একজন প্রফেশনাল ব্যক্তির ইমেইল ব্যবহার এ সতর্কতা

এম এস হাবিবুর রহমান: ১০ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার: অফিসিয়াল  কিংবা ব্যক্তিগত  সব তথ্য চালাচালি হচ্ছে  ই-মেইল আইডির মাধ্যমে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই থাকে মেইলগুলোতে। এ কারণে সাইবার অপরাধীরাও ওত পেতে থাকে মেইল আইডি হ্যাক করতে।

এতে করে   অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে অনেক বেশি। নিজেদের অজান্তেই বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে সকলে। ই-মেইল আইডি হ্যাক করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে হ্যাকাররা।

তবে একটু সতর্ক থাকলে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কিভাবে সাইবার অপরাধীদের থেকে ই-মেইল নিরাপদ রাখা যায় সেসব কথা জানাতেই আমি এম এস হাবিবুর রহমান আপনাদের সামনে এ বিষয়ে লেখাটি তুলে ধরলাম আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন আর ইমেইল মার্কেটিং বিষয়ে অন্য আরটিকেলে বিস্তারিত লিখব।

অপরিচিত মেইল থেকে  একটু  সতর্ক থাকা
জানা অজানা অনেক মেইল আসে প্রতিনিয়ত। এগুলো খোলার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এসব মেইলের মধ্যে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে আসল কাজটি সেড়ে ফেলতে চায় হ্যাকাররা। এ কারণে যেনতেন মেইলে ক্লিক করে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা যাবে না।

লটারি জেতার মেইল
লাখ লাখ ডলারের লটারি জিতেছেন অনেক সময় এমন মেইল আসে! এমন খুশীর খবর জানিয়ে এখন হরহামেশা হ্যাকাররা মেইল পাঠায়। কৌতুহলের কারণে অনেকেই এতে ক্লিক করে বিপদে পড়েছেন/পরছেন।

নিজের নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের মেইল আইডি এড়িয়ে যাওয়া উচিত। যদিও এসব অজানা প্ররোচনামূলক মেইলের অধিকাংশই ফিল্টার হয়ে চলে যায় স্প্যামবক্সে। তবে সিস্টেমকে ধোঁকা দিয়ে কিছু মেইল ইনবক্সে চলে আসতে পারে।

এ ধরনের মেইল আসলে সেগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়া উচিত বলে মনে হয় আমার। আপনি কি বলেন??

বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বা লিংকডইনের আমন্ত্রণ
ই-মেইলের বিষয়বস্তু হিসেবে অনেক সময় মেইলের ইনবক্সে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বা লিংকডইনের আমন্ত্রণ আসে। ওয়েবসেন্স রিসার্চ নামে একটি প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা মনে করেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বা লিংকডইনের এমন আমন্ত্রণের বেশিরভাগ সঠিক হলেও কিছু কিছু মেইল ম্যালওয়্যারে ঠাসা থাকে।

তাই অপরিচিত কোনো ব্যক্তির পাঠানো আমন্ত্রণ খোলার আগে একটু  সাবধান হওয়া উচিত।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফার
হ্যাকাররা এখন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ছন্দবেশে নানান মেইল পাঠিয়ে ফাঁদ পাতে। বিভিন্ন অফারের লোভ দেখিয়ে মেইল খুলতে প্রলুব্ধ করে ব্যবহারকারীদের। না বুঝে অনেকেই এ ফাঁদে পড়ে যান।

এ ধরনের মেইল সাধারণ ব্যাংক কিংবা আর্থিক লেনদেনের ওয়েবসাইটের মত অবিকল সাইটের লিংক দেওয়া থাকে। এতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারের হাতে চলে যাওয়ার আশংকা প্রবল।যা করবেন সাবধানে।

তাই সেবাদানকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চতুর এসব মেইল খোলা থেকে সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ মেইল
ব্যবহারকারী যেন মেইল অবশ্যই পড়েন এবং ক্লিক করেন তাই কৌশল হিসেবে হ্যাকাররা অনেক সময় মেইলের বিষয়বস্তু হিসেবে লেখেন ‘কমিউনিকেশন ইম্পোর্ট্যান্ট’ বা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ইত্যাদি।

এ ধরনের মেইলগুলোতে ভাইরাস থাকতে পারে। যেখানে ক্লিক করলে ডাউনলোডের ফলে সেই ভাইরাস কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ ধরনের মেইলে কোন লিংকে ক্লিক না করাই উচিত।

আয় নিয়ে মেইল
ই-মেইল পড়ে অর্থ উপার্জন, ই-মেইল ব্যবহার করে অনলাইন জরিপ, ক্লিক করে আয়, বিজ্ঞাপন দেখে আয়ের মতো চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে মেইল পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে আসলে চলে তথ্য চুরির লুকোচুরি খেলা। যা আমাদের মাঝে অনেকেই জানে না।

কোনো ক্রমে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট লিংকে নিয়ে যেতে পারলে হ্যাকারদের আয়ুবারে। কেননা তখন শুধু ই-মেইল নয় পুরো ডিভাইসটির নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে স্প্যাম মেইল

অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো ই-মেইলে স্প্যাম থাকার সম্ভাবনা প্রচুর। ফলে অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সেগুলো না খুলেই মুছে ফেলেন। সাইবার হামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে এটুকু সতর্কতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো মেইল এলে সেটি না খুলে উপায় থাকে না। আর এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে নতুন পদ্ধতিতে সাইবার হামলা চালাচ্ছে হ্যাকাররা। বর্তমানে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে স্প্যাম মেইল। ফলে গ্রাহকরা সতর্ক হওয়ার আগেই সাইবার হামলার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইনফরমেশন শেয়ায়িং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টারের কর্মকর্তা মিশেল ক্যান্টলে। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মিশেল ক্যান্টলে আরো জানান, নতুন এ কৌশল ব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবার হামলা চালাচ্ছে। তাদের পাঠানো মেইলে থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ব্যবহারকারীদের কম্পিউটার হ্যাকারদের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে কম্পিউটারে থাকা সব তথ্য চলে যায় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। আর এসব মেইলের বেশির ভাগই পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল অটোমেটিক ক্লিয়ারিং হাউস অ্যাসোসিয়েশন’, ‘ইলেকট্রনিক ফেডারেল ট্যাক্স পেমেন্ট সিস্টেম’, ‘ইউএস পোস্টাল সার্ভিস’ ও বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে। সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো মেইলগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে পাঠানো মেইলগুলোর ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

ঠিকানা দেখে নিন

অনেক ফিশিং সাইট (মূলত প্রতারক ওয়েবসাইট) রয়েছে যেগুলো দেখতে অবিকল বিশেষ কোনো মেইল সাইটের লগইন পেজের মতোই। এদের কর্মকাণ্ডের ধরন হলো- প্রথমে তৃতীয় কোনো সাইট আপনাকে আপনার মেইল অ্যাকাউন্টে লগইন করতে বলবে এবং লগইন করার জন্য একটি লিংক দেবে যেখানে আপনার পরিচিত কোনো মেইলের নাম (যেমন, জিমেইল ডটকম) লেখা থাকবে। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে বা অসতর্ক থাকলে হয়তো খেয়ালই করবেন না যে আপনি যে সাইটে লগইন করছেন তা আসলে ইমেইল সার্ভিসের নয়, বরং একই চেহারার অন্য ঠিকানার ওয়েবসাইট। এসব সাইট হ্যাকাররা তাদের সার্ভারে হোস্ট করে থাকে এবং কিছু স্ক্রিপ্ট ইনস্টলও করে থাকে। এতে করে আপনি যখনই লগইন করার চেষ্টা করবেন, আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে চলে যাবে। তাই লগইন করার আগে সবসময় ঠিকানাটি সতর্কভাবে দেখে নিলে এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

বিশেষ সতর্কতাঃ

১।একই ইমেইল একই সময়ে দুটি ডিভাইসে যেন লগিন না থাকে । খেয়াল রাখবেন সব সময়।

২।আউটলুক থেকে মেইল থেকে মেইল পাঠানোর পর একটু অপেক্ষা করুন ।তারপর ওপেন করুন।

৩। সি প্যানেল এর পাসওয়ার্ড যত্নসহকারে রাখুন, পাসওয়ার্ড মিনিমাম ১৩/১৪ অক্ষরের বেশি রাখুন ।

৪। আউটলুকের কনফিগারেশন সঠিক ভাবে করুন ।

৫। যে কোন লিঙ্কে ক্লিক করার পূর্বে লিঙ্ক দেখে ভালভাবে বুঝে লিঙ্কে ক্লিক করুন অথবা সেই লিঙ্কে সরাসরি ক্লিক না করে লিঙ্কটি কপি করে ব্রাউজারে নিয়ে ভিজিট করুন ।

৬। সি প্যানেলের পাসওয়ার্ড, সিপ্যানেল লগইন ছাড়া অন্য কোথায়ও ব্যবহার করবেন না।

৭। অনেক সময় লোকাল নেটওয়ার্ক পোর্ট বন্ধ থাকলে আপনার Outlook ইমেইল ইঙ্কামিং-আউটগোয়িং এ সমস্যা করবে ।

সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট, ডোমেইন, হোস্টিংসহ আইটি রিলেটেড বা ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে পরামর্শ পেতে কল করুন: 01711113852 অথবা ভিজিট করুন: www.samaharsoft.com 

লেখক: এম এস হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক নিউজ সমাহার, সিইও জোনাকি মিডিয়া গ্রুপ।

 

 

 

Leave a Reply