এ্যাই ব্যাটা তোর বাবা পুলিশ কমিশনারকে হাপ্তা দিবে কে ?

রাহনুমা অনিক, ১১ জুলাই ২০১৮, বুধবার: অপ্রিয় সত্য কথা বলতে নেই। না বলেও উপায় নেই। কারো সাথে মিলে গেলে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। আগে বলে দিচ্ছি লেখাটি প্রকাশের জন্য সম্পাদক কখনো দায়ী নয়। কথাটা এই রকম এই ব্যাটা টাকা পাঠালি না ক্যান ? কেউ তোর বাবার চাকর আছে ন্যি ? আমার এত দুর আসতে হলো। এই চিত্রটি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গেইটের সামনে। পালসার ব্রান্ডে হোন্ডা করে নামা পুলিশের। প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। দিনে দুইবার। দুই টিমকে দুই বার। হোন্ডা করে আসা সম্মানিত পুলিশ সদস্য নাকি পাথর ঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির হাবিলদার।
এই চিত্র শুধু চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গেইটের সামনে নয়। সারা চট্টগ্রামের ফুটপাতের নিত্য দিনের দৃশ্য। এটা সবাই জানে শুধু জানে না মাননীয় পুলিশ কমিশনার আর রাজনৈতিক দলের কিছু সম্মানিত প্রভাশালী নেতারা। এটা ইংরেজি ভাষায় ওপেন সিক্রেট। যদি মন চায় যে কেউ শব্দটি মনে প্রাণে ধারণ করতে পারেন। কাজে লাগতে পারে।
রাস্তার দুই পাশে বসা সকল দোকানিকে প্রতদিনি টাকা দিতে হয়। এক দোকানি নতুন বসেছে। টাকা দিতে চাচ্ছে না। তার সাথে মাহবুব নাম ফলক ধারী পুলিশ সদস্য তর্ক করেই যাচ্ছে। তর্কের এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যের মুখ ফসকে বেরিয়ে আসলো। এ্যাই ব্যাটা তোর বাবা পুলিশ কমিশনারকে হাপ্তা দিবে কে? মাথা এমনি ট্যাশানে আছে হয় টাকা দিবি না হয় দোকান উঠিয়ে নে।
বেচা-কেনার টাইম। ক্রেতারা সবাই চলে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই ৫০ টাকা দিতে হল। আরেক পুলিশ সদস্য একটু দুরে চা-বিস্কিট খাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম ভাই এই ভাবে টাকা নিচ্ছেন কেন? কই ভাই আমি কি টাকার ধারে পাছে আছি ? উল্টা প্রশ্ন জুড়ে দিল। ঐটা কোতায়ালি থানার নাম দিয়ে হাবিলদার উঠিয়ে খায়। আমার উপরের কর্মকর্তা আমার চেয়ে থাকা ছাড়া কিছুই বলার নেই।
ভাবলাম লাখ-দশেক সরকারি কর্মচারির বেতন বাড়ার সাথে সাথে বাসা ভাড়া থেকে মুদির দোকান সব বেড়ে গেল। হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই অসাধু পুলিশের কি বেতন বাড়েনি ? তা না হলে এই নিত্য দিনের চাঁদাবাজিটা বন্ধ হচ্ছে না কেন ?
এনালক থেকে ডিজিটাল, স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল, উন্নয়নশীল থেকে উন্নত রাষ্ট্রের ট্রেনে বাংলাদেশ। এই চাঁদাবাজ কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য কোন শন্দের ব্যাকরণে আমার জানতে ইচ্ছা করে। মাননীয় কমিশনার মহোদয় আশাকরি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথিতি হয়ে গেলে তার ব্যাখ্যা করে দিবেন।
আওলিয়াদের পুন্যভুমি, মাওলানা ভাসানির বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, লাখো শহীদের রক্তে রাঙানো বাংলাদেশ। ইয়ং এর্নাজেটিক পুলিশ বাহিনী। আফসোস হয়। দুঃখ হয়। কষ্ট হয়। এদের হাতে বাংলাদেশ কতটুকু নিরাপদ, কিভাবে নিরাপদ থাকবে? সবাই ধান্দা খোঁজে বেড়াচ্ছে। ফাঁদ পেতে বসে আছে। কিভাবে অল্প সময়ে বেশি টাকার মালিক হবে।
নীতি-নৈতিকতা নয়। ইয়াবা বিক্রি করে যে সব অসাধু পুলিশ সদস্য শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তাদের মত যে কোন প্রকারে টাকার পাহাড় করতে হবে। এই ট্যানশনটি যেন সব সময়। মাননীয় কশিশনার যে বক্তব্য গুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেন সে সব কথামালা গুলো দয়া করে আমাদের সম্মানিত পুলিশ সদস্যদের মাঝে প্রতিষ্ঠা করেন।
মাননীয় কমিশনার আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনেকরি সম্মানিত পুলিশ সদস্যরা কখনো দুর্নীতি কিংবা চাঁদাবাজির দিকে ধাবিত হতে পারেনা। তরুণদের ভেতর একটি দেশ প্রেম থাকে। তরুণদের দেশ প্রেম অন্যদের চেয়ে আলদা। চট্টগ্রামের নিত্য দিনের এই দৃশ্যের জন্য আপনি দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারেন না। নিত্য দিনের এই দৃশ্য আপনার কর্ম অদক্ষতা। আপনার অযোগ্যতা প্রমাণ করে।
প্লীজ আপনি আমার লেখায় মন খারাপ করার কিছু নেই। একজন সম্মানিত পুলিশ দেশের জন্য যা করতে পারে সেটা অন্যকারো পক্ষে করা সম্ভবপর নয়। একটি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থায়ী বাস্তবায়ন, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছতে পুলিশের ভুমিকা অপরিসীম। আপনি অসাধু পুলিশকে কন্টোল করুন। আমি নিশ্চিত বলতে পারি চট্টগ্রামে অপরাধ কন্ট্রোল হয়ে যাবে।
প্লীজ মার্জনা করবেন। সম্মানিত সৎ পুলিশ সদস্যের কথা স্বরণ করে সবিনয় ও সম্মানের সহিত বলতেছি আপনি যদি হাপ্তা নেন “অপরাধ বন্ধতো দুরের কথা আরও দিন দিন সুপ্রসারিত হবে”। ইতিহাসে লিখা না থাকুক। আপনার বিবেকের খাতায় লিখা থাকবে বাংলাদেশকে পিছিয়ে নেওয়ার জন্য মীরজাফর, খুনী মোস্তাকের মত আপনার অবদানও কম হবে না।

Leave a Reply