বেতন-বোনাস পরিশোধের শেষ দিন আজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ জুন ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: বাংলাদেশে ঈদকে সামনে রেখে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের যে বেতন-বোনাস পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা তার শেষ দিন আজ। বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং এফসিসিআইয়ের নেতারা এই আশ্বাস দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও বলেছিলেন, পোশাক মালিকরা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন এবার সময়মতো বেতন-বোনাস দেয়া হবে। ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশাও প্রকাশ করা হয়েছিলো। এদিকে আজ ১০ জুন এই সময়সীমার আগে আসলে শ্রমিকরা বেতন পেয়েছে কি? অন্যদিকে বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রেই বা অগ্রগতি কতদূর?
বিবিসি বাংলা এই বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারের কাছে। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো ১০ জুনের মধ্যে বেতন ও ১৪ জুনের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করার জন্য। আমার মনে হয় মালিকদের এই বলাটার মধ্যেই অনেক সমস্যা রয়েছে। আইনগতভাবে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার কথা রয়েছে। সেটা সময় অনুযায়ী। এ ছাড়া ১৪ তারিখ যখন চলে যাবে তখন বোনাস দেয়ার ব্যাপারে মালিকরা শ্রমিকদেরকে বোনাস না দেয়ার পায়তারা করবে এবং শেষ মুহূর্তে এসে আন্দোলন করে ঈদের আগে একটা ঝামেলার সৃষ্টি করবে। যদিও এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে খবর আসছে বিভিন্ন কারখানা বা ফ্যাক্টরিতে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে বোনাসের পরিমাণ কম বা বোনাস না দেয়া এসব বিষয়ে।’
যেহেতু ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের কথা বলা হয়েছিলো তাই ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে গার্মেন্টস শ্রমিকরা তা পেয়েছে কি-না? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে জলি তালুকদার বলেন, ‘কিছুকিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরিতে ৭ম কর্মদিবসের মধ্যেই বেতন দিয়ে দেয়। আজকে পর্যন্ত আমার জানামতে অনেক ফ্যাক্টরিতে বেতনের জন্য আন্দোলন চলছে। তবে বেশিরভাগ ফ্যাক্টরিতে এখনও বেতন পরিশোধ হয়নি।’
যেহেতু বেশিরভাহ ফ্যাক্টরিতে এখনও বেতন পরিশোধ হয়নি সেহেতু ঈদের আগে আরও যে কদিন আছে সে দিনগুলোর মধ্যে কি বেতন পরিশোধ হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিবারই মালিকরা বলে যে ঈদের আগে বেতন বোনাস পরিশোধ করবে কিন্তু তা তারা করে না। এবং শেষ পর্যন্ত এটা সম্ভব হয় না। তার কারণ হচ্ছে এ ব্যপারে যতটা মনিটরিং করা দরকার সে পরিমাণ মনিটরিং করা হচ্ছে না। এ ছাড়া কিছু ফ্যাক্টরী আছে তারা বেতন বোনাস না দিতে পারায় ঈদের সময় এসে তা বন্ধ করে দেয়। তারা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে।’
যেসব কারখানায় বেতনের জন্য বিক্ষোভ চলছে সেসব কারখানায় মালিকদের পক্ষ থেকে এখন কি বলা হচ্ছে? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালিকদের পক্ষ থেকেতো সমসময়ই বলা হয় এইতো সমাধান হয়েছে, সমাধান করছি, কাল সমাধান হবে। কিন্তু এটা সব সময়ই কার্যকর হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ঈদের আর মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি আছে। এখনও বহু কারখানায় বেতন দেয়া হয়নি। আমরা সবসময় দেখি আমাদের শ্রমিকরা ঈদের দিন পর্যন্ত রাস্তায় আন্দোলনে থাকতে হয়। অনেক ফ্যাক্টরি আছে যার মালিকরা শ্রমিকদের আন্দোলনটা মিটাতেও আসে না। পরে শ্রমিকরা তার বাড়িতে চলে যায়। আর এ ধরণের ঘটনা কিন্তু প্রতি বছরই আমরা দেখতে পাই।’-বিবিসি বাংলা

Leave a Reply