লাইটারেজ জাহাজের জেটি নির্মাণ চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বহির্বিশ্বে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে: এম. এ. লতিফ এমপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ মে ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: কন্টেইনার ক্লিনিং চার্জ ও লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস সময়সীমা নির্ধারণসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের লক্ষ্যে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম (পিইউএফ)-এর এক সভা ২৩ মে সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। পিইউএফ চেয়ারম্যান ও দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. এ. লতিফ এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন’র প্রেসিডেন্ট এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, চিটাগাং চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এম. এ. মোতালেব, অঞ্জন শেখর দাশ ও তরফদার মোঃ রুহুল আমিন, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন’র সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী, সিএন্ডএফ’র সহ-সভাপতি সৈয়দুল মোস্তাফা চৌধুরী রাজু ও বন্দর সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদার, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল এর বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল করিম, প্রাইম-মুভার ওনার্স এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক এবং আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কভার্ডভ্যান মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহমেদ বক্তব্য রাখেন। এ সময় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালকবৃন্দ কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, সরওয়ার হাসান জামিল ও মোঃ আবদুল মান্নান সোহেলসহ সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, বিএসএএ এর ওয়াহিদ আলম, এম. এ. জহির এবং প্রাইম মুভারস’র সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম উপস্থিত ছিলেন।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. এ. লতিফ এমপি বলেন-বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সদরঘাটে ৫টি ও পতেঙ্গা লালদিয়ার চরে ৪টি লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য জেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে বন্দরে জাহাজ জট হ্রাস পাবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তিনি আরো বলেন-২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এক ঘন্টার জন্যেও কোন বিঘœ সৃষ্টি হয়নি যা রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। যে কোন অবস্থাতেই এ ধারাকে অব্যাহত ও আরো গতিশীল রাখতে হবে।

পোর্ট ইউজার্স ফোরাম চেয়ারম্যান ও চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন- শিপিং এজেন্ট কর্তৃক চার্জ আদায়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে প্রায়শঃ স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। লাইটারেজ থেকে পণ্য খালাসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জেটি ও আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য খালাস বিলম্বিত হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান না করে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত সময়সীমা বাস্তবায়ন করা হলে কার্যক্রম বিঘিœত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে উল্লেখিত সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করা জরুরী। জেটি সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে জরুরী ভিত্তিতে পন্টুন দিয়ে লাইটারেজের জন্য জেটি নির্মাণ করার গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি এ জেটিসমূহ নির্মিত হলে ভবিষ্যতে মালামাল খালাসের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে জেটি সংশ্লিষ্ট ট্রাক টার্মিনাল ও বিকল্প সড়ক তৈরীসহ সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আগাম পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করার উপর জোর দেন। অন্যথায় পণ্যবাহী যানজটের কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টির শঙ্কা প্রকাশ করেন।

সভায় বক্তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন নিয়ন্ত্রণ, আইসিডি কর্তৃক প্রাইম-মুভার ও কাভার্ড ভ্যান থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ আলোচনার প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, নৌ-সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, পোর্ট চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে শীঘ্রই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Leave a Reply