হোমিও প্যাথিতে হাঁপানী রোগীর পথ্য ও চিকিৎসা

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ, ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার: ইহা সূক্ষ্ম শ্বাসনালীর আক্ষেপযুক্ত সংকোচনকে হাঁপানী বলে। অধিকাংশ সময় ইহা পুরাতন ব্রংকাইটিস হতে হয়ে থাকে। ঐ জাতীয় হাঁপানীকে ব্রঙ্কাইটিস জাতীয় হাঁপানী বলা হয়ে থাকে। অনেক সময় স্নায়বিক হাঁপানী হয়ে থাকে। তাকে স্নায়বিক এজমা বলা হয়। রোগটির কঠিন চিকিৎসা ও তেমিন শক্ত। রোগের উকেট অবস্থা থাকা পর্যন্ত কেবল লেবুর রসসহ পানি পান করে থাকা উচিত। প্রয়োজনে রোগের আক্রমন পড়ে গেলে তাকে ফলের রস দেওয়া উচিত। লেবু, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, টম্যাটো, সরবতি লেবু, কিসমিশের পানি, আনার, আপেল, পেঁপে ও জামে প্রভূতি পথ্য দেওয়া হয়। ফলের উপরেই রোগীকে সর্বদা জোর দওয়া উচিত। শাক সবজি কাঁচা রসও দেওয়া যায়। রোগীর খাদ্য যথেষ্টরুপ ই ভিটামিন থাকা আবশ্যক। এই রোগে ই ভিটামিন বিশেষ ভাবে সাহায্য করে পথ্যে যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকা উচিত। রোগীর দুধসহ্য হলে তা দেওয়া কর্তব্য। বিভিন্ন তরকারি, সিদ্ধ ও তরকারি সুপ ও তরকারি মন্ড দেওয়া আবশ্যক। রোগীর বিশেষ ভাবে পুষ্টিকর সহজ পার্চ্য অনুক্তেজক ও ক্ষারধর্মী হওয়া আবশ্যক।
এই রোগে পেট ভরে খেতে নাই। রোগ সম্পূর্ণ রুপে আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ছয়টার পর হাঁপানী রোগীর আর কোন খাদ্য, গ্রহন করা উচিত নয়। সন্ধ্যার আহার ও খুব হালকা হওয়া প্রয়োজন। সর্বদাই রোগীর আহারের নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। রোগীর চা, কফি, গরম মশলা, বেশি মশলা এবং সর্ব প্রকার উত্তেজক ও দুষ্পার্চ্য পদার্থ বর্জন করা আবশ্যক। দই, কলা, ডাবের পানি ও বরফ নির্দিষ্ট উপবাস প্রধান চিকিৎসা বিশোষত আমবসা, পূর্ণিমা ও একাদশী তিথিতে পানি পান সহ উপবাস। মাঝে মাঝে কিছু দিন কতরুটির পরিবর্তে যায় ফলের রস, শাক সবজি খেলে উৎকৃষ্ট ফল পাওয়া যায়। অথবা এক বেলা ভাত রুটি অন্যবেলা কেবল মাত্র ঐ সকল ফল, সবজি খেলে অধিক ফল পাওয়া যায় ।
এই রোগের প্রধান ঔষধ কোষ্ঠটি পরিষ্কার রাখা। শাক সবজির উপর নির্ভর করে থাকলে কোষ্ঠ পরিষ্কারের জন্য কখনও ভাবতে হবে না। এই শ্রেণীর রোগীর সব সময় মুক্ত স্থানে বাস করা উচিত। যাতে ধূলা, ধোয়া, অথবা উত্তেজক কোন গন্ধ নাকে না আসে। শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম এই রোগে অত্যন্ত হিতকর। প্রকৃত পক্ষে ইহা রক্তের রোগ, দেহের অন্যান্য অংশের ন্যায় স্নায়ুগুলিও রক্ত হতেই পুষ্ঠি গ্রহন করে থাকে। যখন কোন কারণ রক্ত স্রোত দূষিত হয়ে যায় এবং রক্তের ঐ বিষ স্নায়ুকেন্দ্র ও সূক্ষ শ্বাসনালি আক্রমন করে তখনই এই রোগ হয়। প্রতিদিন লেবুর রস যথেষ্ঠ পানি পান করা আবশ্যক। এতে মূত্রের সহিত দেহ হতে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। লোম কূপের পথে দেহের যথেষ্ঠ বিষ দেহ হতে প্রতিদিন বের হয়ে যায়। এই জন্য প্রতিদিন গোছলের পূর্বে রৌদ্র গোছল এই রোগে উপবাস প্রধান চিকিৎসা রোগীর দেহ যাতে যথেষ্ঠরুপ ক্যালসিয়াম গৃহিত হয়। তার ব্যবস্থা করা উচিত। ভিটামিন ই হাঁপানীর আধুনিকতম ঔষধ ও পথ্য অনেক সময় অর্জীন ও কোষ্ঠবদ্ধতা হতে রোগের পূণরাক্রমন হয়। এই জন্য যে সকল খাদ্য পেট খারাপ করতে পারে তা সর্বদা বর্জন করা কর্তব্য। চর্বি জাতীয় খাদ্য খুব কম খাওয়া উচিত। এই রোগে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম অত্যন্ত প্রয়োজন। ইহা দেখা যায় ভয়, উচ্ছাস, উদ্যোগ ও উত্তোজনা প্রভূতি হাঁপানির আক্রমন হয়ে ফিরে আসে। এই রোগে মুক্ত ও ঠান্ডা অথচ সাধ্যমত নয় এমন স্থানে সর্বশ্রেষ্ঠ এই রোগের প্রকৃতপক্ষে কোন চিকিৎসা নেই। ইহা আরোগ্য জন্য আল্লাহকে শ্বরণ করা প্রাকৃতিক চিকিৎসা সঠিক পথ্য গ্রহণ ও যোগ ব্যায়াম, সাঁতার নিয়মিত অভ্যাস করলে সুফল পাবেন। বাচ্চাদের হাঁপানীতে সাঁতার খুব দ্রুত সুফল দেয়।
হোমিও প্রতিবিধান: বিধানের হোমিও ঔষধ রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। এইজন্য এজমা রোগী লক্ষণ দিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলে প্রকৃত পক্ষে হোমিও ঔষধ দ্বারা সম্ভব আবার অনেকে ধারণা করে অ্যালোপ্যাথি ঔষুধ খেলে নাকি হোমিও চিকিৎসা করা যায় না। এটা একেবারে ভূল ধারণা। হোমিও এবং অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা একসঙ্গে চালানো যায়। কেউ যদি হোমিওপ্যাথিতে হাঁপানি চিকিৎসা করাবেন মনে করে। তবে যেসব অ্যালোপ্যাথিক ঔষধি ব্যবহার করেছেন তা বন্ধ করার দরকার নেই। যখন বন্ধ করার দরকার তখন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসা ঠিক করে দিবেন। অব্যশই যারা প্রথম থেকে হোমিও চিকিৎসা আরম্ভ করবেন তাদের অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের দরকার পড়বে না। অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হলে হোমিও চিকিৎসকই বলবেন। তবে মনে রাখবেন হাঁপানির ম্যাজিক কিউর সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপনে হাঁপানি থেকে নিশ্চিত মুক্তি এসব কথা লেখা থাকলেও আদতে তা সম্ভব নয়। হাঁপানির মুক্তির জন্য প্রয়োজন র্দীঘ দিনের ধারবাহিক চিকিৎসা শুরু করুন হোমিওপ্যাথিক লক্ষানিক অর্গানন অনুসরণকারীর চিকিৎসা। তা হলেই আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো থাকবেন।
হোমিও চিকিৎসা ঃ সালফার, ইপিকাক, ক্যাকটাস, নেট্রাম সালফ স্যাম্বুকাস, ব্যারাইটা মিউর, হিপার সালফ, অ্যারেলিয়া, আর্সেনিক এল্ব, নাক্স ভূম, কিউ প্রাম মেট, কল্চিকাম্, লিডাম পাল, একোনাইট, স্পজিয়া, ব্লাটা ওরি, লোবেলিয়া, অ্যাসপিডস সহ আরো অনেক ঔষুধ রোগীর লক্ষণের উপর আসতে পারে তাই বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক ছাড়া এই সব ঔষুধ ব্যবহার করলে রোগ আরও জটিল পর্যায় পৌছতে পারে। লেখক: সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম হোমিও প্যাথিক
চিকিৎসক কল্যাণ সোসাইটি (সীতাকুন্ড থানা শাখা) চেম্বার, ইসলামী হোমিও রিসার্চ সেন্টার, লালপুল জামেয়া সোলতানিয়া মাদ্রাসা, ফেনী। ০১৮২০-২১৫৮২৩।

Leave a Reply