অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব ও গণমূখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ এপ্রিল ২০১৮, শনিবার: আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রাক্কালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি, দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সদস্য ও অত্র অঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে ২১ এপ্রিল সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চেম্বার পরিচালক ও বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, চেম্বার পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী (বাবর) ও অঞ্জন শেখর দাশ, প্রাক্তন চেম্বার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ ও আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, প্রাক্তন সহ-সভাপতি বেলাল আহমেদ, কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী, রাঙ্গামাটি চেম্বার সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, বিকেএমইএ’র সাবেক পরিচালক শওকত ওসমান, বাংলাদেশ আয়রণ এন্ড স্টীল মিল এসোসিয়েশন’র সভাপতি আনামুল হক ইকবাল, রিহ্যাব’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড্স এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’র পরিচালক দোদুল কুমার দত্ত, চট্টগ্রাম ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন’র সভাপতি মুস্তফা কামাল মনসুর, বারভিডা’র সদস্য মোঃ শাকিল মাহমুদ, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লি’র এডভাইজর কনসালটেন্ট ক্যাপ্টেন আমিরুল ইসলাম, বিজিএপিএমইএ’র পরিচালক কে.এইচ. লতিফুর রহমান (আজিম), ফার্নিচার এসোসিয়েশন’র সহ-সভাপতি মাকসুদুর রহমান, চট্টগ্রাম আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকী, বিএসআরএম’র প্রতিনিধি শেখর রঞ্জন কর ও জিপিএইচ ইস্পাত’র প্রতিনিধি ওসমান গণি চৌধুরী।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব ও গণমূখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে শিল্পায়ন ও সেবা খাতের প্রসার ঘটে যা অর্থনীতিতে বহুমূখী অবদান রাখে। তাই আগামী বাজেটের আকার ও এডিপি বৃদ্ধি পাবে যা পক্ষান্তরে বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে। ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হলে ব্যবসা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। সরকার কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর চিন্তা ভাবনা করছে। একই সাথে ব্যক্তি আয়ের ন্যূনতম কর হার ১০% এর চেয়ে কমানো হবে এবং প্রতিবন্ধী ও মহিলা উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানীকৃত পণ্য চিহ্নিত করে সাফটা’র অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি অগ্রিম আয়কর সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং ট্যাক্স রিফান্ডের ক্ষেত্রে এডজাস্টমেন্ট বা রিফান্ডের ব্যবস্থা করার কথা জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান আগামী বাজেটে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে স্কিল ডেভেলাপমেন্ট, শুল্ক বৈষম্য দূরীকরণ, ট্যাক্স রিফর্ম, ডাবল ট্যাক্স না হওয়া, মাল্টিলেয়ার ট্যাক্স ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
সভায় সূচনা বক্তব্যে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম রেফ্রিজারেটর ও এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদনে প্রদত্ত এসআরও এর সুবিধা ১০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা, ২০২৫ সাল পর্যন্ত পোলট্রি ফার্মকে কর অবকাশ সুবিধা প্রদান, লুব্রিকেটিং অয়েল রপ্তানির উপর শতকরা ২০% নগদ প্রণোদনা, ভারতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পুনঃটেস্ট করার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান, ঢাকা বিমানবন্দরে দ্রুত গতিতে নমুনা ছাড়করণ, ইনভয়েজ মূল্য অনুসারে এসেসমেন্ট করা, কাঁচামাল ও মেশিনারীজ পার্টস আমদানিতে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অগ্রিম পেমেন্টের অনুমোদন, কাঁচামাল আমদানির অগ্রিম আয়কর ৫% এর পরিবর্তে ২.৫% নির্ধারণ, প্লাস্টিক, লেদার ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক মওকূফ করা এবং বেসরকারী জেটি নির্মাণ অনুমোদন প্রদানের অনুরোধ জানান। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ১৩ টনের সীমা প্রত্যাহার করা অথবা সারা দেশে মেজারমেন্ট স্কেল বসানোর মাধ্যমে অসামঞ্জস্যতা দূর করার আহবান জানান মাহবুবুল আলম। তিনি কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস হ্রাস করা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, এসএমই খাতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, কারিগরি শিক্ষা বিস্তার, মাতারবাড়িতে ডীপ সী পোর্ট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও বে-টার্মিনাল দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীতকরণ ও রেলওয়ের ডাবল লাইনের কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্ন করার আহবান জানান।
অন্যান্য বক্তারা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার ক্ষেত্রে সূচকের উন্নয়ন, ট্যাক্স ট্রাইব্যুনালে জুডিশিয়ারী প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করা, হাইড্রোপনিক্স চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্বুদ্ধ করণে আলাদা এইচএস কোড সৃষ্টি, রাবারকে কৃষি পণ্য গণ্য করে ভ্যাট প্রত্যাহার করা, আরএমজিতে সোর্স ট্যাক্স বাতিল করা, রিয়েল এস্টেট খাতে ৫% সুদে বিশেষ ফান্ড প্রদান ও রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি ও যাকাত ট্যাক্স চালু করা, স্ক্র্যাপ আমদানি কন্টেইনার বাধ্যতামূলকভাবে আইসিডিতে নেয়ার বিধান বাতিল করা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ী ও মাছ চাষ উৎসাহিত করা, সাদা মাছ রপ্তানিতে সাবসিডি ৫% থেকে ১০% এ উন্নীত করা এবং এর উপর ৩% ট্যাক্স বাতিল করা, আমদানির ক্ষেত্রে এমআরএল নির্দিষ্ট করা, কাট আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা, ইলেক্ট্রিক মটর উৎপাদনের উপাদান আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা, বহুমূখী পর্যটনের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা, তাঁত শিল্পে সহায়তা প্রদান, মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের ৬০ কেজি করে চাল প্রদান, জেলাভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন ও রাঙ্গামাটির থেগামুখ বর্ডারে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে কেরানীতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, অনলাইন ট্যাক্স দাখিলের ক্ষেত্রে এন্ট্রি ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ রাখা, এক্সপোর্ট ও ডিম্ড্ এক্সপোর্টের সংজ্ঞা স্পষ্টিকরণ, আধা লিটার পর্যন্ত বেইজ অয়েলের নমুনা আমদানি শুল্ক মুক্ত রাখার আহবান জানান।
এ সময় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোঃ ফিরোজ শাহ আলম, কানন কুমার রায় ও মোঃ রেজাউল হাসান, রাজস্ব বোর্ডের ১ম সচিব মোঃ সাবিক্ষর আহমেদ, এবিএম শফিকুর রহমান, হাসান মোঃ তারেক রিকাবদার ও লুৎফুর রহমান, কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান, কমিশনার (ভ্যাট) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম, কমিশনার (ট্যাক্স) মাহবুব হোসেন, কমিশনার (কর অঞ্চল-৩) মোতাহের হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস’র এডিসি ড. নাহিদা ফরিদী, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), ছৈয়দ ছগীর আহমদ, মোঃ জাহেদুল হক, হাসনাত মোঃ আবু ওবাইদা, মোঃ আবদুল মান্নান সোহেলসহ প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ, ট্যাক্সেস আপীলাত’র সদস্য সৈয়দ মোঃ আবু দাউদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হুমায়ুন কবির ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply