থ্যালাসেমিয়া

ডা: দানিয়েল বাড়ৈ: ৬ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: ভূমিকা ঃ এটি একটি সাংঘাতিক মানের রক্তস্বল্পতা রোগ। যেসব রোগীর স্বাভাবিক অবস্থায় মাথা ঘোরা, বসা থেকে উঠলে চোখে অন্ধকার দেখা, মুখে অরূচি, সর্বদাই মনমরা ভাব, ক্লান্তি বোধ ইত্যাদি থাকে, তাদের জানতে হবে যে, রক্তে লোহিত কণিকার অভাব বা ঘাটতি আছে।
একজন সুস্থ ও শক্তিশালী মানুষের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ ৯% ভাগ। যা সংখ্যায় প্রতি ঘন মি.মি. রক্তে ৫০ লক্ষ থেকে ৬৫ লক্ষ পুরুষের বা, ৫-৬.৫  ১০¹ক্ষ্ম/খ এবং নারীদের ৩৮ লক্ষ থেকে ৫৮ লক্ষ/ঘন মি.মি বা, ৩.৮- ৫.৮  ১০¹ক্ষ্ম/খ
যখন কারো শরীর ফ্যাকাশে দেখায় রোগীর অনুভুতিতে দুর্বলতা বোধ হয় তখন তাকে তার প্রতিবেশীরা বলে তার রক্তশুন্যতা হয়েছে। তখন তাকে শিং মাছ, কৈ মাছ (জাতীয় জিয়ল মাছ), টাটকা শাক-সবজি, দুধ, ডিম ইত্যাদি খেতে বলা হয়। তারা রোগীর রক্ত পরীক্ষা না করেই জেনে ফেলে তার রক্তশুন্যতা হয়েছে। একে বলা হয় লোহিত কণিকার ঘাটতি। অনেক জন্ডিস পরীক্ষায় দেখা যায় রক্তে জইঈ থাকার কথা (৮%-৯%), কিন্তু (৪%-৬%) পাওয়া যায়।
থ্যালাসেমিয়া একটি জন্ম গত বা বংশগত রোগ। এটি একটি ল্যাটিন নাম। নামটি দুভাগ করে পাওয়া যায় ‘থ্যালাসা’ অর্থ সাগর এবং ‘মিয়া’ অর্থ রক্ত। চিকিৎসাক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তের প্রয়োজন বলেই হয়তো এর নাম রক্তসাগর। থ্যালাসেমিয়ার প্রধান পরিচায়ক লক্ষণ হল-শিশুর রক্তে লোহিত কণিকা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধক্ষংস হতে শুরু করে ফলে রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
* কারণ জিনগত রোগ থ্যালাসেমিয়া। যদি বাবা ও মা দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন তবে তাদের সন্তানাদি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে। স্বাভাবিক রক্তের হিমোগ্লোবিনে (ধফঁষঃ) মোট ৮ জোড়া জিনের মধ্যে আলফা () বিটা () ও গামা () বা ডেল্টা () চেইন থাকে। যখনই কোন চেইনের ঘাটতি হয়, তখনই এই রোগের সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক রক্তে (ঐনঅ) আলফা () ও বিটা () চেইন থাকে ৯৭% এবং শিশুদের ক্ষেত্রে আলফা () ও গামা () চেইন থাকে (ঐনঋ) = ৭০-৯০%. তিন প্রকার হিমোগ্লোবিনের মধ্যে অন্যতম হল ফিটাল (ঋড়বঃধষ) হিমোগ্লোবিন। শিশুর জন্মের পর এক মাস বয়সে তা কমে ২৫ ভাগে দাঁড়ায় এবং ৬ মাস বয়সে তা নেমে আসে ৫% এ। ফিটাল হিমোগ্লোবিন হ্রাস পেয়ে এডাল্ট (অফঁষঃ) হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায় এবং তা ৯০-৯৫% এ উন্নীত হয়। এই যে পরিবর্তন তা সুস্থ শিশুতে দেখা যায়। কিন্তু কোন কারণে এর ব্যতিক্রম ঘটলে সৃষ্টি হয় থ্যালাসেমিয়া।
* ভাগঃ- থ্যালাসেমিয়াকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা হয়ঃ-
(১) আলফা থ্যালাসেমিয়াঃ- যখন জিনে আলফা () চেইনের সিনথেসিস (ঝুহঃযবংরং) ঠিকমত হয় না তখন অতিরিক্ত পরিমাণে বিটা () বা গামা () চেইন তৈরী হওয়ার দরুন আলফা () থ্যালাসেমিয়ার সৃষ্টি হয়।
(২) বিটা থ্যালাসেমিয়াঃ- যখন বিটা চেইনের সিনথেসিস ঠিকমত না হওয়ায় গামা () বা ডেল্টা () চেইন অতিরিক্ত তৈরী হয় তখন বিটা থ্যালাসেমিয়া রোগের সৃষ্টি হয়।
* লক্ষন (১) শিশুকাল থেকে রক্তস্বল্পতা (ধহধবসরধ) দেখা দেয় এবং ক্রমশ: বৃদ্ধি পায়। (২) অনেক সময় রক্তের লোহিতকণিকা (জইঈ) অতি দ্রুত ভেঙ্গে গেলে হিমোলাইটিক জন্ডিস (ঐধবসড়ষুঃরপ ঔধঁহফরপব) দেখা দেয়। (৩) শরীরে সর্বদা দুর্বলতা ও অবসাদ থাকে এবং মুখমন্ডল খুব ফ্যাকাশে দেখায়। (৪) শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠিকমত হয় না। (৫) লিভার ও প্লীহা (খরাবৎ ধহফ ঝঢ়ষববহ) বৃদ্ধি পায়। কখনও কখনও প্লীহা খুব বড় হয়। (৬) অনেক সময় গালের হাড় (গধষধৎ নড়হব) খুব উঁচু হওয়ায় শিশুকে মঙ্গোলিয়ানদের মত দেখায়। (৭) মাথার হাড় এবং অন্যান্য লম্বা হাড়ের একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়। (৮) অনেক সময় প্রচন্ড রক্তস্বল্পতায় (ঝঃৎড়হম অহধবসরধ) ভোগার দরুন হৃৎপিন্ড (ঐবধৎঃ) বৃদ্ধি পায় ও অনেক সময় কার্ডিয়াক ফেইলিওর (ঈধৎফরধপ ঋধরষঁৎব) হতে দেখা যায়। (৯) লোহিত কণিকা অতি দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়ার দরুণ পিত্তপাথর (এধঁষ ংঃড়হব) তৈরী হয়ে যন্ত্রণা হতে পারে। (১০) অনেক সময় নাক হতে রক্ত পড়ে। (১১) অনেক সময় শরীরের চামড়ায় কালচে (চরমসবহঃধৎু ঈযধহমব) ভাব হয় ও পায়ে ঘা (টষপবৎ) এর সৃষ্টি হয়।
* থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়েছে কিনা জানবেন কীভাবে ঃ- (চধঃযড়ষড়মু)
১। রক্ত পরীক্ষায় সিরাম বিলিরুবিন (ঝবৎঁস ইরষষরৎঁনরহ) লেভেল খুব বেশি থাকে। ২। প্লাজমা হেপাটোগ্লোবিন (চষধংসধ ঐধবঢ়ধঃড়মষড়নরহ) লেভেল খুব কমে যায়। ৩। প্লাজমা হিমোপেক্সিন (ঐধবসড়ঢ়বীরহ) লেভেল কমে যায়। ৪। প্লাজমা ফ্রি-হিমোগ্লোবিন, মেথেম এলবুমিন (গবঃযধবস অষনঁসরহ) লেভেল বেড়ে যায়। ৫। প্র¯্রাবে ইউরো বিলিনোজেন (টৎড়নরষষরহড়মবহ) এবং মলে ষ্টারকো বিলিনোজেন (ঝঃবৎপড় নরষষরহড়মবহ) লেভেল বেড়ে যায়। ৬। পেরিফেরাল রক্ত পরীক্ষায় লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে যায় এবং রেটিকিউলোসাইটের (জবঃরপঁষড়পুঃব) সংখ্যা খুব বেড়ে যায়। রক্তে সিকেল সেল (ঝরপশষব), স্ফেরোসাইট (ঝঢ়যবৎড়পুঃব), এলিপটোসাইট (ঊষষরঢ়ঃড়পুঃব) ও টার্গেট সেল (ঞধৎমবষ ঈবষষ) ইত্যাদি পাওয়া যায়। ৭। বোন ম্যারো (ইড়হব গধৎৎড়)ি পরীক্ষায় দেখা যায় এরিথ্রয়েড হাইপারপ্লাসিয়া (ঊৎুঃযৎড়রফ যুঢ়বৎঢ়ষধংরধ)। ৮। মাথার হাড়ের ডিপ্লোয়িক স্পেস (উরঢ়ষড়রপ ঝঢ়ধপব) বৃদ্ধি পায় ও বনি ট্রেবিকিউলি (ইড়হু ঞৎধনবপঁষধব) অনেক সময় দেখতে পাওয়া যায়। লম্বা হাড়ের ভেতরের গর্ত (ঠধংঃঁং ওহঃবৎসবফরঁং) চওড়া হয়ে যায়। রোগ নিরুপনের জন্য রক্ত পরীক্ষা (ইষড়ড়ফ ঈঁষঃঁৎব) করা হয়ে থাকে। তাছাড়া মাথার খুলির (ঈৎধহরধষ ইড়হবং) এক্স-রে ও করা হয়। ৯। রেডিও এ্যাকটিভ ক্রেমিয়াম (জ.অ.ঈ) পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় জইঈ- এর লাইফ স্প্যান কত। ১০। পেপার-ইলেকট্রোফোরেসিস (চধঢ়বৎ-বষবপঃৎড়ঢ়যড়ৎবংরং) পরীক্ষার দ্বারা জানা যায় হিমোগ্লোবিন পিকের (ঐধবসড়মষড়নরহ ঢ়বধশং) অস্বাভাবিকতা।
* মনো-দর্শন ঃ- (চংুপযড়-চযরষড়ংড়ঢ়যু) ঃ-
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রতিটি ঔষধ কমপক্ষে ১০/১২ টি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ কয়েক হাজার প্রকাশিত লক্ষন সমষ্টির উপর পরীক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এগুলি এত সব মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞাতার উপলব্ধি যে, মিথ্যে বলে দূরে ঠেলার বা অবজ্ঞা করার কোনও সুযোগ নেই। কারণ কোনও ঔষধকে প্যাথলজির টেষ্ট ল্যাব থেকে বাস্তব সমাজ জীবনে আনতে হলে অনেক অবস্থার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। তারপর আবার চিকিৎসক নিজে প্রুভিং করেন, রোগীকে দেন, ফলাফল যাচাই করে একটা ঝঃঁহফধৎফ অবস্থানে ঔষধগুলি আসে। আগামী দিনে কোন্ কোন্ লক্ষণ সমষ্টি নিয়ে কোন্ কোন্ নামের রোগ আসবে তা বহু পূর্বেই পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়েছে। এখন আমাদের কর্তব্য (উঁঃু) হল চিকিৎসাক্ষেত্রে উপস্থিত রোগীর লক্ষন সমষ্টি পর্যবেক্ষণ পূর্বক যথাযথ ঔষধের প্রতিবিধান করা।
যেমন ধরুন কোন রোগী বলছে আমার শরীর অবশ ভাব, হাতে পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা, মাথা ঘোরা, শরীর ভারীবোধ তাকে দেখতে লাগছে ফ্যাকাশে, ঘুম থেকে দেরীতে ওঠে সারাদিন ক্লান্তি ভাব, শরীর মোটা থলথলে, পাল্স পাওয়া যায় না, সর্বদাই ঝিমুনি ব্যারাম চিন্তায় ধীর গতি (চায়না, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, সিপিয়া) ইত্যাদি।
স্বামীহারা, মেজাজ গরম, করো কথা শুনতে চায়না, ঝগড়াটে মহিলা, সারাদিন অন্যের ক্রটি বিচ্যুতি খুঁজে বেড়ায়, সারাদিন বকর বকর করে, চীৎকার করে কথা বলে, সবার কথায় নাক গলায়, আলসে অথচ ব্যস্ততা দেখায়, এমন ভাবে কথা বলে যেন মনে হয় সে কাউকে খেয়ে ফেলবে- ল্যাকেসিস, ক্রোটেলাস, আর্সেনিক রাস-টক্স, কোনিয়াম, ষ্ট্র্যাামোনিয়াম ইত্যাদি।
আবার এমনও রোগী আছে, যে কিনা কারো কথা শুনতে চায়না সারাদিন বকর বকর করে, অতি পান্ডিত্য দেখায় কিন্তু গোড়ায় গলদ, আলসে, পেটুক, বুকের বাঁ পাশে ব্যথা, শরীরে আঠালো ঘাম লাইকো, আর্সেনিক, নাক্স, (গায়ে দুর্গন্ধ কিন্তু ফিটবাবু) সোরিনাম ইত্যাদি।
