মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদানের দাবী জানিয়েছে সম্মলিত মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ মে ২০১৮ ইংরেজী, মঙ্গলবার: দেশপ্রেমিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদানের দাবী জানিয়েছে সম্মলিত মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ। আজ ৮ মে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকার বংশদরদের আস্ফালনের প্রতিবাদে সম্মলিত মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে।
লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন রাশেদ বলেন, চট্টগ্রামে পাকিস্তানীদের ফেলে দেয়া যে সকল পরিত্যাক্ত বাড়ী ঘর ১৯৭৫ সাল হতে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা বিরোধী স্বৈরাচার সরকার অন্যায়ভাবে অবমুক্ত, বরাদ্দ প্রদান ও বিক্রি করেছেন তার সবগুলো ফেরত নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বরাদ্দ প্রদান করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও বংশধরদের বিনা কোটাতেই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরী প্রদানের সাংবিধানিক অনুমোদন দিতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি তালিকা প্রণয়ন করে সকল মৌলিক অধিকার থেকে তাদের বংশধরদেরকে বাদ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি পুলিশের চাকরিতে ১০৫ জনের কোটা থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের চাকরি হয়েছে। বাকি ১০১ জনকে ক্রমানুসারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোটা সম্মানের বিষয় ছাড়া আর কিছু নয়। এ সম্মানটুকুর ওপর আঘাত করেছে তারা কারা? বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটা দূরে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয়ও দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, তথাকথিত আন্দোলনে আমরা দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনা সমৃদ্ধ স্লোগান তথা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ করা হয়েছে। এতে ওই স্লোগানের পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এরা আদৌ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লালিত সন্তান নয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, একাত্তরে এ বাংলার মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। আওয়ামী লীগের ভোটার বেশি থাকলেও স্বাধীনতা বিরোধীর সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি ছিল না। বাকি ৭ কোটি জনগণ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে এখন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আড়াই লাখ। এর মধ্যে ‘ভুয়া’ বা প্রমাণপত্র ছাড়া ৫০ হাজার বাদ দিলেও দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার সাহসিকতা ও মেধায় যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা যদি আনা যায় তাহলে এত মেধা সেদিন কোথায় ছিল। মনে রাখবেন, দেশপ্রেমিক ও দেশদ্রোহীর মেধা এক নয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া ও এরশাদ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধাদের ঢোকানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে তাদের বাদ দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থাকার পরও আলাদা ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিটগুলোতে এখন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই বিবেকের তাড়নায় আলাদা ব্যানারে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে ৪৭ বছর ধরে ঘাপটি মেরে থাকা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি চক্র মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের ওপর আঘাত করেছে। সম্প্রতি কোটাবিরোধী তথা কথিত আন্দোলনের নামে যা দেখা গেল তাতে বোঝা যায় যে তাদের প্রধান আক্রোশ মুক্তিযোদ্ধা। এতে আমাদের অনুধাবন করতে কষ্ট হয় না যে, আগামী দিনে তারা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আন্দোলন করবে, তখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন গ্র“প কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ ইদ্রিস, এম এন ইসলাম, রমিজ উদ্দিন আহমেদ, ফজল আহমদ, মো. ইউচুপ, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, এনায়েত আলী, মিজানুর রহমান, মো. হাশেম চৌধুরী, আহাম্মদ হোছেন, কবির আহম্মদ, সিরাজুল মাওলা বীরপ্রতীকের স্ত্রী নাজমা মাওলা, সিরাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ভেদু, রুনু ধর, যদু গোপাল বৈষ্ণব, আবদুল মালেক, আবুল কালাম, নুরুল ইসলাম, মো. ইসমাইল, ফয়েজ আহামদ, রশিদ আহামদ, তোফায়েল আহামদ, মোস্তাফিজুর রহমান, ছরওয়ার, আবদুল মান্নান, সামশুল হুদা, আজিজ উদ্দিন, বাহাদুর আলম, সুলতান আহমদ, বাবুল দত্ত প্রমুখ।

Leave a Reply