টাকার বিনিময়ে সরকারকে চাপে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত মাদকসম্রাটরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ জুন ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: দেশ থেকে মাদক নির্মূলে গত এক মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশব্যাপী চলা মাদকবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। মাদক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশেব্যাপী চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোর চিত্রও পাল্টে গেছে। বিভিন্ন স্পটে মাদক ব্যবসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। মাদক বিক্রেতাদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি মাদক ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দেশব্যাপী চলা মাদক বিরোধী অভিযানের সুফল যখন দেশবাসী পেতে শুরু করেছে তখন মাদক ব্যবাসার গড ফাদাররা তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা রকম অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা টাকার বিনিময়ে এই আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে সরকারকে চাপে ফেলে মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা এই মাদকবিরোধী অভিযানকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে সরকারকে চাপে ফেলার জন্য দেশের কয়েকটি পত্রিকার সাথে ১০ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করেছে মাদক সম্রাটরা।
চুক্তি অনুযায়ী প্রথম আলো এই মাদক বিরোধী অভিযানকে মানবাধিকার বিরোধী অভিযান হিসেবে আখ্যা দিয়ে খবর প্রচার করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি মানবাধিকার সংগঠন গুলো যাতে সরকারের এই মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের জন্য তৎপরতা চালায় সেজন্য প্রথম আলোর মাধ্যমে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাথে প্রচুর টাকার লেনদেনও হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে এই অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উপস্থাপনের জন্য লবিং করে যাচ্ছে প্রথম আলো। সরকারের এই মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সরকারকে চাপে ফেলার জন্য ডেইলি স্টার বিভিন্ন ধরণের ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করে যাচ্ছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের সাথেও প্রথম আলোর মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। চুক্তি অনুযায়ী ইমরানের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চের নাম ব্যবহার করে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে বিভিন্ন বানোয়াট কাহিনী নিয়ে বক্তৃতা কিংবা বিভিন্ন টকশো তে কথা বলে সাধারণ জনগণকে এই অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালে রাজাকারদের বিচারের দাবীতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন ইমরান। আন্দোলন শুরুর কিছুদিন পর থেকেই গণজাগরণ মঞ্চের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্টান থেকে চাঁদা আদায়ের খবর পাওয়া গিয়েছিল তার বিরুদ্ধে। আদায়কৃত সেই টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে মধুর ক্যন্টিনে গণজাগরণ মঞ্চের ইমরানের সাথে তার সহযোগীদের দ্বন্দ্বও হয়েছিল। পরের দিন সেই খবর দেশের সব গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে গণজাগরণ মঞ্চের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার বিরোধী আন্দোলন করে আসছিল ইমরান। সেই ধারাবাহিকতায় ইমরান বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মাদক বিরোধী অভিযান ইস্যু নিয়ে আন্দোলন শুরু করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

Leave a Reply