সাংবাদিকের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে কোর্টে চালান দিল পুলিশ !

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ০৮ জুলাই ২০১৭
ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের ফটো সাংবাদিক আশিক মোহাম্মদকে মারধর করে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আশিকের পরিবার বলছে, এ ঘটনার মূল কারিগর পল্টন থানার এসআই আশরাফ। তিনি তল্লাশির নামে আশিককে আটক করে মারধর করে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাঁকে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত এসআই আশরাফ দাবি করেছেন, রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার এলাকায় ১০ পিস ইয়াবাসহ আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশিক ফটো সাংবাদিক কি না তাও জানেন না বলে দাবি করেন আশরাফ।
আশিককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ফটো সাংবাদিকরা। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকেও ব্যাপক তোলপাড় চলছে। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশিকের সহকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা।

আশিকের পরিবার ও সহকর্মীরা জানান, ঈদের পরদিন গত ২৭ জুন রাতে একটি দাওয়াতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন আশিক। শান্তিনগর কাঁচাবাজারের কাছে তাঁর মোটরসাইকেল থামায় পল্টন থানার একটি টহল দল। এ নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে আশিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় পুলিশ এবং তাঁকে পুলিশ ভ্যানে তুলে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরানো হয় রাত ২টা পর্যন্ত। থানায় নিয়ে কয়েক দফা মারধরের পর দাবি করা হয় এক লাখ টাকা ঘুষ। আশিক টাকা দিতে অপারগতা জানালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের কথা বলে চালান দেওয়া হয় মাদকের মামলায়।

আশিক ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের ফটো সাংবাদিক ফরহাদ হোসেনের ছেলে। ফরহাদ হোসেন এখন অসুস্থ। ২৭ জুন রাতে আশিক বাসায় না ফেরার পর তাঁর স্বজনরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। তাঁর অফিসেও ঘটনাটি জানানো হয়। পরে পল্টন থানা থেকে একজন ফোন করে আশিক ইয়াবার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জানায়। খবরটি শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন আশিকের মা। আশিকের অসুস্থ বাবাকে এখনো তিনি খবরটি জানাননি।

আশিকের মা বলেন, ‘পুলিশ বলছে এক লাখ টাকা চাই। আমরা এক লাখ টাকা কিভাবে দিব। আমাদের এক লাখ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমি কেন দেব। পুলিশরা ইয়াবা দিয়ে দিয়েছে। পরদিন সকালে থানা থেকে এক পুলিশ ফোন দিয়ে বলে আপনার ছেলের সঙ্গে কি পুলিশের শত্রুতা ছিল? আমি জানাই এমন কিছু ছিল না। ’

ডেইলি অবজারভার পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক পুলক ঘটক তাঁর ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অবজারভার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানার পর নিজেরা অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হয়েছে, আশিক ইয়াবা সেবন বা ব্যবসায় জড়িত নয়। তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে নির্যাতন এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে পল্টন থানার অভিযুক্ত এসআই আশরাফ বলেন, ‘আশিকের কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। মারধর করে ইয়াবা দেওয়া সহজ কথা নয়। সে সাংবাদিক কি না সেটা জানি না। ’

আশিকের সঙ্গে ইয়াবার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আটকের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল আমি পাইনি। ইয়াবা পাওয়া গেছে। ফলে তাঁর কানেকশন আছে কি না তা দরকার নাই!’

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: