ফেনী দাগনভূঞায় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সাইফুলের প্রতারণা

এম এ মাজেদ ফেনী, ০৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার: দাগনভূঞা বাজারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তার নামে ভূয়া চিকিৎসকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভূয়া চিকিৎসক খপ্পরে রোগীরা ঔষধ খেয়ে আরো রোগী হয়ে যাচ্ছে।এ রকম একজন ভূয়া চিকিসকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি হচ্ছেন দাগনভূঞা ফাজিলের ঘাট রোড়ের ইউনিক হাসপাতালের ডাঃসাইফুল ইসলাম।তিনি রোগী প্রতি ৬ শত টাকা ভিজিট নেন।তার পরিচয় পত্রে লেখা আছে এমবিবিএস সহ একাধিক ডিগ্রী।এ ছাড়া লেখা চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক।বিএমডিসি রেজিঃনং-৩৭৩৩৭।অনুসন্ধান করে জানা গেছে মূলত সবটাই প্রতারনা।চট্টগ্রামের ঐ হাসপাতালে এই নামের কোন ডাক্তার নাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক হোসাইন রশীদ জানান,ডা:সাইফুল প্রতারক।এ নামে হাসপাতালে কোন সহকারী অধ্যাপক নেই।তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য, ইউনিক হাসপাতাল কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে।না হয় আমরা ইউনিক হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।তারা কেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা প্যাড ছাপিয়েছে।
এদিকে বুধবার চেম্বার করার কথা থাকলে হাসপাতালে সাংবাদিক যাওয়ার খবরে ডা:সাইফুল হাসপাতালে না এসে পালিয়ে যায়।তাকে ফোনে প্রতারণার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।পরে ফোন দিব বলে মোবাইল রেখে দেয়।পরে বারবার ফোন দিলেও মোবাইল রিসিভ করেননি। এ প্রতারক আবার নোয়াখালীর চৌমুহনী মদন মোহন স্কুল মার্কেটের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিকও রোগী দেখেন । তার বাড়ী চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বলে জানা গেছে।
ভূয়া ডাক্তারের বিষয়ে দাগনভূঞা ইউনিক হাসপাতালের এমডি ডাঃ আবু বকর ছিদ্দিকের ছেলে ও হাসপাতালের পরিচালক তুহিন জানান,সাইফুলের প্রতারণার খবর পেয়ে তাকে হাসপাতালে আসতে নিষেধ করে দিয়েছি। সাইফুল যে প্রতারক তা সঠিক। সে চিকিৎসক হিসাবে আমাদেরকে কোন কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে মানবাধিকার নেতা সিরাজ উদ্দিন দুলাল জানান,প্রতারক ডাঃ সাইফুলের সনদ না দেখে হাসপাতালে চেম্বার করতে দিয়েছে কেন।আগে এর বিচার হওয়ার দরকার।এ ছাড়া যে লোক গুলো এ ভূয়া চিকিৎসকের ঔষধ খেয়ে কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের কি হবে? এ ছাড়া জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে নেয়া ভিজিটের টাকাগুলো ফেরত দেয়া হোক।এর আগে দাগনভূঞা ন্যাশনাল হাসপাতালে নিজাম উদ্দিন নামে এক ভূয়া চিকিৎসক ছিল।পরে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করলে সে পালিয়ে যায়।এ ভাবে দাগনভূঞার অন্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও অভিযান চালালে ভূয়া চিকিৎসক পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply