৩৫ লাখ লোক মাসিক ৪০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাবেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৭ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বৃহস্পতিবার: অবসরকালীন পেনশন সুবিধা সরকারি চাকুরেদের পাশাপাশি বেসরকারি চাকুরেদেরকেও দিতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর এর একটি রূপরেখাও দিয়েছেন তিনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই বিষয়টির উল্লেখ আছে। প্রবীণদের আর্থির সুরক্ষা দিতে এই বিষয়টি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। মুহিত বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন ভাতা চালু করতে চাই।’ এই ব্যবস্থা আগামী অর্থবছরেই চালু হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত সকল কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি টেকসই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ এ অর্থবছরেরই শুরু করার আশা রাখি।’ ‘অন্ততঃপক্ষে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসাবে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করার ইচ্ছা রয়েছে।’ বৃহস্পতিবার স্পিকার শিরীন শারমীনের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এতে জনবান্ধব এই বিষয়টির উল্লেখ ছিল। বেসরকারি চাকুরেদের পেনশনের জন্য তার নিজেকেও অর্থ জমা রাখতে হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সরকার পরিচালিত স্কিমে নিবন্ধন করে একজন কর্মজীবী মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা জমা দেবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট অংক কর্মজীবীর পেনশন হিসাবে জমা দেবে।’ এ ক্ষেত্রে হতদরিদ্র শ্রমজীবীদের ক্ষেত্রে তাদের অংশের অতিরিক্ত হিসেবে সরকার পূর্ব ঘোষণা হিসাবেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ হিসোবে জমা দেবে। এ তহবিল হতে প্রাপ্ত আয় সর্বজনীন তহবিলে জমা হবে। সবার জন্য পেনশন চালুর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার অতি সামান্য অংশই পেনশন সুবিধা ভোগ করছেন। তার মধ্যে শুধু সরকারি কর্মচারী ও কতিপয় বেসরকারি সংস্থার কর্মচারীরা সর্বমোট সাত থেকে আট লাখ পরিবার নিয়মিত এ সুবিধা পেয়ে থাকেন।’ ‘এর বাইরে ৩৫ লাখ লোক মাসিক ৪০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, মান সম্মত জীবনধারণের পক্ষে যথেষ্ঠ নয়। জনমিতির ধারায় উন্নত দেশের মত আমাদের দেশেও বয়স্ক জনগোষ্ঠির অনুপাত বাড়বে। তখন স্বাভাবিক বাজেট বরাদ্দের আওতায় তাদের সহায়তা প্রদান দুরূহ হয়ে যাবে।’ সার্বজনীন পেনশন প্রবর্তনের জন্য মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এটি সময় ও ব্যয়সাপক্ষে বলেও জানান তিনি। ‘সরকারি কর্মচারী ও জনগণের মধ্যে সুযোগের ন্যায্যতা ও সামঞ্জস্য বিধান করার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা, ধারাবাহিক কৌশলগত পরিবর্তন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃজন, কারিগরি সক্ষমতা ও যথাযথ নীতি কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন।’

Leave a Reply