নারীর মুখের অস্বাভাবিক লোমের হোমিওপ্রতিবিধান

ডাঃ মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, ২০ মে ২০১৮ ইংরেজী, রবিবার: নারী-পুরুষ সবার শরীরেই কম বেশী লোম থাকে। কিন্তু যখন মেয়েদের মুখে ছেলেদের মতো লোম গজাতে শুরু করে তখন তা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মেয়েদের মুখে এই অস্বাভাবিক লোম গজানো নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ভিত্তিহীন কারণকে দায়ী করেন। তবে মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই এর প্রধান কারণ। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের শরীরে টেসটোস্টেরণ নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে। এই হরমোনের পরিমাণ সাধারণত: পুরুষদের শরীরে বেশী থাকে। তাই একে পুরুষ হরমোন বলে। যখন মেয়েদের শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ কোন কারণে বেশী থাকে অথবা হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন মেয়েদের শরীরেও পুরুষের মত অধিক লোম গজাতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেয়েদের এই শরীরিক সমস্যাকে হিরসুটিজম বলা হয়। আরো কারণগুলোর মধ্যে হেয়ার ফলিকলের অন্ড্রোজেন-এর প্রতি সেনসিটিভিটি, ইনসুলিনে রেজিসন্টেস, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, জেনেটিক কারণ ইত্যাদি রয়েছে। অবাঞ্চিত লোমের পাশাপাশি শরীরে আরো কিছু পরিবর্তন দেখা যায় যেমন-অনিয়মিত মাসিক হওয়া, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, ব্রণ হওয়া, পেশি বেড়ে যাওয়া, লোম দ্রুত বাড়তে থাকা ইত্যাদি। উপরোক্ত এই সকল লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। মুখের অস্বাভাবিক লোম বা হারসুটিসম একটি দীর্ঘ দিনের রোগ। তাই চিকিৎসাও অনেক ধৈর্য নিয়ে এক জন অভিজ্ঞ হোমিওচিকিৎসকের মাধ্যমে নিতে হবে।
হোমিওপ্রতিবিধানঃরোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়,এই জন্য এক জন অভিজ্ঞ হোমিওচিকিৎসকে রোগীর ধাতু গত লক্ষণ নির্বাচন করতে পারলে তাহলে হোমিওতে মুখের অস্বাভাবিক লোমের চিকিৎসা দেওয়া আল্লাহর রহমতে সম্ভব। লেখক, ডাঃ মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, কো- চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ♣০১৮২২৮৬৯৩৮৯

Leave a Reply