চিকিৎসা (ঞৎবধঃসবহঃ) ঃ- চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রথম নিয়ম হল, একসঙ্গে একটি মাত্র ঔষধ পরিবর্তনশীল শক্তিতে প্রয়োজ্য। অর্থাৎ পরিমাণে অল্প, শক্তিতে উচ্চ এবং প্রয়োগে লঘু। এক্ষেত্রে কি কি ঔষধ আসতে পারে তা বিনা বর্ণনায় উল্লেখ করছি। কিন্তু একথা চিরস্মরণীয়-কারণ বিনা যেমন কার্য্য হয় না তেমনি তিন থেকে চারটি মৌলিক ও একটি অদ্ভুত লক্ষন না দেখে মনগড়া কোন ঔষধ রের্পাটোরাইজ করলে রোগী আরোগ্য লাভ করবে না। এ মারাত্মক ভূলের কারণে যদি রোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করে তার জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিদ্যাকে ভূল বোঝার কোন অবকাশ নেই। এই বলে যে, হোমিও ঔষধ দেরীতে কাজ করে। একথা যারা বলে তারা বোকা বক্কেশ^র যাদের হোমিও সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই। হোমিও ঔষধ যে কত তাড়াতাড়ি কাজ করে তার যথেষ্ট উদাহরণ আমার কাছে আছে।
হ্যানিমানের অর্গ্যাননের একটি কথা দিয়ে শেষ করছি ১ম ও ২য় সূত্র একত্রে-
চিকিৎসকের মহৎ এবং একমাত্র উদ্দেশ্য রোগীকে পুনরায় স্বাস্থ্যে আনয়ন করা, নীরোগ করা, যেমন বলা হয়- (১) অচিরে (২) নিরুপদ্রবে (৩) স্থায়ীভাবে (৪) স্বাস্থ্যের পূণঃ প্রর্বতন অথবা সর্বাপেক্ষা সরল, বিশ^াসযোগ্য ও অনিষ্ট-বিহীন প্রথায় সম্পূর্ণভাবে এবং (৫) সুখবোধ্য বিধানমতে রোগের দূরীকরণ বা ধক্ষংস সাধনই আরোগ্যের সর্বোচ্চ আদর্শ।
ঔষধাবলীঃ- (গবফরপরহব) চায়না, ফেরাম মেট, ক্যাল-কার্ব, ক্যাল-আর্স, সিয়োন্যান্থাস, সিয়ানোথাস, ক্যাল-ফ্লোর, সিম্ফাইটাম ক্যাল-ফস, ক্যাক্টাস, কোলেষ্টেরিন, মার্ক-কর, মিলিফোলিয়াম, ট্রিলিয়াম, এইল্যান্থাস, ক্যালোট্রপিস, হিপার, হাইড্রোকোটাইল, আর্টিকা, লেপট্যান্ড্রা, আর্স-এলবা, ন্যাট্রাম-মিউর, ন্যাট্রাম-কার্ব, ক্রোটেলাস হরি, ইল্যাপস, ল্যাকেসিস, ন্যাট্রাম-সালফ, কালমেঘ, র্কাবোভেজ, চেলিডোনিয়াম, রাস-টক্স ইত্যাদি।
বিঃদ্রঃ প্রয়োজন হলে কনস্টিটিউশনাল চিকিৎসা করাতে হবে।
পরামর্শঃ- (অফারপব) যখন কোন যুবক যুবতী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তার আগে তাঁরা দুজনেই বা যে কোনো একজন স্থানীয় থ্যালাসেমিয়ার পরামর্শ কেন্দ্রে গিয়ে রক্তের পেপার ইলেকট্রোফোরোসিস পরীক্ষার মাধ্যমে অবশ্যই জানবেন যে তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। যদি পাত্র/পাত্রীর যেকোন একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন তবে তাদের অনাগত সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম।
**নাই কোনো ভয়, থ্যালাসেমিয়া আরোগ্য হয়।** লেখক ও প্রস্তুতকারক: ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা)। আইডিয়্যাল হোমিও হল, ১০/১, জামালখান, লিচু বাগান লেইন, চট্টগ্রাম। যোগাযোগ- ০১৮২৯-৪৯৫৫৫৩, ০১৯৮৯-৭৯৬৯৭৩

Leave a Reply