‘জাল দলিল সম্পর্কে জানার সাথে সাথেই মামলা দায়ের করতে হবে’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০১ মার্চ ২০১৭, বুধবার: অপরের সম্পত্তি প্রতরণার মাধ্যমে নিজ নামে নানা কৌশলে দলিল তৈরী করাকেই জাল দলিল বলে। চতুর লোক নিরক্ষর মালিককে প্রলোভন দেখিয়ে কখনো বা মালিককের অজান্তে অন্য লোককে মালিক সাজিয়ে গোপনে জাল দলিল তৈরী করে। জাল দলিল যেভাবই তৈরী করা হোক না কেন জাল দলিল সম্পর্কে জানার সাথে সাথেই জাল দলিল বাতিলের জন্য দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
জাল দলিল সম্পর্কে জানার ৩ বছরের মধ্যে ঐ দলিল বাতিলের মামলা করতে হবে। নচেৎ তা তামাদি দোষে বাতিল হবে (তামাদি আইন ১ম তফসিল ৯১ অনুচ্ছেদ)।
জাল দলিল রেজিষ্ট্রি হয়ে থাকলে তা বাতিলের মামলা করা যাবে দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী। ধারা ৪০ অনুযায়ী দলিল আংশিক বাতিলের মামলাও করা যাবে। দলিল বাতিলের সাথে সম্পত্তির দখল পাবার মামলাও করা যায়। জাল দলিল বাতিলের মামলা ছাড়াও দলিল জালকারীর শাস্তি দাবি করে ফৌজদারী আদালাতে দন্ডবিধি ৪০৬/৪২০/৪৬৩-৪৭৩ ধারার মামলা করা যাবে।
জাল দলিল বাতিল না হলে যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তিনি মামলা করতে পারেন। অর্থ্যাৎ সম্পত্তিতে যার স্বার্থ আছে তিনি কেবল মামলা করতে পারেন। একাধিক ব্যক্তি পক্ষ হলে তাদের সবাই বা যে কোন একজন মামলা করতে পারেন। সম্পত্তির মালিক বেঁচে না থাকলে তার বৈধ ওয়ারিশগন মামলা করবেন।
নাবালকের সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নিলে ঐ নাবালকের অভিভাবক বা ঐ নাবালক সাবালকত্ব অর্জনের পর সে নিজের মামলা করতে পারবেন।
দলিল বাতিলের মামলা করার জন্য কোর্ট ফি আইনের দ্বিতীয় তফছিলের ১৭(৩) অন্চু্েছদে উল্লেখিত বারে কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে দলিল বাতিলের মামলার সাথে অন্য প্রতিকার যেমন দখল পাবার প্রার্থনা ও করা যাবে তবে এর জন্য অতিরিক্ত কোর্ট ফি দিতে হবে। (কোর্ট ফি আইন ৭(৪) (গ) ধারা।
আদালতে দলিল বাতিলের আদেশ/ রায় প্রদান ডিক্রির একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্টি অফিসে প্রেরণ করবেন। উক্ত নকলের কপি পেয়ে রেজিস্ট্রার অফিসার সংশ্লিষ্ট বালাম বহিতে দলিল বাতিলের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: