আজ ২৯ মে তারাবির নামাজে হাফেজ ছাহেবগণ যা তেলাওয়াত করবেন তার অর্থ

মাওলানা মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, ২৯ মে ২০১৮ ইংরেজী, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ১৩তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআন থেকে ১৬তম পারা থেকে তেলাওয়াত করা হবে।
১৬তম পারা (সুরা কা’হফের ৭৫নং আয়াত থেকে সুরা ত্ব-হা এর ১৩৫নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-
* বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। [ সুরা কা’হফ-১০৩ ] * তারাই সে লোক, যাদের পার্থিবজীবনে সব প্রচেষ্টা পন্ড হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। [ সুরা কা’হফ-১০৪ ] * তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখবো না। [ সুরা কা’হফ-১০৫ ] * জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; যেহেতু তারা কুফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে। [ সুরা কা’হফ-১০৬ ]
* যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। [ সুরা কা’হফ-১০৭ ] * সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তর কামনা করতে চাইবে না। [ সুরা কা’হফ-১০৮ ] * বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও। [ সুরা কা’হফ-১০৯ ] * হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে তো আমি কখনও ব্যর্থ হইনি। [ সুরা মারঈয়াম-৪ ] * আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়। [ সুরা মারঈয়াম-৩৫ ] * তিনি (ইব্রাহীম) তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতা, যে শোনে না, দেখে না এবং তোমার কোন উপকারে আসে না, তার এবাদত কেন কর? [ সুরা মারঈয়াম-৪২ ] * যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না। [ সুরা মারঈয়াম-৬০ ] * এটা স্থায়ী জান্নাত, যে অদৃশ্য বিষয়ের ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তাঁর ওয়াদা অবশ্যম্ভাবী। [ সুরা মারঈয়াম-৬১ ] * এই সেই জান্নাত, যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে পরহেযগারদেরকে। [ সুরা মারঈয়াম-৬৩ ] * তাদের পূর্বে কত মানব গোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, যারা তাদের চাইতে সম্পদে ও জাঁক-জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল। [ সুরা মারঈয়াম-৭৪ ] * সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করা হবে [ সুরা মারঈয়াম-৮৫ ] * এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব। [ সুরা মারঈয়াম-৮৬ ] * কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। [ সুরা ত্ব-হা-১৫
* এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব। [ সুরা ত্ব-হা-৫৫
* নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হিসাবে আসে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না। [ সুরা ত্ব-হা-৭৪ ] * আর যারা উপস্থিত হবে মুমিন অবস্থায়, সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা। [ সুরা ত্ব-হা-৭৫ ] * আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [ সুরা ত্ব-হা-৮২ ] * যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব দৃষ্টিহীন অবস্থায়। [ সুরা ত্ব-হা-১০২ ] * দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন কাজে আসবে না। [ সুরা ত্ব-হা-১০৯ ] * সেই চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সামনে সব মুখমন্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে। [ সুরা ত্ব-হা-১১১ ] * যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না। [ সুরা ত্ব-হা-১১২ ] * এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। [ সুরা ত্ব-হা-১২৪ ] * সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম। [ সুরা ত্ব-হা-১২৫ ] * আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হলে [ সুরা ত্ব-হা-১২৬ ] * আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং আল্লাহ ভীরুতার পরিণাম শুভ। [ সুরা ত্ব-হা-১৩২ ]

Leave a Reply

%d bloggers like this: