তিনদিনের টানা বর্ষণে সাতকানিয়া পানির নীচে তলিয়ে গেছে

এম এম রাজা মিয়া রাজু, ১৩ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: তিনদিনের টানা বর্ষণে সাতকানিয়া পানির নীচে তলিয়ে গেছে। রাক্ষুসী শঙ্খনদী ও ডলু খালের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত সোমবার রাতে কেরানীহাট বান্দরবান সড়ক ডুবে যাওয়ায় লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার। পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে বাজালিয়ার মাহালিয়া কেওঁচিয়া ঢেমশা নলুয়া কাঞ্চনা পানির নীচে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে। তাদের রাস্তা ঘাট ডুবে যাওয়ায় তারা নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে। অন্যদিকে নদীর কূলবর্তী বাসিন্দা পুরানগড় বাজালিয়া ধর্মপুর চৌধুরী পাড়া জেলে পাড়া কালিয়াইশ ম্যাঙ্গাপাড়া নলুয়া আমিলাইষ খাগরিয়া চরতী ও চন্দনাইশের চাগাচর বৈলতলীর বশতনগর রাক্ষুসী শঙ্খনদী করাল গ্রাসের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। প্রবল ¯্রােতের ঢেউয়ের তরঙ্গে তাদের অন্তরের পানি শুকিয়ে যায়। জানা যায় নদীর পাড়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকের বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। চট্টগ্রাম কক্্রবাজার সড়কের মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট গরু’র বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অথৈ পানিতে ভাসছে। এই সড়কের নতুন যাত্রীরা মনে করছে এটা কোন ছোট খাটো খাল কিংবা নদী নয়। ইহা মহাসাগর। অথচ তাদের ধারনা দুই/তিন দিন পর পাল্টে গিয়ে ধরা পড়বে এসব তো চাষাবাদের বিল। এই সব এলাকা পানিতে পরিণত হওয়ার কারণ পানি নিষ্কাশনের নালা নর্দমা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ইট ভাটার মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীরা এসব ধানী জমি থেকে ১০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় বিল সাগরে পরিণত হয়েছে। আর তিনদিন মাত্র ঈদের বাকী। যে সময় মানুষ ঈদ উৎসবে ব্যস্ত সেই সময় ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে কিংবা বিলীন হয়ে যাওয়া চোখে সরিষা ফুল দেখা ছাড়া আর কিছুই নয়। ঘর হারানো ও ডুবে যাওয়া মানুষের এখন ঈদের আনন্দের পরিবর্তে তাদের এসেছে বিষাদ। অথচ এসব পরিবারের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পার্শ্ববর্তী পরিবারের বন্ধুরা ঈদ উৎসবে মেতে উঠলেও এখন তাদের সে ব্যবস্থা নেই। তাদের চোখেমুখে বিমর্ষ ভাব দেখা যায়। প্রকৃতির লীলাভূমি বোঝা বড় দায়। কোন সময় কী হয় কারো ভাবার চিন্তা নাই। ওইসব এলাকা প্লাবিত হওয়ায় অনেকস্থানে কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। মৎস্যজীবীদের প্রজেক্টের মাছ বন্যার পানিতে বের হয়ে যায় । তারা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে চন্দনাইশের বসতনগরের মোঃ আব্দুল্লাহ শঙ্খনদীর করাল গ্রাসে ঘরবাড়ি হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। তিনি বর্ষা আসলে আতঙ্কে জীবনযাপন করে। নদীর তীরবর্তী অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে যাযাবর কিংবা পাহাড়ে কালযাপন করছে। সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ অধিবাসীদের বন্যার পানি এখন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের কারণ একদিকে নালা নর্দমা ভরাট অন্যদিকে মাটি খেকো। বন্যার পানি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে মাটি খেকোদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

Leave a Reply