চট্টগ্রাম কক্সবাজার সড়কে বরাবরই গলা কাটা ভাড়া আদায়

এম এম রাজামিয়া রাজু, ১৩ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: ঈদ আর দুই দিন বাকী। কর্মজীবীদের এখন বাড়ি ফেরার পালা। সবাই ঈদের আমেজ উপভোগ করার জন্য স্ব স্ব স্থানে পরিবার পরিজন নিয়ে চলে যাচ্ছে। এ সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ অভিযোগ নতুন নয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা পরিবহন শ্রমিকদের ট্রেডিশনে পরিণত হযেছে। তবে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩/ ৪ গুণ অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়। এই প্রথা শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রামে। যাত্রীদের শত অভিযোগ থাকলে ও দেখার কেউ নেই। প্রচলিত আইনে সবকর্ম চলে। শুধু নিয়মের বাইরে থেকে যায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। ঈদে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক সভা অনুষ্টিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াছ বলেছেন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় না করার জন্য। এতে কার কথা কে শুনে। পরিবহন শ্রমিকেরা বরাবরই গলাকাটা ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। জানা যায় অতিরিক্তি ভাড়া নেয়ার রেওয়াজ শুধু চট্টগ্রাম কক্্রবাজার ছাড়া আর কোন সড়কে নেই। এই সড়কে সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক বাড়ি ফেরার ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ/ তিনগুণ ভাড়া দিতে দ্বিধাবোধ করে না। কারণ তারা ও কাপড় চোপড়ের দাম গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্বিগুণ হাতিয়ে নেয়। কাজেই কিভাবে তাড়াতড়ি বাড়ি যাবে সে চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয় প্রতিদিনের কর্মজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা। সূত্রমতে বিধির পরিপন্থী হলে যেই কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়। কিন্তু পরিবহন সেক্টরের লোকজনকে আইনের আওতায় আনা হয় না কেন যাত্রীদের প্রশ্ন। শ্রমিকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে ২/ ৩ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে নেয়ায় স্বল্প আয়ের লোকেরা বেকায়দায় পড়ে। এমনিতে ঈদে যাত্রীরা পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয়। নতুনব্রীজ বশরুজ্জামান চত্ত্বর এলাকায় পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য কর্তব্যরত ডজন খানেক পুলিশ দেখলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। যেন তাদের কোন করণীয় নেই। তারা ব্যস্ত তাকে ছোটখাটো ও পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজীতে। তাছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ি থেকেও আর্থিক ফায়দা লুটে বলে জানা গেছে। ফলে যাত্রীদের দুঃখ দেখেও না দেখার ভান ধরে। এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীর সাথে শ্রমিকদের প্রায় সময় বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ড্রাইভার কন্ট্রাক্টারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করার জন্য যাত্রীরা জেলা প্রশাসকের নিকট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply