ইসলামী ব্যাংকের আমানত ৬৫ হাজার কোটি টাকা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জুলাই: ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় আমানত ৫ হাজার কোটি ও বিনিয়োগ ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।ibbl
সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা যার মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে ১৭ এবং সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া রেমিট্যান্স আহরিত হয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকের বর্তমান গ্রাহক ১ কোটি পনের লাখ যা দেশের ব্যাংকিং গ্রাহকের ১৪ শতাংশ এবং বিশ্বের ইসলামি ব্যাংকিং গ্রাহকের ২৫ শতাংশ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন- ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার। ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেন- পরিচালক ও ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এম. আযীযুল হক, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হেলাল আহমদ চৌধুরী, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুল মাবুদ, পিপিএম, পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী শহিদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, এফসিএ, মো. সাইফুল ইসলাম, এফসিএ, এফসিএমএ, ড. মো. জিল্লু¬ুর রহমান ও অধ্যাপক এএনএম সাইদুল হক খান।
সম্মেলনে প্রধান কার্যালয়ের র্ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা ছাড়াও জোন প্রধান ও ৩০৪টি শাখার ব্যবস্থাপকরা যোগ দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংক শিল্পায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, কর্মসংস্থান ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির দুইটি প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স খাতে ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এ ব্যাংক বিশ্বসেরা এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক এবং দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও পরিপালনকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একটি আন্তর্জাতিকমানের পরিপালনকারী ব্যাংকে উন্নীত হতে কাজ করছে এ ব্যাংক।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ‘এশিয়ান ব্যাংকার সিইও লিডারশিপ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও ব্যাংক ‘বেস্ট ম্যানেজড ব্যাংক ইন বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে যা ধারাবাহিক অগ্রগতির নির্দেশক। সিএসআর কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ আর্ত-মানবতার সেবায় অবদান রাখছে। এ অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
সম্মেলনে পরিচালকরা বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি কল্যাণমুখী আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনভিত্তিক, উৎপাদনমুখী, শ্রমঘন ও শরীআহ অনুমোদিত খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং বিপুল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করেছে।
তারা বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ব্যাংক ২০ হাজার গ্রামের ১০ লাখ প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। যার সুবিধাভোগীর ৮০ শতাংশই গ্রামীণ অসহায় নারী। বিশ্বের মোট ইসলামিক মাইক্রোফাইন্যান্সের ৫০ শতাংশ এককভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ ব্যাংকের মাধ্যমে এবং এর আরডিএস প্রকল্প সারা বিশ্বে ইসলামী ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বণ্টনমূলক সুবিচার, প্রকৃত সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের কারণে ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার প্রসার বিশ্বব্যাপী দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তারা এ ব্যবস্থা আরো বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেন।
সভাপতির ভাষণে আবদুল মান্নান বলেন, ইসলামী ব্যাংক গত ৩৩ বছর শরীআহর লক্ষ্য বাস্তবায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সম্পদের সুষম বন্টন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক খাতে কল্যাণ বৃদ্ধি, অকল্যাণদূরীকরণ এবং মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এ ব্যাংক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার চেয়ে কল্যাণকে অধিক প্রাধান্য দেয় এবং শরীআহ নির্দেশনাকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে বেশি লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও তামাকসহ ক্ষতিকর কোন খাতে বিনিয়োগ করে না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ কর প্রদানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে। তিনি মানবিক ব্যাংকিং সেবা, প্রয়োজনত্তিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের প্রয়োজন পূরণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে বলা হয়, দেশের তৈরি পোশাক খাত ও রেমিট্যান্সে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার যথাক্রমে ২১ ও ২৫ শতাংশ। শিল্প খাতে বিনিয়োগ ৪৫ শতাংশ এবং চার হাজারের বেশি শিল্প-কারখানা ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। স্পিনিং শিল্পে এ ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার এক-চতুর্থাংশ এবং লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে ২১ শতাংশ। আমদানি-রপ্তানি খাতে এ ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার যথাক্রমে ১১ ও ১০ শতাংশ এবং ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ৪৩ শতাংশই এসএমই খাতে যা দেশের এসএমই শিল্পের ২৩ শতাংশ। গৃহায়ণ খাতে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ১৩ শতাংশ, যা ২৬ লাখ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করেছে এবং পরিবহণ খাতে মার্কেট শেয়ার ১৮ শতাংশ যার সুবিধাভোগী ২ কোটির অধিক জনগোষ্ঠি। কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে এ ব্যাংকের বিনিয়োগ সাড়ে ১৩ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে সার আমদানীতে অর্থায়ন সর্বোচ্চ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: