সাতকানিয়ার ত্রাস বশিরের অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক অসহায় পরিবার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ মে ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: সাতকানিয়ার ত্রাস বশিরের অপকর্মের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক অসহায় পরিবার। আজ ১৬ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার কামাল জানান, দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় সাতকানিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন বশির আহমদ। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা, খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বালুর মহাল দখল করে বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করে চলেছেন তিনি। তার ভয়ে সপরিবারে এলাকা ছেড়ে শহরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি আমরা। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করছে প্রশাসন। বশির আহমদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর দক্ষিণ রূপকানিয়া ওয়ার্ডে। তার বাবা মৃত আহমদ হোসেন। ’৯০-এর দশকের শুরু থেকেই হত্যা, ডাকাতি অপহরণসহ বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করেন বশির, যা এখনও অব্যাহত।
লিখিত বক্তব্যে সরওয়ার কামাল জানায়, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বশির আহমদ। তার অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারণেই এই জনপ্রতিনিধির করুণ পরিণতি হয়। ২০১১ সালে উপজেলার হাতিয়ার মুখ এলাকায় গলা কেটে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন ও আবদুল হাকিমকে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৃষ্ট শত্রুতার জের ধরেই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। জোড়া খুনের মামলার প্রধান আসামিও বশির আহমদ।
সরওয়ার কামাল জানায়, বশিরের রয়েছে ২০-২৫ জনের একটি ক্যাডার বাহিনী। তাদের কাছে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। দক্ষিণ রুপকানিয়া গ্রামের সরোয়ার কামালকে ১১/১/২০১৮ইং তারিখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহোদয়ের তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য বাড়ী হইতে সাতকানিয়া যাওয়ার পথে সকাল ৯ ঘটিকার সময় নাছির সওদাগরের বাড়ীর সামনে বশির দোনলা বন্দুক দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। সরোয়ার কামাল জেলা প্রশাসকের বরাবরে উক্ত বন্দুক জব্দ করত লাইন্সে বাতিলের আবেদন করিলে আগ্নেয়াস্ত্র শাখা হইতে অস্ত্র জব্দ ও লাইন্সে বাতিলের প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য প্রেরণ করেন মাননীয় পুলিশ সুপার চট্টগ্রামকে গত ৮/৩/২০১৮ইং তারিখে মাননীয় পুলিশ সুপার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়াকে প্রতিবেদনের জন্য প্রেরণ করিলেও অদ্যবধি অস্ত্র জব্ধ ও লাইসেন্স বাতিলের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। সোনাকানিয়া ইউপির আছারতলী এলাকার প্রবাসী সৈয়দ নুরকে ২৫/১১/২০১৭ইং তারিখে অপরহণ পূর্বক রুপকানিয়া আশ্রয় প্রকল্পে ৩দিন আটকিয়ে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে আড়াই লক্ষ টাকা মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসী বশির। উক্ত ঘটনায় সাতকানিয়া পুলিশ লোক দেখানো উর্দ্ধার অভিযান পরিচালনা করিলেও সৈয়দ নুরের স্ত্রীর অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহণ করেনি ও বশিরও তার সহযোগিদের গ্রেফতার করেনি সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হোসেন। ক্ষেতের বেগুনপাতা খাওয়া নিয়ে দক্ষিণ রুপকানিয়া গ্রামের বাদশার স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে মারধর করত অমানুষিক নির্যাতন করে উক্ত সন্ত্রাসী বশির। সন্ত্রাসী বশিরের সহযোগি মানিকের কাছ থেকে বাকি টাকা চাইলে মানিক চা দোকানদার আব্দুল আলমকে মারধর করে একটি হাত ভেঙ্গে দেয়। ২৫/০৪/২০১৮ইং এই ঘটনায় থানায় আব্দুল আলম এজাহার দায়ের করিলে এখনো মামলা হিসাবে গ্রহণ করেনি সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হোসেন। সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্ত্রাসী বশিরের অবৈধ উপার্জিত অর্থ হইতে প্রতি মাসে একটি অংশ পায় তাহার কারণে এই ধরনের চাঞ্চলকর মার্ডার সহ নিরীহ লোকজনের উপর জোলম নির্যাতন কারী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ৭ বৎসর পূর্বের গ্রেফতারী পরোয়ানা বলবত থাকিলেও গ্রেফতার না করে লালন পালন করে আসছেন।উক্ত সন্ত্রাসী বশিরের কেডার বাহিনী সদস্য হিসাবে যারা অপকর্ম চালাচ্ছেন তারা হলেন সন্ত্রাসী মানিক, ফোরক, ইরফান, ঠোটকাটা মানিক, বোমা মাইনু, মজু, হেলাল উদ্দিন, মোজাফ্ফর, ফারুক, জাহাঙ্গীর সহ অজ্ঞাত আরো ২৫/৩০ জনের সন্ত্রাসী দল। উক্ত সন্ত্রাসীদের অত্যাচার নির্যাতন হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও আইজিপি ড. জাবেদ পাটুয়ারীর নিকট আবেদন করার পরও উক্ত সন্ত্রাসী বশিরকে গ্রেফতার ও তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উক্ত সন্ত্রাসী বশিরকে গ্রেফতার পূর্বক তার বাহিনীর সদস্যদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হইতে বিরত রাখতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক মির্জাখীল বাংলা বাজারের তাহের গনদের দোকান ঘর দক্ষিণ রুপকানিয়া গ্রামের নিরীহ জনগণের জমি জমা ও হাতিয়ার মুখ এলাকায় মাটি কাটা বন্ধ করত নদী তীরের বসত বাড়ী ও স্কুল, ব্রীজ রক্ষা করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার কারার জন্য মাননীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত আছেন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী আবু তাহের, আব্দুল আলম, অপহরণকৃত সৈয়দ নুরের বোন রোকসানা।

Leave a Reply