“ঈদের জামাত পাবো কিনা জানি না, তবুও তোমার ছেলে বাড়ী আসছে মা”–দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের একজন পুলিশ সদস্যের উক্তি

মোঃ কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ, ১৭ জুন ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: দোহাজারী পৌরসভাস্থ ‘দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রে’র একজন পুলিশ সদস্য ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তাঁর নিজ টাইমলাইনে লিখেছেন, “বড্ড দেরিতে ছুটি নামের সেই সোনার হরিনটি ধরা দিলো, ঈদের জামাত পাব কিনা জানিনা। তবুও তোমার ছেলে বাড়ি আসছে মা। সময় ভোর ৪টা।” এর আগের পোষ্টে তিনি লিখেছেন, “কি চাকরিতে আসলাম! ঈদের বাকি আর ১০ ঘন্টাও নেই। এখনো জানি না বাড়ি যেতে পারব কিনা?
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে সে জন্য দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বড়ুয়া’র সুনিবিড় তত্ত্বাবধানে কঠোর নজরদারীর অংশ হিসেবে মার্কেটগুলোত দায়িত্ব পালন করেছেন দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের কঠোর নজরদারীর ফলে দোহাজারী পৌরসভার মার্কেটগুলোতে নিরাপদে ঈদ কেনাকাটা করেছেন দোহাজারী পৌরবাসী ও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ক্রেতাসাধারণ। গভীর রাতেও ভয়ডরহীনভাবে স্বস্তিতে কেনাকাটা করেছেন ক্রেতারা। ইভটিজিং, মারামারি ও বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছাড়াই উৎসবমূখর পরিবেশে কেনাকাটা করার সুবিধার্থে হাজারী টাওয়ার, হাজারী শপিং সেন্টার ও খান প্লাজার সামনে দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের একটি করে টিম সার্বক্ষণিক পাহারায় ছিলো। এছাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি টিম চষে বেড়িয়েছে দোহাজারীর বিভিন্ন গুরুত্ব পয়েন্টে। পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পুরো দেশের মানুষ যখন নাড়ীর টানে বাড়ীর পানে ছুটছেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারায় থাকেন নিজ নিজ কর্মস্থলে। সরকারি ছুটির আনন্দ উপভোগের উল্লাসে অন্যান্য সরকারী বেসরকারী চাকরিজীবীরা আনন্দে মাতায়োরা হয়ে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেও পুলিশ সদস্যদের এই ধরনের সুযোগ কমই থাকে। গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ২টা, দোহাজারী পৌরসভার হাজারী টাওয়ারের সামনে ডিউটিরত দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের ৩ জন পুলিশ সদস্যকে দেখে সঙ্গীয় এডভোকেট এস.এম ওয়াহিদ রনি ভাইকে বললাম, “আচ্ছা, এই পুলিশ সদস্যদের কি পরিবার নেই? এদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে তাদের পছন্দ মাফিক ঈদ কেনাকাটা করতে ইচ্ছে করে না? রাত প্রায় ২টা, অথচ ওনারা মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য নির্ঘুম রয়েছেন। অন্যান্য মার্কেটে থাকা পুলিশ সদস্যরাও ওনাদের মত করেই দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ না থাকলে সাধারণ জনগণ কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তার একটা কাল্পনিক নমুনা ভারতীয় হিন্দী মুভী ‘সিংহম-২’তে দেখানো হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হলেও পুলিশ সদস্যদের বড় পরিচয় তাঁরা জনগণের বন্ধু। আমরা সাধারণ জনগণ কোন বিপদের সম্মুখীন হলে আইনের আশ্রয় নেই এবং তাঁদের শরনাপন্ন হয়ে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করি। মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন পুলিশ সদস্যের অসদাচরণ ও অহংকারী মনোভাব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার ফলে পুরো পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে আমরা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করি। আশা করি পুলিশ সম্পর্কে বদ্ধমূল নেতিবাচক ধারণাগুলো আস্তে আস্তে একদিন মানুষের মন থেকে মু্ছে যাবে। ঈদ, পূজাসহ অন্যান্য উৎসব পরিবারের সাথে উদযাপন করতে ছুুটি নামক সোনার হরিনের পা স্পর্শ করার সুযোগ পুলিশ সদস্যদের সব সময় হয় না। বরং দেশে ছুটির মহামারি লাগলেই পুলিশের কাজ দশ গুণ বেড়ে যায়। পুুলিশ সদস্যরা তাঁদের পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বিভিন্ন প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে মনের মাঝেই কষ্ট চেপে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্রের একজন পুলিশ সদস্য ১৬ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন, “বড্ড দেরিতে ছুটি নামের সেই সোনার হরিনটি ধরা দিলো, ঈদের জামাত পাব কিনা জানি না। তবুও তোমার ছেলে বাড়ি আসছে মা। সময়- সকাল ৪টা। এর আগের পোষ্টে তিনি লিখেছেন, “কি চাকরিতে আসলাম! ঈদের বাকি আর ১০ ঘন্টাও নেই। এখনো জানি না বাড়ি যেতে পারব কিনা? পুলিশ সদস্যরাও রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তাঁদেরও পরিবার আছে, আবেগ-অনুভূতি আছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা বিধান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তাঁরা হাসিমুখে পালণ করে যাচ্ছেন দিন-রাত। সকল মানবিক পুলিশ সদস্যদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা ও হৃদয় নিংড়ানো পুস্পিত শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

Leave a Reply