কারণেই বন্ধ হচ্ছে না মানব পাচার ও মাদক কারবার। সীমান্ত গলিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক দেশে প্রবেশ করছে। একই সাথে তাদের হাত হয়ে চোরাচালানের পণ্যও প্রবেশ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাঝে মধ্যে মাদকদ্রব্যসহ চোরাচালানের পণ্য আটক হলেও যারা গ্রেফতার হয় তারা হলো ক্যারিয়ার। তেমনি মানব পাচারকারীদের দালালেরা গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা। চলতি বছরের ৫ মে চট্টগ্রামের স্টেশন রোড থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় এক মাদক ব্যবসায়ীকে। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালানো হয় হালিশহরস্থ এক বাড়ীতে। তল্লাশি চলে দুপুর ১২ টা থেকে প্রায় তিন ঘন্টা। প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেশী জানান, সেদিন দুইটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এই বাড়ীতে আসে। বাইরে উৎসুক জনতা ভীড় জমিয়েছিল। কিন্তু ভিতরে কি ঘটছিল তা বুঝার উপায় ছিল না। তবে এটা নিশ্চিত যে সেখানে বড় কোন অভিযান হচ্ছে। এমনকি জানালার পর্দা পর্যন্ত খুলে তল্লাশি করা হচ্ছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ইয়াবার খোঁজে সে বাড়ীতে তল্লাশি করা হয়েছিল। ঘটনাটি এক মাদক ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে। এই বাড়ীর মালিক আব্দুর রশীদ ওরফে রশীদ খুলু। তার পুত্রের নাম ফয়সাল রশীদ। বাংলাদেশকে ইয়াবার সাথে পরিচয় করান এই রশীদ খুলু। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় দেশের বিপজ্জনক শীর্ষ ইয়াবা কারবারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রশীদ খুলুকে।
কে এই খুলু?
জন্মসূত্রে মায়ানমার নাগরিক হলেও কোন এক সময় সীমান্ত পার হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের বাজার পাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন এই রশীদ খুলু। প্রথমে টেকনাফের ফসলি জমিতে ও পরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকায় দিন মজুর হিসেবেও কাজ করেছেন।
কিন্তু হালে বদলে যায় এই চিত্র !
হঠাৎ তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ইয়াবা গডফাদার হিসেবে। বলা হয় ইয়াবার রাজা এই রশীদ খুলু। ২০০০ সালের আগে বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারে সার পাঁচার চক্রের হোতা ছিল এই রশীদ খুলু। বাংলাদেশে ২০০০ সালের পর ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। সাথে টেকনাফের আরো অনেকে ছিল। তখন দেশের যুব সমাজের নিকট নেশাদ্রব্যের মধ্যে ফেনসিডিল সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। ফেনসিডিলের পাশাপাশি বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ও সহজে বহনযোগ্য ইয়াবার চালানও আনা শুরু করে। তার মধ্যে রশীদ খুলু অন্যতম।
ইয়াবার আত্মপ্রকাশ:
২০০৬ সালের দিকে ঢাকায় মাদকের একটি চালান আটকের পর ইয়াবা নামক এই মাদক সম্পর্কে অবগত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথম দিকে ছোট ছোট চালানে দীর্ঘ অনেক বছর মায়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছিল এই মরণ নেশা ইয়াবা। সে সময় এক পিস ইয়াবার খুচরা বাজার মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা। আস্তে আস্তে ইয়াবার চালানের পরিমাণ বাড়তে থাকে, সেই সাথে দামও কমে আসে। আর দাম কমাতে যুব সমাজের নিকট এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এইভাবেই ২০০০ সাল হতে শুরু করে টানা দশ বছর ছোটখাট চালান চট্টগ্রামকে ট্রানজিট করে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।
খুলু’র আত্মপ্রকাশ:
২০১২ সালে দেশের সর্বপ্রথম ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান নিয়ে গ্রেপ্তার হন রশীদ খুলু। টনকনাড়া দিয়ে উঠেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ভাবিয়ে তুলে সরকারকে। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ঢাকার একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ইয়াবা গডফাদার রশীদ খুলুর এই মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পায় র‌্যাব। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খুলু’র উপর গোয়েন্দা নজরদারী করা হয়। ইয়াবার বড় চালান টেকনাফ হতে চট্টগ্রামকে ট্রানজিট করে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকায় নিয়ে তা খুচরা মাদক বিক্রেতাদের নিকট বিক্রি করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পায় র‌্যাব। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে র‌্যাব গোয়েন্দারা জানতে পারে মায়ানমার মংডু বন্দর হতে ফিশিং ট্রলারে শুকনা বরই’র বস্তার মধ্যে ইয়াবার একটি বড় চালান টেকনাফ বন্দরে আসবে এবং কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে তা চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ’র জনৈক মালেক চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠান এ.কে. ট্রেডিং’র গুদামস্থ করা হবে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১ উত্তরা, ঢাকা এবং র‌্যাব ৭ চট্টগ্রাম এর দু’টি দল যৌথভাবে চট্টগ্রমের আসাদগঞ্জতে ১৭ মে ২০১২ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা হতে পরদিন ১৮ মে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা ১৪ ঘন্টা বিশেষ অভিযান চালায়। আসাদগঞ্জের জনৈক মালেক চেয়ারম্যানের গুদামে মাল আনলোড করার সময় ২,৭০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইয়াবা চালানের মূল হোতা রশীদ আহমেদ খুলু (৫০), পিতা-মৃত হাজী আলী আহমদ, খুলু’র শ্যালক আতাউল করিম (২৮), ইয়াবা ব্যবসায়ী মো: ইসমাইল (২৭) ও সাব্বির আহমেদ (৩০) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাব ৫ জনকে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ধারায় ১৮ মে শুক্রবার মামলা দায়ের করে। তাকে গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হন এই রশীদই বাংলাদেশে ইয়াবার জনক। কিন্তু চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসে রশীদ খুলু, তার শ্যালক আতাউল ও অন্যান্য সহযোগীরা।
খুলু’র সিন্ডিকেট:
এদিকে, ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট রশীদ খুলু সিণ্ডিকেটের চট্টগ্রাম প্রধান জাহিদুল ইসলাম ওরফে আলো নগরীর হালিশহর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল। আলো’র মৃত্যুর পর তার ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব অ্যাকাউন্টে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢুকেছে ১১১ কোটি টাকা। এ টাকার উৎস সন্ধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে দুদককে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। দুদক বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে পাঠায়। তদন্ত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের সাবেক উপ-পরিচালক আলী আসলাম হোসেন।
তখন তদন্তে জানা যায়, নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার শাহ আমানত টাওয়ারে খাজা টেলিকম নামে আলোর একটি মোবাইল যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান ছিল। ১ দোকানের নামেই বিভিন্ন ব্যাংকে তার ১২টি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাব গুলোতেই লেনদেন হতো ইয়াবা বিক্রির শত শত কোটি টাকা।
রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা থেকে এসব ব্যাংক হিসাবে শুধুই টাকা ঢুকেছে, কিন্তু কখনো উত্তোলন করা হয়নি। তাহলে অনুমান করা যায় এই সিণ্ডিকেট কত হাজার কোটি টাকার মালিক! অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, আলো এক সময় মোবাইল চুরির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল নিউ মার্কেট রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায়। ২০০৭ সালে রিয়াজউদ্দিন বাজারের মরিয়ম মার্কেটে দুইটি দোকান কিনে আলো। একই মার্কেটে রশীদ খুলুর মালিকানাধীন একটি ট্রাভেল এজেন্সির নামে অফিস ছিল। আলো তার বোনের স্বামী সগিরের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসায়ী রশীদ খুলুর সিণ্ডিকেট এ জড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি বাড়ি থেকে ইয়াবা উদ্ধারের সূত্র ধরে র‌্যাবের একটি দল ইয়াবা ব্যবসায়ী আলোকে শনাক্ত করেছিল ২০১৪ সালে। এরপর যা ঘটে তা রীতিমতো বিস্ময়কর। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর হালিশহর এলাকায় আলোর বাসায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ১৯ লাখ টাকাসহ আলোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন সে জামিনে বেরিয়ে যায় অল্প দিনে। এর কিছুদিন পরই ইয়াবার চালান খালাসের সময় র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয় আলো। ২০১৫ সালে আলো ক্রসফায়ারে মারা যাবার পর মরিয়ম মার্কেটে থাকা অফিস বন্ধ করে দেয় রশীদ খুলু।
খুলু’র আবাসস্থল:
চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন কর্ণফুলী আবাসিক এলাকার ২নং সড়কের ৩৬ নম্বর বাড়ীটি রশীদ খুলুর। পরিবার নিয়ে এখানেই বসবাস করেন। হালিশহর শ্যামলী আবাসিক এলাকায় ‘একতা বিল্ডিং’ নামে আরো একটি বিলাশ বহুল ভবন আছে তার। চট্টগ্রামে তার ব্যবহৃত একটি দামী প্রাইভেট কার আছে যার নম্বর চট্টমেট্রো-গ ১১-১৩৮২। ২০১৫ সালে আলো ক্রসফায়ারে মারা যাবার পর চট্টগ্রামের সব অফিস বন্ধ করে ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম ও অফিস গড়ে তুলেন রশীদ খুলু। আর.এফ.এফ ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরের সিটি ব্যাংক টাওয়ারের ৩৭ তলায় অফিস খুলে বসেন তিনি। এরপর থেকে ইয়াবার বড় লেনদেন গুলো হয় সেখানে বসেই। বাবার পাশাপাশি পুত্র এখন নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো সিণ্ডিকেট। পেমেন্ট হয় মালয়েশিয়ায়, আর ইয়াবা পৌঁছে যায় মায়ানমার থেকে বিভিন্ন পথে বাংলাদেশ ও ভারতে।
খুলু’র উত্থান:
দিনমজুর থেকে দিনে দিনে পাহাড় সমান অর্থ ও সম্পত্তির মালিক বনে যায় রশীদ খুলু। দিন যত গড়িয়েছে ব্যবসার পরিধি ও সম্পত্তি তত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় তার নিজস্ব এজেন্ট আছে। তাদের মাধ্যমেই পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইয়াবা সরবরাহ হয়। ইয়াবা বিক্রি করে দেশের যুব ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো, আর তারা হলো শত থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক। যার একটি অংশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। মাসোহারা দিয়ে নিরাপদ জীবনযাপন ও ইয়াবার ব্যবসা চলছে রমরমা। ফলে ২০১২ সালে একবার গ্রেপ্তার হলেও এরপর থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রশীদ খুলু ও তার পরিবার। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এর নামে শত কোটি টাকার জায়গা-সম্পত্তি আছে। বিলাশ বহুল সম্পত্তি সবার দৃষ্টিগোচর হলেও দুদক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলো যেন কিছুই দেখছে না!
