বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: বাংলাদেশ-চীন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সমীক্ষা যাচাইয়ে আগামী ২০ থেকে ২১ জুন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠকে বসছে। আর এটিই হবে উভয় দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রথম বৈঠক। এতে এফটিএ চুক্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে উভয়পক্ষ বিস্তর আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চায় না। কেননা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে বাংলাদেশ বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। আর বিপরীতে বাংলাদেশ চীনে রফতানি করে বছরে মাত্র এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। সে কারণেই এফটিএ চুক্তির আগে নানা দিক খতিয়ে দেখতে চায় বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে তিনি বলছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের শিল্প বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না তা নিয়ে প্রথমে নিশ্চিত হতে চায় সরকার। পরে সে অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ। আগামী ২০-২১ জুন অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম।
তবে চীনের সঙ্গে এফটিএ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর নানা দিক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের (এপিটিএ) আওতায় ২০১০ সাল থেকে চীনের বাজারে চার হাজার ৮৮৬টি পণ্যের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ।
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ করার এ প্রস্তাব প্রথমে চীনের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। এফটিএ করার পক্ষে চীনের যুক্তি হলো- এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অধিক হারে চীনের বিনিয়োগ আসবে। আর বাংলাদেশের রফতানিও বহুমুখী হবে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এফটিএ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি যৌথ সমীক্ষা যাচাই গ্রুপ গঠনে সমঝোতা স্মারক সই হয়। সে অনুযায়ী দুই দেশ গ্রুপ গঠন করে। এই গ্রুপ দুই দেশের এফটিএ চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে।

Leave a Reply