তারাবীতে হাফেজ সাহেবগণ যা তেলাওয়াত করবেন তার অর্থ

ডাঃ মাওলানা মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, ১২ জুন ২০১৮ ইংরেজী, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদরের রাতে (সর্বাধিক সম্ভাবনাময়) ২৭তম রোজার তারাবীহ নামাজে পবিত্র কোরআনের শেষ পারা (৩০তম পারা) তেলাওয়াত করা হবে।
৩০তম পারা থেকে (সুরা নাবা এর ১নং আয়াত থেকে সুরা নাস এর শেষ আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হল:-
* নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। [ সুরা নাবা-২১,২২ ]
* এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে (নিজের জন্য) ঠিকানা তৈরী করুক। [ সুরা নাবা-৩৯ ] * যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে; এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। [ সুরা নাজিয়াত-৩৭-৩৯ ] * পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। [ সুরা নাজিয়াত-৪০-৪১ ] * যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে। [ সুরা নাজিয়াত-৪৬ ] * সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পতœী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের একটাই চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। [ সুরা আ’বাসা, ৩৪-৩৭ ] * যখন আমলনামা খোলা হবে, যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে, যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে, এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে, তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে। [ সুরা তাকভীর-১০-১৪ ] * আপনি জানেন, বিচার দিবস কি? যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কতৃত্ব হবে আল্লাহর। [ সুরা ইনফিতার-১৮-১৯ ] * নিশ্চয়ই সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে, সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে। তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। [ সুরা মুতাফফিফীন-২২-২৬ ] * যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে [ সুরা ইনশিকাক-৭-৯
* এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে আহবান করবে, এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সেতো (দুনিয়াতে) তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিতই ছিল। সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না। কেন যাবে না, তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন। [ সুরা ইনশিকাক-১০-১৫ ] * যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা। [ সুরা বুরূজ-১০ ] * যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য। [ সুরা বুরূজ-১১ ] * মানুষের ভেবে দেখা উচিত যে, কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম। [ সুরা তারিক-৫-৮ ] * নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালাকারী। এবং এটা উপহাস নয়। [ সুরা তারিক-১৩-১৪ ] * নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করবে, যে শুদ্ধ হয় এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, এবং অতঃপর নামায আদায় করে। বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবনই তো সর্বোৎকৃষ্ট ও চিরস্থায়ী। [ সুরা আ’লা-১৪-১৭ ] * যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা। তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে। [ সুরা বা’লাদ-১৯,২০ ] * যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব। [ সুরা লাইল-৫-৭ ] * নিশ্চয় কষ্টের পর স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের পর স্বস্তি রয়েছে। [ সুরা আলাম-নাশরাহ-৫,৬ ] * আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতর অবয়বে। [ সুরা তীন-৪ ] * পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। [ সুরা আলাক-১-৫ ] * নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি ক্বদরের রাতে। আর ক্বদরের রাত সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। [ সুরা ক্বদর-১-৫ ] * যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর। [ সুরা বাইয়্যনোহ-৭,৮ ] * প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে; এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। [ সুরা তাকাসুর-১,২ ] * কসম সময়ের, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। [ সুরা আসর-১-৩ ] * প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ। [ সুরা হুমাযা-১ ] * দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর। [ সুরা মাউন-৪,৫ ] * নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ। [ সুরা কাউসার-১-৩ ] * বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি; এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের ধর্ম (শিরক) তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম (ইসলাম) আমার জন্যে। [ সুরা কাফিরূন-১-৬ ] * বলুন, আল্লাহ এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী;
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি; এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [ সুরা ইখলাস-১-৪ ] * বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে; অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়; গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে; এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। [ সুরা ফালাক-১-৫ ] * বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার নিকট, মানুষের অধিপতির নিকট, মানুষের মা’বুদের নিকট। তার অনিষ্ট থেকে যে কুমন্ত্রণা দেয় ও যে আতœগোপন করে। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে। [ সুরা নাস-১-৬ ]

Leave a Reply