ব্যবসার রুট:
অভিযোগ আছে, রশীদ খুলু শুধু ইয়াবা ব্যবসা নয়, অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত। তিনি মায়ানমার ও ভারত সীমান্তে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে রীতিমত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। ভারত সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী থেকে অস্ত্র কিনে তা মায়ানমার ভিত্তিক উগ্রপন্থী সংগঠনের কাছে বিক্রয় করে আসছেন দীর্ঘ অনেক বছর। শুধু তা নয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা রাখেন তিনি। আছে বিভিন্ন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। যা তাদের নিরাপত্তা বা প্রতিপক্ষ কোন সিণ্ডিকেট এর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় বসে ইয়াবা ব্যবসার অর্থ লেনদেন হলেও তা চলে যায় মধ্যপ্রাচ্যে। সেখান থেকে হুন্ডি ও গোল্ড ব্যবসার মাধ্যমে পুনরায় বাংলাদেশে ঢুকছে এই টাকা। এই জন্য চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ভিত্তিক একটি চক্র তাদের হয়ে কাজ করছে। এখানে দেখাশুনা করছে বাবু, আনোয়ার ও আরো অনেকে। এইভাবে তার অবৈধ ব্যবসা ও অর্থ রোলিং হচ্ছে রীতিমত।
লোক মুখের কথা:
বলা হয় অনেক উপরতলার লোক রশীদ খুলু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের হাত সেই পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা তা অনিশ্চিত। রশীদ খুলুর পাশাপাশি তার সিণ্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে তার পুত্র ফয়সাল রশীদ, মেয়ের জামাই আবু বক্কর ও শ্যালক আতাউল করিম। বিগত রমজান মাসে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে পিতা ও পুত্র বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। মালয়েশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোন দেশে যাওয়ার জন্য তাদের পাসপোর্ট-এ ভিসা লাগানো থাকে সবসময়। পরিস্থিতি খারাপ দেখলেই বিদেশে চলে যান দিনে দিনে। বিমান বন্দরে তাদের বিদেশ যাওয়া নিয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ হতে। ফলে তারা নিরাপদেই আসা যাওয়া করছে দেশ-বিদেশে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক চলমান বিশেষ অভিযান নিষ্ক্রিয় হয়ে ওঠায় রশীদ খুলু ও তার পুত্র ক’দিন আগে দেশে ফিরে এসেছে। চট্টগ্রামের হালিশহরে নিজ বাড়ীতে অবস্থান না করলেও বিভিন্ন আত্বীয়’র বাড়ীতে অবস্থান করছে।
ইয়াবার অপর হোতা চট্টগ্রামে:
মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলে টেকনাফ থেকে দেশব্যাপী ইয়াবা পাচার চক্রের অপর আরেক সিণ্ডিকেট প্রধান দিদার মিয়া এখন চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রামের গণি বেকারী ও ঢাকার বারিধারা এলাকায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাট বাড়ী আছে। আত্মগোপনে থাকেই ইয়াবা পাচার চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বসেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তার নাম আছে দুই নাম্বারে। দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা ও মানব পাচারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এই দিদার মিয়া। মূলত মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা ১ নং ইয়াবা ব্যবসায়ী তার বড় ভাই মোস্তাক আহমদ বিগত চার বছর যাবৎ নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছিল মোস্তাককে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার হদিস মিলেনি। এরপর থেকে পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন তার ছোট ভাই দিদার মিয়া।
দিদার দুর্ধর্ষ এক অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আছে অসংখ্য অভিযোগ ও মামলা। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার স্মরণকালের চাঞ্চল্যকর শিশু আলো হত্যা মামলার চার্জশিট ভুক্ত প্রধান আসামী যার (মামলা নং- ২০(৯)১১, জি.আর নং – ৩৭০/২০১১, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার)। উক্ত মামলায় চলতি বছর ১৬ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মাত্র আট দিনে কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন গত ২৪ এপ্রিল। আলো নামের ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছিল টেকনাফে। চাঞ্চল্যকর সেই হত্যা মামলায় দিদার মাত্র আট দিনে জামিনে বেরিয়ে আসায় বুঝাই যায়, এই ইয়াবা গডফাদারদের হাত কত লম্বা!
এছাড়া তার আরো তিন ভাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তারা হলেন মোস্তাক আহমদ, শাহজাহান ও ইলিয়াস।

Leave a Reply

%d bloggers like this: