হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পিত্তথলির পাথরে

ডা. মো. শাহিনুর রহমান, ২৩ জুন ২০১৮ ইংরেজী, শনিবার: পিত্তথলিতে পাথর জমা হওয়াটাকেই আমরা সাধারণত পিত্তপাথরী বলে থাকি। এ রোগে পেটে দারুণ ব্যথার সৃষ্টি হয়। এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ব্যাধি। সোরা দোষ থেকে পিত্তকোষে বালুকণা থেকে শুরু করে বড় পাথর পর্যন্ত জমা হয়।
পিত্তপাথরী রোগে পেটের নাভিমণ্ডলের উপরে এবং ডান দিকে অল্প ব্যথার সৃষ্টি হয়। যখন পাথর পিত্তনালী পথে বহির্গমনের জন্য আসতে থাকে তখন তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। রোগী যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে ওঠেন
বর্তমানে পিত্তপাথরীর প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কিছু কিছু রোগী আরোগ্য লাভ করলেও তাদের মধ্যে অনেক রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার, জন্ডিস, ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
পিত্তপাথরীর কারণ:
শারীরিক বিধিশুদ্ধ নিয়মানুসারে পিত্তকোষ থেকে সঞ্চিত পিত্তরস পিত্তনালী দিয়ে ক্রমে ক্রমে ক্ষুদ্রান্তের প্রথমাংশ বা ডিউডেনামের মধ্যে প্রবাহিত হয়। আহারাদির দোষে অথবা পিওকোষের বা পিওনালীর প্রদাহজনিত কারণে এই পিওপ্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে পিত্তরস জমাট বেঁধে যায় এবং ধীরে ধীরে পিত্তপাথরী দেখা দেয়।
যদি পিত্তপাথরী খুব ছোট হয় বা বালুকণার মতো থাকে তা অনেক সময় আপনাআপনি বেরিয়ে যায় এবং কখন বেরিয়ে যায় তা ঠিক বোঝা যায় না। তবে পিত্তপাথরী আকারে বড় হলে বেরিয়ে যেতে পারে না, তখন তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়।
লক্ষণ:
১) প্রচণ্ড ব্যথা ডান কুক্ষিদেশে থেকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষ করে ডান কাঁধ ও পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ব্যথায় রোগী ছটফট করেন এবং অস্থির হয়ে পড়েন।
২) অনেক সময় ব্যথার সঙ্গে বমি ও পিত্ত বমি হয়ে থাকে।
৩) ব্যথা সঙ্গে ঠাণ্ডা ঘাম দেখা দেয়, ছটফট ভাব এবং হিমাঙ্গের ভাব দেখা দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।
৪) অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জণ্ডিস রোগ দেখা দেয় এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায়।
৫) পিত্তকোষ থেকে যদি পাথর বের না হয় তবে শেষ পর্যন্ত হোমিওচিকিৎসা না নিয়ে অপারেশন করে বের করার ব্যবস্থ্য করতে হয়।
চিকিৎসা: হোমিওপ্যাথিতে রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। এজন্য একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক রোগীর ধাতুগত লক্ষণ মিলিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে পিত্তপাথরী ছোট হোক আর বড় হোক আরোগ্য সম্ভব।
এ রোগের চিকিসৎসার জন্য হোমিওপ্যাথিতে Berberis, Sarsaparilla, Carica Papayaসহ কয়েকটি ওষুধ রয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় একেক রোগীর একেক ধরনের ওষুধ প্রয়োগের নিয়ম রয়েছে। রোগী, রোগের লক্ষণ ও মাত্রা ভেদে এসব ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে কেউ ওষুধ সেবন করবেন না। তাহলে বিপদে পড়তে পারেন। লেখক: শেখ বদরুদ্দীন হোমিও চেম্বার. ৪২/২ ঢালকানগর লেন, গেণ্ডারিয়া ঢাকা-১২০৪-০১৭১১-১৩৮-১৩৫

Leave a Reply