বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আফ্রিকায় অপহরণের হোতাসহ গ্রেফতার ৩

ফেনী অফিস, ১৪ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: দক্ষিণ আফ্রিকায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রবিউল ইসলাম নামে এক যুবককে অপহরণ করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়কারী একটি চক্রের প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতার কৃতরা হলেন ফেনীর দাগনভুইয়ার মৃত অজিউল্লাহর ছেলে কাউসার ও আ. রহমানের ছেলে বাশার এবং কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীর মৃত জাফর আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফাহাদ।
সিআইডিরি সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) শারমিন জাহান জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া গ্রামের মো. রবিউল হক তিন বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গে যান। সেখানে বয়জান এলাকায় তার ভ্যারাইটিস স্টোরের ব্যবসা শুরু করে। ব্যবসার আয় রোজগার নিয়ে তিনি ভালোই চলছিলেন। কিন্তু এবছরের ২৯ জানুয়ারি তিনি দোকানের জন্য মালামাল ক্রয় করতে গেলে তাকে অপহরণ করে একটি চক্র।
অপহরণের পর রবিউলের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার রেন্ট (বাংলাদেশী প্রায় ১৬ লাখ টাকা) অপহরণকারীরা নিয়ে যায়। এরপর অপহরণকারীরা বাংলাদেশে তার স্বজনদরে কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসাবে আরো ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়।
মুক্তিপণের জন্য রবিউলকে বিভিন্ন রকম নির্যাতন করা হতে থাকে এবং দ্রুত টাকা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক সময় তারা, তার দোকান বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করে দিতে বলে এবং দোকানের ক্রেতাও তারা নির্ধারণ করে দেয়। তারা টাকা প্রদান করার জন্য ২টি ব্যাংক একাউন্ট নাম্বারও দিয়ে দেয়। এরপর রবিউলের ভাই মাহবুবুল হক গত ১১ ফেব্রুয়ারি অহনা ইলেক্ট্রনিক্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লি. দাগনভুইয়া ব্রাঞ্চ, ফেনী, একাউন্ট নাম্বার- ০১৪৩১১১০০০০০৭৪৩ এ ৯ লাখ টাকা ও বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স, ইউসিবিএল, মুরাদপুর ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম, একাউন্ট নাম্বার- ০৭৬২১০১০০০০০৩৭৭৮ এ ১১ লক্ষ টাকা পাঠান
দোকান বিক্রিবাবদ ২০ লাখ টাকা দেয়ার পর অপহরণকারীরা রবিউলকে ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেয়। দীর্ঘদিন অপহৃত অবস্থায় অর্ধাহারে অনাহারে থাকার কারণে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
এরপর তার স্বজনরা সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সিআইডির অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ গত ১৮ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশীসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে তাহের বাংলাদেশের চৌদ্দগ্রাম ও মহসিন কক্সবাজারের বাসিন্দা। অপর সাতজনের তিনজন পাকিস্থানী এবং চারজন দক্ষিন আফ্রিকার বাসিন্দা।
রবিউলের ভাই ১৬ এপ্রিল মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডি গ্রহণ করার পর অনুসন্ধান ও অভিযান পারিচালনা করে গত ২৮ মে উক্ত প্রতারক চক্রের দুই সদস্য হোসেন পারভেজ ও কাউসারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও চলমান অনুসন্ধানে তদন্তকারী দল জানতে পারে অপহরণকারীদের মুল হোতা মোহাম্মদ ফাহাদ দেশেই অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে তার দুই সহযোগী ধরা পড়েছে এটা জেনে ফাহাদ বুঝতে পারেন দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার চেষ্টা করলেই পুলিশের কাছে ধরা খেয়ে যাবেন তিনি। তাই তিনিস এক অভিনব কায়দার আশ্রয় নেন, তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে এই মর্মে একটি জিডি করে নতুন নাম ঠিকানা দিয়ে একটি পাসপোর্ট তৈরিতে সচেষ্ট হন। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেনি ফাহাদ।
গত ১২ জুন তাকে গ্রেফতার করে অর্গানাইজড ক্রাইম, সিআইডি। তদন্তে জানা যায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হোসেন পারভেজ উক্ত টাকা গ্রহণ করে একটি সিগারেট এর চালানের বিপরীতে যে চালানটি তিনি মোহাম্মদ ফাহাদকে দেন। অন্যদিকে অহনা ইলেক্ট্রনিক্স এর স্বত্তাধিকারী কাউসার উক্ত টাকা গ্রহন করে কাউসার ও নিজে ভাগাভাগি করে নেন।
এরই মধ্যে অপহরণের মাধ্যমে অর্জিত টাকা তারা যাতে অত্মসাৎ করতে না পারে তার জন্য আসামিদের ব্যাংক একাউন্ট সিজ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় উক্ত প্রতারক চক্রে দেশী-বিদেশী লোক জড়িত। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মামলাটি সিআইডি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply