পিত্ত পাথরী চিকিৎসায় হোমিও প্রতিবিধান

ডাঃ মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, ১৫ মে ২০১৮ ইংরেজী, মঙ্গলবার: পিওথলীতে পাথর জমা হওয়াকে পিও পাথরী বলে। এতে নাভি প্রদেশে দারুন শূল বেদনা হয়।আর এটি অতি কষ্টদায়ক ব্যাধি এবং সোরাদোষ হতে উৎপন্ন।সোরা দোষ হতে আমাদের পিওকোষ বালুকোণা হতে আরম্ভ করে বড় প্রস্তরখণ্ড পর্যন্ত সঞ্চয় হয় ও সেই সময় মধ্যে মধ্যে, পেটে নাভিমণ্ডলের উপরে, দক্ষিণ দিকে অল্পাধিক বেদনা উপস্থিত হয়। কিন্তু যে সময় ঐ সঞ্চিত প্রন্তরখণ্ড পিওবহা নালী পথে বহির্গমনের জন্য আসতে থাকে, তখন অতি ভয়ানক বেদনা অনুভূত হয় এবং রোগী যন্তণায় অধীর হইয়া উঠে।বর্তমান যুগে পিও পাথরীর প্রকোপ প্রচণ্ড রূপে দেখা দিয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কিছু কিছু রোগী আরোগ্য লাভ করলেও এদের মধ্যে অনেক রোগী পরবর্তীতে ক্যান্সার, জন্ডিস, বি- ভাইরাস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারণঃ শারীররিক বিধিশুদ্ধ নিয়মানুসারে পিওকোষ হতে সঞ্চিত পিওরস পিওনালী দিয়ে ক্রমে ক্রমে ক্ষুদ্রান্তের প্রথমাংশ বা ডিউডেনামের মধ্যে প্রবাহিত হয়।আহারাদির দোষে অথবা পিওকোষের বা পিওনালীর প্রদাহজনিত কারণে এই পিওপ্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে,ইহার ফলে পিওরস জমাট বেঁধে যায় এবং ধীরে ধীরে পিওপাথরী দেখা দেয়।যদি পিওপাথরী খুব ছোট হয় বা বালু কণার মত থাকে তা অনেক সময় আপনা থেকেই বেরিয়ে যায় এবং কখন বেরিয়ে যায় তা ঠিক বুঝা যায় না।তবে পিওপাথরী আকারে বড় হলে বেরিয়ে যেতে পারে না তখন বেদনার সৃষ্টি হয় এবংরোগী কষ্ট পায়। পিওকোষ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ব্যথা এই লক্ষণটি দেখে অনেক সময় রোগটি ধরা যায়।
লক্ষণঃ ১) প্রচণ্ড বেদনা ডান কুক্ষিদেশে হতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিশেষ করে ডান ঙ্কন্ধ ও পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বেদনায় রোগী ছটফট করে এবং অস্থির হয়ে পড়ে। ২) অনেক সময় বেদনার সঙ্গে বমি,পিও বমি হয়ে থাকে। ৩) বেদনার সংগে ঠাণ্ডা ঘাম দেখা দেয়,নাড়ী দুর্বল হয়,ছটফট ভাব এবংহিমাঙ্গের ভাব দেখা দেয়,শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। ৪) অনেক ক্ষেএে রোগীর জণ্ডিস রোগ এবং দেহ হলুদ বর্ণ হয়ে যায় ৫) পিওকোষ হতে যদি পাথর না বের হয়ে যায় তবে শেষ পর্যন্ত হোমিওচিকিৎসা না নিয়ে অপারেশন করে বের করার ব্যবস্থ্য করতে হয় নতুবা রোগী ক্রমাগত কষ্ট ভোগ করতে থাকে।
হোমিওপ্রতিবিধান, রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়, এইজন্য একজন অভিজ্ঞ হোমিওচিকিৎসকে রোগীর ধাতুগত লক্ষণ মিলিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে তাহলে পিও- পাথরী ছোট হক আর বড় তাহলে আল্লাহর রহমতে হোমিওতে সম্ভব। হোমিওচিকিৎসা, প্রাথমিক ভাবে যেই সব ঔষধ লক্ষণের উপর আসতে পারে, কোলেষ্টেরিনাম, কার্ডুয়াস মেরিয়েনাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব, আর্ণিকা, চেলিডোনিয়ান, সিওন্তাস, চায়না, ডিজিটেলিস, হাইড্রাসটিস, ডায়োঙ্কোরিয়া সহ আরো অনেক মেডিসিন লক্ষণের উপর আসতে পারে, তাই ঔষধ চিকিৎস ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরো জটিল আকারে পৌঁছতে পারে। লেখক: কো-চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ওপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ০১৮২২৮৬৯৩৮৯

Leave a Reply