শেষ বাজেটে ভোটারদের খুশির দিক বিবেচনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ মে ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেটে ভোটারদের খুশির দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। ‘সবার জন্য স্বস্তিদায়ক বাজেট ’ এই মূলমন্ত্র মাথায় নিয়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে সব শ্রেণি পেশার মানুষদের খুশি করার উপকরণ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত করা হচ্ছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করের চাপ কমানো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, গ্রামীন অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলে উন্নয়ন বরাদ্দ বেশি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপর করের চাপ কমানোর বিষয়টিও থাকছে আগামী বাজেটে। ব্যবসায়ীদের জন্যও সুবিধা থাকছে নির্বাচনী বাজেটে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি করপোরেট কর কমানো হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, সাধারণত নির্বাচনের বছর ভোটারদের তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে রাজনৈতিক সরকারগুলো। এটা অতীতেও হয়েছে। ফলে এসব বাজেটের আকার বড় হয় এবং কর ও রাজস্ব ঘাটতি থাকে অনেক বেশি। ক্ষমতাসীনরা জনগণকে পক্ষে টানতে উন্নয়নমূখী বাজেট দিয়ে থাকেন। তিনি বাস্তবসম্মত বাজেট প্রনয়ণের প্রতি অর্থমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
তবে বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী বাজেটকে নির্বাচনমুখী মনে করার কোনো কারণ নেই। আমাদের সরকার সব সময়ই বড় আকারের বাজেট করে থাকে। এটা অন্যান্য বাজেটের ধারাবাহিকতা। কর্পোরেট কর হার কমানো ও ব্যক্তি আয়ের করসীমা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিবহন , বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতে বরাবরের এবারো গুরুত্ব দেওয়া হবে বাজেটে।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাজেট নিয়ে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের শেষ মেয়াদের বাজেটটি যেনো দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বাজেট হবে অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট।
জানা গেছে, বাজেটে এমপিদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের বাইরেও অর্থ রাখা হয়েছে। প্রত্যেকে ইচ্ছা অনুযায়ী, তাদের নির্বাচনী এলাকায় ১০টি নতুন বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ভবন নির্মাণ, ১০টি পুরনো স্কুল ভবনগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং এক কোটি টাকার মসজিদ মন্দির নির্মাণ করে দেবে। মূলত নির্বাচনের বছরে ভোটারদের তুষ্ট করতে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পৃথক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ও মন্ত্রণালয় গঠনেরও প্রস্তাব থাকবে। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ায় উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় সরকার। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাম্পার অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে ব্যাহত না করলে ২০১৮-১৯ অর্থবছর ৮ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছেÑ যা হবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাড়ছে ব্যক্তি শ্রেণী আয়ের সীমাও। অগ্রাধিকার পাচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিশেষ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ও। চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে ভিত্তি ধরে বৃত্ত ভেঙে ৮ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যে যেতে নেয়া হচ্ছে সব ধরনের পদক্ষেপ।
কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং দুস্থ মানুষকে চাল দিতে বাড়ানো হচ্ছে খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ। পল্লী রেশনিং চালুর পরিকল্পনা আছে সরকারের শেষ বাজেটে। গ্রামের অতি দরিদ্র মানুষদের সহায়তার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বাড়ানো হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ বাজেটে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা মোট রাজস্বের মধ্যে এনবিআর করের লক্ষ্য হচ্ছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। নন-এনবিআর কর ১১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা এবং কর ছাড়া আয়ের খাত থেকে ৩৩ হাজার ১১২ কোটি টাকা আসবে।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর আইনের আওতায় চালু হচ্ছে অটোমেশন পদ্ধতি। ক্রমান্বয়ে কর অব্যাহতি ও কর অবকাশ প্রত্যাহারের ঘোষণাও থাকবে। সরকারের শেষ বাজেটে কয়েকটি বিষয়কে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বাজেটের ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে সরকার বেশি ঋণ নিয়েছে ব্যাংক, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে। এতে পুরো আর্থিক খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়েছে। তাই আগামীতে এ ধরনের চাপ কমাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বৈদেশিক সহায়তার ওপর। এছাড়া বাজেটে সরকারের ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) ঘোষণা দেয়ার সম্ভাবনা আছে।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার দৃশ্যমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ জন্য পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল লাইন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, রামপাল কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর এবং এলএনজি টার্মিনাল।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার উদ্যোগ থাকছে। এসব ভিশন সামনে রেখেই ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার ঘাটতি ধরে বাজেটের আকার ঠিক করা হয় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের ব্যয়ের জন্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।

Leave a Reply