বিষাক্ত দুধ এখন ভোক্তাদের কাছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ এপ্রিল ২০১৮, শুক্রবার: ডিটারজেন্ট পাউডারসহ ক্ষতিকারক কেমিক্যালের মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে দুধ। তবে এটি দেখতে খাঁটি দুধের মতো হলেও পুষ্টিগুণ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। আর এই নকল দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় পাবনা-সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রীক একটি চক্র। মিল্ক ভিটা, প্রাণ ডেইরি, আড়ং ডেইরি এবং বিভিন্ন ঘোষ বাড়ির হাত ঘুরে বিষাক্ত এই দুধ চলে যাচ্ছে ভোক্তাদের কাছে। এই নকল দুধ তৈরিরও রয়েছে আলাদা রেসিপি। দেখে মনে হয় খাবার স্যালাাইন তৈরির রেসিপি। এক চিমটি লবণ, পরিমাণ মতো তেল আর ক্ষতিকারক রাসায়নিকের মিশ্রণে তৈরি এই নকল দুধের রেসিপি।
উৎপাদনকারী একজন বলেন, হাফ কেজি দুধ আর হাফ কেজি তেল সব মিশিয়ে এক লিটার দুধ তৈরি করা হয়। ৪০ কেজি পানি দিলে ২ কেজি ৭’শ গ্রাম তেলে দিতে হয়। যেটার দাম ২’শ থেকে সোয়া ২’শ টাকা। আর এ থেকে আমাদের আয় হয় ১৬’শ টাকা। মিল্ক ভিটা, প্রাণ এবং ব্রাকে আমরা এই দুধ দেই। ওখানে যারা চাকরি করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে আমরা এইগুলা দেই। তাদেরও একটা লাভ হয়। এইজন্য তারা কিছু বলে না।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, সাহজাদপুর এবং পাবনার ফরিদপুর, ডেমরাসহ আরও অনেক এলাকায় চলছে নকল দুধের এই ব্যবসা। আর এই ভেজাল দুধ প্রক্রিয়াকেজাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা। আর ডিলারের হাত ঘুরে নামি দামি প্রকিষ্ঠানের মোড়কে এই বিষ চলে যাচ্ছে ভোক্তাদের হাতে। পাশাপাশি নকল দুধের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃত খামারি এবং দুধ উৎপাদনকারীরা। নকল দুধ উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সাহজাদপুর এবং উল্লাপাড়া উপজেলায়।
সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ উপজেলার নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ডিলারদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন এবং মজুদ করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের সাজা এবং ৬ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান আছে নিরাপদ খাদ্য আইনে। সূত্র: যমুনা টিভি

Leave a Reply