বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার দাবীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে মহানগর বিএনপির স্মারকলিপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দানুযায়ী বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি এবং তাঁর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ঈদুল ফিতরের আগে নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে কেন্দ্রঘোষিত সারাদেশব্যাপি কর্মসূচির অংশহিসেবে আজ ১৪ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেনকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে নেতৃবৃন্দ জেলাপ্রশাসককে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং নি:শর্ত মুক্তির দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানান। জেলাপ্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে পৌঁছে দিবেন বলে জানান। স্মারকলিপি প্রদান শেষে কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আবু সুফিয়ান বলেন, বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছিলেন। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে তাচ্ছিল্য ও অবহেলা চলছে তাতে মানুষের মনে গভীর আশঙ্কা যে, বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে সরকার মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তিনি অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাঁর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁকে নি:শর্ত মুক্তির দাবী জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, উপদেষ্টা নবাব খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম স্বপন, সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নেজাম উদ্দিন খান, সদস্য মো. মহিউদ্দিন, নগর ছাত্রদল সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, ৪৩ নং আমিন শিল্পাঞ্চালন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এফ এ সেলিম, নগর যুবদল নেতা মো. সোহেল চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা মো. শফি ও এস এন রিমন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে জানানো হয় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জাল নথি’র ওপর ভিত্তি করে বানোয়াট মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে বাস করতে হচ্ছে অন্ধকার শ^াসরোধী পরিবেশে। নির্দোষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুবিচার পাননি বরং প্রহসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে কারাগারে আটকিয়ে রেখে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা দেয়া হচ্ছে। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে অন্যায় সাজা ও অন্যান্য মামলা জামিনযোগ্য হওয়া সত্বেও সরকারের কারসাজিতে সেগুলোর জামিনও আটকিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার প্রতি এহেন অমানবিক এবং নির্দয় আচরণে জনগণ বিক্ষুদ্ধ ও চরম উদ্বিগ্ন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন চিকিৎসাবঞ্চিত, তাঁর মানবাধিকার ও বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘিত। তিনি গত ৫ জুন ‘ট্রানজিয়েন্ট স্কীমিক এ্যাটাক’ (টিআইএ) এ ৫/৬ মিনিট অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক নানা অসুস্থতায় বিনা চিকিৎসায় দেশনেত্রীর জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বরাবরই অবহেলা করে যাচ্ছে। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ তাৎক্ষণিক ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছিলেন। দেশনেত্রীর জ্ঞান হারানোর মতো এতবড় একটি দু:সংবাদের পরেও কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া তো দুরের কথা, বরং দিনের পর দিন সময় ক্ষেপণ করে দেশনেত্রীর অসুস্থতাকে আশঙ্কাজনক মাত্রায় নিয়ে গেছে। কারণ তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসে বলেছিলেন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিলে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর খারাপের দিকে যেতে পারে।
গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে তাচ্ছিল্য ও অবহেলা চলছে তাতে মানুষের মনে গভীর আশঙ্কা যে, বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে সরকার মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। ইউনাইটেড হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার তাঁকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার যে কথা বলছে, তা দুরভিসন্ধিমূলক। পিজি হাসপাতালে তাঁর যখাযথ চিকিৎসা হবে না। তার পরেও জবরদস্তিমূলকভাবে বেগম জিয়াকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলা সরকারের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
আমরা চট্টগ্রাম মহানগরবাসীর পক্ষে জোর দাবি জানাচ্ছি-কালবিলম্ব না করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং তাঁর সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁকে নি:শর্ত মুক্তি দেয়া হোক। আমাদের এই দাবি আপনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অবগত করবেন বলে আমরা আশা রাখি।

Leave a Reply