ছাগলনাইয়ায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

ফেনী অফিস, ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার: ছাগলনাইয়ায় ভুল অপারেশনে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বিকালে ছাগলনাইয়া পৌরশহরের স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন নিহত গৃহবধূূ সাজেদা আক্তার পলি’র প্রবাসী স্বামী ইব্রাহিম পাটোয়ারী শিমুল। শিমুলের বাড়ী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামে।
এ সময় শিমুল লিখিত বক্তব্যে হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটির বিবরণ দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তার ১ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তান রয়েছে। ২য় সন্তান জন্ম গ্রহনের সময় ডেলিভারী পজিশন ভাল থাকা সত্ত্বেও ছাগলনাইয়া মানারাত হাসপাতাল ও ডাক্তার হাছিনা আক্তার স্বপ্না’র অসৎ উদ্দেশ্যে টাকার লোভে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে সিজার অপারেশন করে ফেলে। অপারেশনের ৪দিন পরে বাড়ীতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অপারেশনের ৯দিন পরে ড্রেসিং করতে মানারাত হাসপাতালে আসে। ড্রেসিং করে বাড়ীতে গেলে ওইদিন রাতেই পলি’র রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। পলি’র স্বজনরা মানারাত হাসপাতালে আসলে এম.ডি জয়নাল আবেদীন তাদেরকে বলেন, হাছিনা আক্তার স্বপ্না ফেনী উপশম হাসপাতালে বসেন, তাই আপনারা তাকে দ্রুত উপশম হাসপাতালে নিয়ে যান।
রোগীর স্বজনরা পলি’কে নিয়ে ফেনী উপশম হাসপাতালে গেলে, ডাক্তার হাছিনা আক্তার স্বপ্না ও উপশম হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যোগসাজসে ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে জ্বরায়ু অপারেশন করলে ভাল হবে মর্মে রোগীর স্বজনদের জানান। তাদের কথামতে রোগীর স্বজনরা রাজী হয়ে যায়। মাত্র ৪ঘন্টা অপারেশনের ৪৮হাজার টাকা আদায় করে জানান যে, পলি’কে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। রোগীর অবস্থা আশংকাজনক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো উল্লেখ করেন, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে বলেন, ফেনীতে জ্বরায়ু অপারেশনে রোগীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পলীর ২টি কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। রোগীকে বাঁচাতে হলে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হবে। আইসিইউতে দীর্ঘ ১২দিন চিকিৎসা নেয়ার পর ৪জুলাই চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সাজেদা আক্তার পলী।
লিখিত বক্তব্যে শিমুল আরো বলেন, আমি দেশে চিকিৎসার নামে যারা অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে ধিক্কার জানাই। আমি এ সব অসাধু ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে ৬লক্ষধিক টাকা খরচ করেও বাঁচাতে পারিনি আমার স্ত্রী পলি’কে। এখন ২সন্তানকে নিয়ে দুঃখের সাগরে প্রতিনিয়ত সাতার কাটতে হচ্ছে আমাকে।
মানারাত হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এম.ডি) জয়নাল আবেদীন বলেন, রোগী হাসাপাতাল থেকে সুস্থ হওয়ার পর রিলিজ দেয়া হয়েছে। এর বেশ কয়েকদিন পর জরায়ুতে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর তারা আবার হাসপাতালে আনলে পরামর্শ দেয়া হয় ফেনী পাঠাতে। ফেনী উপশম হাসপাতালে রোগীর জরায়ু অপারেশন হয়। এক্ষেত্রে মানারাত হাসপাতালের কোন দায় নেই। বরং রোগীকে ফেনী নেয়ার পর রক্তের প্রয়োজন হলে তা জোগাড় করতেও আমি সহযোগীতা করি।

Leave a Reply